২২ জুলাই ২০১৮

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের মধ্যেও মাদক কারবার থেমে নেই

মাদক কারবার - ছবি : সংগৃহীত

গত শনিবার রাত ১১টায় রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংকির পাশে কালভার্ট রোডে ১০-১২ জন লোকের জটলা। পাশে পুলিশের গাড়ি। জটলার মধ্যে পুলিশও রয়েছে। কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর কাছ থেকে জানা গেল দুই মাদক কারবারির বিবাদের কথা। এরা গলির ছিঁচকে গাঁজা বিক্রেতা। দুইজন একই স্পটে মুখোমুখি হওয়ায় তাদের মধ্যে বিবাদ। কেন একজন আরেকজনের স্পটে এলো! স্থানীয় বাসিন্দারা জানালেন, মাদক কারবার এখনো চলছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়াকড়ির কারণে কোনো কোনো এলাকায় মাদকদ্রব্যের মূল্য আগের তুলনায় বেড়ে গেছে বলে জানা যায়।

রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকায় ঘুরে জানা গেল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এতটা কড়াকড়ি, গ্রেফতার এবং ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনাও মাদক কারবারিদের নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। খুচরা কারবারিদের হাতে মাদক পৌঁছছে, এত কড়াকড়ির মধ্যেও বড় বড় মাদক কারবারি কোটি কোটি টাকার মাদক সংগ্রহ করছে। নানা উপায়ে কারবারিদের হাতে ঠিকই মাদক পৌঁছে যাচ্ছে। কোনো কোনো স্পটে এখনো প্রকাশ্যেই মাদকসেবন ও মাদকের কেনাবেচা চলছে বলেও অনেকে অভিযোগ করেছে।

রাজধানীর কমলাপুর স্টেশন এলাকায় এখনো প্রকাশ্যে মাদকসেবন ও বিক্রির দৃশ্য দেখা যায়। স্টেশন থেকে বের হয়ে হাতের বাঁ দিকে কাস্টমস হাউজের দিকে যে ফুটপাথটি চলে গেছে সেখানে কয়েক মিনিট দাঁড়ালেই মাদক বিক্রির দৃশ্য চোখে পড়বে। শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনি, এজিবি কলোনি, টিএন্ডটি কলোনির ভেতরে এখনো প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানায়। প্রভাবশালী অনেকেই রয়েছেন এই মাদক কারবারে জড়িত।

রাজধানীর দোলাইপাড় এলাকার এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তার গলিতে প্রকাশ্যে মাদকের কেনাবেচা চলে। গলি দিয়ে হাঁটতে কষ্ট হয়। এর আগে একবার মাদক কারবারি কয়েকজনকে পুলিশ আটক করলে কারবারিরা তার ওপর ক্ষেপে যায়। তার বাড়ির ছাদের ওপর কারবারিরা মাদক কেনাবেচা শুরু করে। ভয়ে তিনি এখন আর প্রতিবাদ করেন না। তিনি বলেন, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এই মাদক কারবারের খবর জানেন। কিন্তু কোনো প্রতিকার হচ্ছে না।
দোলাইরপাড় ডিপটি গলিতে জুম্মন, ওয়াসিম, ফারুক, দিলা ও চায়না বাবুল, শাহআলম, সোর্স দুলাল ও রহিম, দনিয়া বাজারে বান্দু, মুরাদপুরে রাজন, দেলু ও শিপন, সায়েদাবাদ ওয়াসা বস্তি মুক্তার, সুফিয়া খাতুন মাদক কারবার করছে। সায়েদাবাদ রেললাইন, শেখপাড়া, যাত্রাবাড়ী ইলিশ কাউন্টারের পেছনে, ছোবা পট্টিতে, মিরহাজীরবাগ, জেলেপাড়া মন্দিরের সামনে, কাজলা মসজিদ গলি, মাতুয়াইল, মধ্য কাজলা, উত্তর কাজলা, দণি যাত্রাবাড়ী, পানির পাম্প, চন্দনকোঠা, যাত্রাবাড়ী মাছের আড়তের পাশে প্রকাশ্যে এখনো মাদক কারবার চলছে। ঢাকা-ডেমরা রাস্তার ময়লার ডিপোর পাশে সন্ধ্যার পর মাদক কারবারি ও সেবীদের লাইন পড়ে যায়। সন্ধ্যা হওয়ার পর এই এলাকা আস্তে আস্তে নীরব হয়ে আসে। মাদক কারবারিরা এই সুযোগে ময়লার ডিপোর আশপাশে আসর জমায়। স্থানীয় সূত্র জানায়, এই এলাকার দীর্ঘ রাস্তার পাশে কোনো বসতি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নেই। এই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরও কোনো টহল নেই। সেই সুযোগটি কাজে লাগাচ্ছে মাদক কারবারিরা। যাত্রাবাড়ীর সিটি পল্লীতে সব ধরনের মাদক কেনাবেচা চলে। 

কদমতলীর বিড়ি ফ্যাক্টরি, খালপাড়, নোয়াখালীপাড়া, রায়েরবাগ, মেরাজনগর, খানকা শরিফ রোড, মোহাম্মদবাগ, মেডিক্যাল রোড ও রুটি ফ্যাক্টরি এলাকায় সব ধরনের মাদক বিক্রি হচ্ছে। রায়েরবাগের শাহীন ও তার স্ত্রী ইয়াবা কারবার করছে। ৮৮ নং ওয়ার্ডে চেয়ারম্যান গলিতে চলছে ইয়াবা ও ফেনসিডিল কারবার। মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প এলাকা থেকে বেশ কিছু মাদক কারবারি চলতি অভিযানে গ্রেফতার হয়েছে। ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে কুখ্যাত মাদক কারবারি নাদিম ওরফে পঁচিশ। কিন্তু মাদক কারবার নির্মূল হয়নি। মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পের তালিকাভুক্ত মাদক সম্রাট আরশাদ, শাকিল, ছটু, মোক্তার ওরফে কেকড়া, মান্নান, মনসুর, মোটা কলিম, মিঠু ও পাঁচু, শওকত, টিপু, কানা স্বপন, বিহারী জাভেদ, লিপি, পান দোকানদার মুন্না, রমেশ ও গেদাদের মধ্যে এখনো অনেকে অধরা। তারা মাদক কারবার চালিয়েই যাচ্ছে। রাজধানীতে এখনো কয়েক শ’ স্পটে প্রকাশ্যেই মাদক কেনাবেচা চলছে।

এ দিকে রাজধানীর মাদক কারবার নিয়ে মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেলের ডিসি মাসুদুর রহমান বলেছেন, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযানে প্রতিদিনই অনেক কারবারি ও মাদকসেবী গ্রেফতার হচ্ছে। যারাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসছে তারাই গ্রেফতার হচ্ছে।


আরো সংবাদ