১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

নারীর টোপে ফাঁদে পড়লেন কর্মকর্তা

নারীর টোপে ফাঁদে পড়লেন কর্মকর্তা - ছবি : সংগৃহীত

অস্ত্রের মুখে ব্যবসায়ীদের অপহরণ করার মতো ঘটনা প্রায়ই শোনা যায়। কিন্তু চার দিন আগে পুরান ঢাকার বাসিন্দা একটি সিমেন্ট কোম্পানীর কর্মকর্তাকে নারীর টোপ দিয়ে অভিনব কায়দায় অপহরণ করে একটি চক্র। টানা দুই দিনের চেষ্টার পর অপহরণকারী ওই চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো সবুজ, বশির, ফারুক, লাভলু ও জালাল মিয়া। এ সময় অপহৃত ওই ব্যক্তিকেও সুস্থভাবেই উদ্ধার করা হয়। ভুক্তভোগী ওই ব্যক্তির নাম আব্দুল হক রাজ (৬১)। তিনি শাহ্ সিমেন্ট কোম্পানীতে এস.আর পদে চাকরি করেন।
পুলিশের দাবি, এ চক্রটি বেশ কয়েক বছর ধরে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল।

জানা গেছে, সিমেন্ট কোম্পানির বিপনন বিভাগে কাজ করা আব্দুল হক রাজকে গত ১২ জুলাই আশা নামের এক নারী তাকে ফোন দিয়ে কনষ্ট্রাকশন কাজের জন্য সিমেন্ট কেনার কথা জানান। এজন্য রাজকে গেন্ডারিয়া দেখা করতে বলেন। সেখান থেকে কনষ্ট্রাকশনের জায়গা দেখাতে নিয়ে যাবার কথা বলে টঙ্গীতে একটি বাসায় নিয়ে আটকে রাখা হয় রাজকে। পরে পরিবার এবং প্রতিষ্ঠানের কাছে চাওয়া হয় মুক্তিপণ। পুলিশকে জানানোর পর অভিযানে নামে তারা। রোববার রাতে উদ্ধার করা হয় রাজকে এবং আটক করা হয় ৫ অপহরণকারীকে। এ চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেতারে অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানায় পুলিশ।

গতকাল সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির ওয়ারী জোনের ডিসি ফরিদ উদ্দিন জানান, ১২ জুলাই কনস্ট্রাকশন সাইটের কাজ দেয়ার কথা বলে আশা নামের এক মেয়ে ফোন দিয়ে আব্দুল হককে গেন্ডারিয়ার সোনালী নুপুর কমিউনিটি সেন্টারের সামনে নিয়ে যায় এবং কনস্ট্রাকশনের সাইটের লোকজনের সঙ্গে কথা বলার জন্য টঙ্গীর দত্ত পাড়ার একটি বাড়ির তিনতলায় নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকে অবস্থানরত অপহরণকারীরা আব্দুল হককে জোর করে আটকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারধর করে। অপহরণকারীরা মুক্তিপণ বাবদ আব্দুল হককে বিকাশের মাধ্যমে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে বলে ও এর জন্য অনবরত চাপ প্রয়োগ করতে থাকে।

ডিসি ফরিদ জানান, অভিযোগ পেয়ে পুলিশ অভিযান চালালে তা টের পেয়ে অপহরণকারীরা স্থান পরিবর্তন করতে থাকে। একপর্যায়ে ১৫ জুলাই আব্দুল হককে দত্তপাড়া থেকে কামাড়পাড়ার জালাল মিয়ার বাড়িতে নিয়ে যায় এবং মুক্তিপণের জন্য চাপ দিতে থাকে। কিন্তু পুলিশ উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণকারীদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে ওই দিন রাত ৯টার দিকে অভিযান চালিয়ে আব্দুল হককে উদ্ধার করে এবং সেখান থেকে বশির, ফারুক ও জালালকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের দেয়া তথ্যে মোতাবেক টঙ্গী থেকে বাকি দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়।

ওয়ারীর ডিসি বলেন, চক্রটির নারী সদস্য আশা এখনো পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। ওই ঘটনায় গেন্ডারিয়া থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।

আরো পড়ুন :
স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে হোটেলে দুলাভাইয়ের সাথে তরুণী, অতঃপর
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর মগবাজারে একটি আবাসিক হোটেল থেকে বৃষ্টি আক্তার (১৬) নামের এক গার্মেন্ট কর্মীর লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
হাসপাতাল সুত্র জানায়, সোমবার বেলা ১২টার দিকে মগবাজার আবাসিক হোটেল বৈকালীর চার তলার ৪০৭ নম্বর কক্ষ থেকে গলায় লাশটি উদ্ধার হরে। পরে ময়না তদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে পাঠায়।

রমনা থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) দীপংকর চন্দ্র দাস জানান, সকালে বৈকালী হোটেল ম্যানেজার নোমান সিদ্দিকের মাধ্যমে খবর পেয়ে চার তলার ৪০৭ নম্বর কক্ষ থেকে বিছানার উপর থেকে বৃষ্টির লাশটি উদ্ধার করা হয়।

হোটেলে কর্তৃপক্ষ থেকে জানা যায়, রিয়াজ ও প্রিয়া সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্বামী স্ত্রীর মিথ্যা পরিচয় দিয়ে হোটেলে উঠেন। এক ঘন্টা পর স্বামী ফিরে এসে দেখেন, বৃষ্টি সিলিং ফ্যানের সাথে উড়না দিয়ে ঝুলে আছেন। তিনি নিজেই উড়না কেটে নামিয়ে মাথায় পানি ঢালেন। পরে মৃত অবস্থায় রেখে পালিয়ে যান।

এসআই আরো জানায়, মৃত বৃষ্টি গোপালগঞ্জ জেলার মোকসেদপুর উপজেলার আনোয়ার হোসেনের মেয়ে। বর্তমানে মহাখালী সাততলা বস্তিতে পরিবারের সাথে ভাড়া থাকতেন। এবং স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। সকালে গার্মেন্টে যাওয়ার উদ্দেশে বাসা থেকে বের হন। রিয়াজ নামে যাকে স্বামী পরিচয় দিয়েছেন তিনি রিয়াজ নন, তার আপন দুলাভাই সুমন (২৮)। তিনি এখনো পলাতক আছেন।

এসআই দীপংকর জানান, মৃত বৃষ্টির গলায় অর্ধ চন্দ্রকৃতির দাগ আছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।


আরো সংবাদ




Hacklink

ofis taşıma