২৩ মার্চ ২০১৯

দেহ ব্যবসায়ের জের ধরে ঠাণ্ডা মাথায় খুন

দেহ ব্যবসায়ের জের ধরে ঠাণ্ডা মাথায় খুন - ছবি : সংগৃহীত

ঝর্ণা ও জুলেখা দুই বান্ধবী। দুই বান্ধবীই দেহ ব্যবসা করত। এক সময় ফিরে আসে ওরা। বিয়ে করে ঘর সংসার শুরু করে। সম্প্রতি ঝর্ণার তৃতীয় স্বামীর সাথে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। কিন্তু ভালোই চলছিল জুলেখার সংসার। জুলেখার সাথে দৈহিক সম্পর্ক করতে গিয়েই পরিচয় হয়েছিল ফুটপাথ ব্যবসায়ী সেলিমের। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরেই জুলেখাকে বিয়ে করে সেলিম। এরপর ওই পথ থেকে ফিরিয়ে নিয়ে আসে জুলেখাকে। 

এ দিকে সম্পর্ক নষ্ট হয়নি দুই বান্ধবীর। তাদের মধ্যে বোঝাপড়াও ছিল ভালো। থাকতও পাশাপাশি এলাকায়। একে অপরের বাসায় আসা-যাওয়াও ছিল। কিন্তু বাদসাধে ঝর্ণার একটা কথা। বেশ কিছু দিন ধরে ঝর্ণা জুলেখাকে দেহ ব্যবসায় জড়াতে উদ্বুদ্ধ করে। বিষয়টি কানে যায় সেলিমের। ক্ষিপ্ত হয়ে পরিকল্পনা আঁটে ঝর্ণাকে চিরতরে সরিয়ে দেয়ার। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ঈদের তৃতীয় দিন অর্থাৎ ১৯ জুন ফুটবল বিশ^কাপের খেলা দেখতে হোসনে আরা বেগম ঝর্ণাকে (৩০) ডেকে আনা হয় জুলেখার বাসায়। রাতে খাবারও খায় সবাই একসাথে। তখনো ঝর্ণা বুঝতে পারেনি ওই রাতটাই ঝর্ণার জীবনে শেষ রাত। ঘুমাতে যাওয়ার আগে ঝর্ণাকে এক গ্লাস দুধ দেয় জুলেখা। দুধ খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে ঝর্ণা। এরপর জুলেখা (২৯) ও তার স্বামী মজিবুল হক সেলিম (৪৪) মিলে বালিশচাপায় শ^াসরোধে হত্যা করে ঝর্ণাকে। ওই রাতেই লাশ ঘরে রেখে বাইর থেকে তালা মেরে পালিয়ে যায় স্বামী-স্ত্রী। ঘটনাটি ঘটে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার চৌরাস্তার তাজ সুপার মার্কেটের পাশের একটি বাসায়। ঘটনার পাঁচ দিন পর গত ২৩ জুন অজ্ঞাত পরিচয়ে ঝর্ণার লাশ উদ্ধার করে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ। 

আরো পড়ুন :

৬ মাস পর স্কুলশিক্ষিকা হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা গ্রেফতার
রংপুর অফিস
রংপুরের পীরগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিলকিছ হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা সিদ্দিকুর রহমান ওরফে সিদ্দিকুলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হত্যাকাণ্ডের ছয় মাস পর গ্রেফতারকৃত সিদ্দিকুল শুক্রবার রাতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়। 
পিবিআই রংপুর অফিসের পরিদর্শক আবু হাসান কবীর জানান, পীরগঞ্জ উপজেলার চতরা ইউনিয়নের আদর্শপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে সিদ্দিকুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। শুক্রবার রাতে তিনি রংপুরের বিচারিক হাকিম আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। 

পিবিআই সূত্র জানায়, গত বছরের ২০ ডিসেম্বর পীরগঞ্জ উপজেলার বিরামপুর আদিবাসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিলকিছ আরা বেগমের বাড়িতে সন্ধ্যায় সিদ্দিকুরসহ চারজন প্রবেশ করে ওয়ার ড্রোবের ড্রয়ার ভেঙে তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও দুই লাখ টাকা লুট করে। এ সময় পাশের ঘরে থাকা বিলকিছ আরা সিদ্দিকুরকে চিনতে পেরে চিৎকার করার চেষ্টা করলে সিদ্দিকুর বিলকিছ আরার গলা চেপে ধরে এবং ঘাড় মটকে হত্যা করে। এ ঘটনায় প্রথমে পীরগঞ্জ থানায় ইউডি মামলা করা হয় পরে চলতি বছর ৯ জানুয়ারি নিহতের স্বামী আদালতে অজ্ঞাত পরিচয় আসামির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। আদালত মামলাটি পীরগঞ্জ থানার ওসিকে নথিভুক্ত করার আদেশ দিয়ে তদন্তের দায়িত্ব দেন রংপুর পিবিআইকে। 

পুলিশ পরিদর্শক আবু হাসান কবীর জানান, বিলকিছ আরার বাড়িতে এ ঘটনার আগেও সিদ্দিকুর দুইবার চুরি করেছিল। একবার হাতেনাতে ধরা পড়ার পর চার মাস জেলহাজতে ছিল। সেই ক্ষোভ থেকে বিলকিছ আরাকে হত্যা করে বলে সিদ্দিকুর তার জবানবন্দীতে জানিয়েছে। 

পিবিআইয়ের রংপুর অফিসের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহীদুল্লাহ কাওছার বলেন, তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর সিদ্দিকুরকে গ্রেফতারের পর জড়িত অন্যদের নামও পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। সিদ্দিকুর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

যাত্রাবাড়ী থানার এসআই রেদওয়ান খান জানান, প্রথমে অজ্ঞাত পরিচয়ে লাশটি উদ্ধার করা হয়। পরে নিহতের পরিচয় মিলে। ঝর্ণা চাঁদপুর জেলার হানিফ মিয়ার মেয়ে। খোঁজ পেয়ে তার স্বজনেরা থানায় ছুটে আসেন। ঘটনার ১৪ দিন পর গত ২ জুলাই সোমবার নিহতের ভাই বাদি হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এরপর তদন্ত শুরু করে পুলিশ। গতকাল রোববার ভোরে জুলেখাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এর আগে গত ৬ জুলাই শুক্রবার জুলেখার স্বামী সেলিমকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন শনিবার তাকে আদালতে তোলা হলে অকপটে স্বাকীর করেছে কেন সেলিম ও তার স্ত্রী মিলে ঝর্ণাকে হত্যা করেছে আর কিভাবে তারা সেই হত্যার মিশন বাস্তবায়ন করেছে। 

যাত্রাবাড়ী এলাকার ফুটপাথের ব্যবসায়ী ঝর্ণার হত্যায় সরাসরি অংশ নেয়া সেলিম পুলিশের কাছে দেয়া স্বীকারোক্তিতে জানিয়েছে, ঝর্ণা ছিল তার স্ত্রীর একজন ভালো বান্ধবী। সেই সূত্রে ঝর্ণা বেগম তাদের বাসায় যাতায়াত করত। ঝর্ণা আগে একজন দেহ ব্যবসায়ী ছিল এবং তার সর্বশেষ তৃতীয় স্বামীর সাথে সম্প্রতি ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। ঝর্ণার আগের দুই স্বামীর সাথে কিভাবে বিয়ে হয়েছিল এবং কিভাবে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়েছিল সেই গল্প না জানাতে পারলেও সেলিম নিহত ঝর্ণার তৃতীয় স্বামীর সাথে কিভাবে বিয়ে ও ছাড়াছাড়ি হলো সে কথা ঠিকই জানিয়েছে।
সেলিম জানায়, নিহত ঝর্ণা ও তার স্ত্রী কোনো এক সময় এক সাথেই দেহ ব্যবসা করত। সেই সময় ঝর্ণার বান্ধবীর সাথে দৈহিক সম্পর্ক করতে গিয়ে পরিচয় হয়েছিল সেলিমের। সেই সূত্রে পরে ঝর্ণার বান্ধবীকে সেলিম বিয়ে করেন এবং তাকে খারাপ পথ থেকে ফিরিয়ে আনেন।

সেলিম আরো জানায়, সম্প্রতি ঝর্ণা তার স্ত্রীকে নানাভাবে সেই আগের দেহ ব্যবসায় নামার জন্য ফুসলানো শুরু করেছিল। বিষয়টি সেলিমের স্ত্রী যখন সেলিমকে জানায় তখন বেশ ক্ষেপে যায় এবং ঝর্ণাকে চিরতরে খতম করার পরিকল্পনা করতে শুরু করে। এরপর তার স্ত্রীকে বুঝিয়ে ঝর্ণাকে বিশ্বকাপের খেলা দেখার জন্য বাসায় আসতে বলে। ঝর্ণা বাসায় এলে তাকে রাতে দুধের সাথে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে খোশ গল্পে মাতে তারা। একপর্যায়ে ঝর্ণা ঘুমিয়ে পড়লে স্বামী-স্ত্রী মিলে ঝর্ণাকে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। শেষে তারা ঝর্ণার লাশ তাদের ঘরে রেখে তালা দিয়ে পালিয়ে যায়। আর সে সময় বাসাটিতে কেউ ছিল না বলেও জানায় সেলিম।


আরো সংবাদ




iptv al Epoksi boya epoksi zemin kaplama Daftar Situs Agen Judi Bola Net Online Terpercaya Resmi

Hacklink

instagram takipçi satın al ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme

instagram takipçi satın al