২১ জুন ২০১৮
ভেজাল কসমেটিক ব্যবহার

পারসোনা ও ফারজানা শাকিলকে ৮ লাখ টাকা জরিমানা

পারসোনা ও ফারজানা শাকিলকে ৮ লাখ টাকা জরিমানা - সংগৃহীত

ধানমন্ডির দু’টি নামকরা বিউটি পার্লারকে ৮ লাখ টাকা জরিমানা করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের মোবাইল কোর্ট। মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডির পারসোনা ও ফারজানা শাকিল নামের দু’টি বিউটি পার্লারে অভিযান চালায় এপিবিএন ১১ এর মোবাইল কোর্ট। সেখানে তারা ভেজাল কসমেটিক সামগ্রী খুঁজে পায়। এপিবিএন জানায়, এই ভেজাল কসমেটিক সামগ্রী ব্যবহার হতো ওই দুই প্রতিষ্ঠানে। যে কারণে প্রতিষ্ঠান দু’টির প্রত্যেকটিকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করে এপিবিএন এর মোবাইল কোর্ট।

আরো পড়ুন : বিউটি পার্লারের ব্যবসায় কি ধরনের আয় বা খরচ হতে পারে? 

আজকাল বড় বড় জেলা শহর এমনকি বিভিন্ন মার্কেটে বিভিন্ন নামের পার্লারের দোকান দেখা যায়। এসব পার্লারে নানা বয়সের মেয়েরা নানারকম কাজ করে থাক। যেমন-বউ সাজানো, চুল কাটা, ভ্রূ প্লাক করা ইত্যাদি। এই কাজের বিনিময়ে তারা নিদিষ্ট পরিমাণ অর্থও নিয়ে থাকে৷ সাধারণত বিয়ে, জণ্মদিন, ঈদসহ নানারকম অনুষ্ঠানে এসব দোকানে বেশ ভিড় দেখা যায়৷ এমনকি এখন আমাদের কিছু কিছু পার্লার আন্তর্জাতিকভাবেও স্বীকৃতি পাচ্ছে।

আমরা সবাই চাই নিজের চেহারাকে সুন্দরভাবে দেখতে৷ আমাদের নারীরা এখন সৌন্দর্য সম্পর্কে অনেক বেশি সচেতন৷ তাই এক্ষেত্রে বিউটি পার্লার প্রায় সব নারীর কাছেই একটি পরিচিত ও জনপ্রিয় উপায়৷ যদিও আমাদের দেশে এই বিষয়টি অন্যান্য দেশের তুলনায় কিছুটা হলেও নতুন তারপরও তা একটি ব্যবসা হিসেবে ক্রমশ শহর থেকে গ্রামে বিস্তার লাভ করছে।


এখন একটি ভ্রাম্যমান বিউটি পার্লারে উপকরণ কেনা থেকে শুরু করে ক্রেতাদের নানা ধরনের  সেবা দান করা পর্যন্ত যা যা কাজ হয় তার লাভ-ক্ষতির একটি ধারণা দেয়া যাক:  
উপকরণ কেনার খরচ
ক্রম    উপকরণের নাম       পরিমাণ    দাম (টাকা)
০১     কাঁচি                      ১টি         ৪০.০০
০২    বউ সাজানো চিরুনি    ১টি         ২০.০০
০৩    হেয়ার ড্রায়ার           ১টি         ১৫০.০০
০৪    রোলার চিরুনি           ১টি         ৪০.০০
০৫    তয়লা                      ১টি         ৩০.০০
০৬    ন্যাপকিন                  ২টি         ১০.০০
০৭    হেয়ার স্প্রে                 ১টি         ৪৫.০০
০৮    আয়না                     ১টি        ১০০.০০
০ঌ    ব্রন ষ্টিক                    ১টি        ঌ০.০০
১০    প্লাস্টিক বাটি              ২টি         ১০.০০
১১    ব্লাশন সেট                  ১টি        ৮০.০০
১২    ব্রাশ                          ১টি        ২৫.০০
১৩    নেইল কাটার              ১টি         ২৫.০০
                         মোট টাকা         ৬৬৫.০০

নিয়মিত জিনিস কেনার খরচ
ক্রম              কাঁচামালের নাম        পরিমাণ    দাম (টাকা)
০১    সুতা                 ৫টি                  ২৫.০০
০২    পাউডার            ১টি                 ২৫.০০
০৩    ফেসিয়াল প্যাক    ১টি                ১০০.০০
০৪    ফাউন্ডেশন          ১টি                ১৫০.০০
০৫    মেহেদী               ২টি                ৫০.০০
০৬    হেয়ার স্প্রে          ১টি               ১০০.০০
০৭    শ্যাম্পু                 ১টি               ১০০.০০
০৮    হেনা প্যাক          ১ প্যাকেট        ১৫০.০০
০ঌ    ব্লিচ ক্রিম            ১টি               ১২০.০০
১০    লিপ লাইনার        ১টি               ২৫.০০
১১    লিপ-ষ্টিক            ৩টি               ৩০০.০০
১২    ক্রিম                  ১টি                ২৫.০০
১৩    টিপ                  ১ পাতা            ৩০.০০
১৪    ক্লিপ                  ৪ ডজন           ২০.০০
     মোট টাকা         ১২২০.০০


মাসিক আয়ের পরিমাণ
কাজের বিবরণ    সেবার নাম    পরিমাণ (মাসে)    দাম (টাকা)    আয়(টাকা)
চুল কাটা             ইউ শেপ          ১০টি               ২০.০০          ২০০.০০
ব্লাংক কাট                                ২টি               ৪০.০০          ৮০.০০
লেয়ার কাট                              ১টি                ৪০.০০          ৪০.০০
বয় কাট                                  ১টি                ৪০.০০          ৪০.০০
রাহুল কাট                                ১টি                ৪০.০০          ৪০.০০
ফেসিয়াল                                  ৩টি               ১০০.০০       ৩০০.০০
পার্টি মেকআপ                             ১টি                ১০০.০০       ১০০.০০
হেনা করা                                  ২টি                ১০০.০০       ২০০.০০
ভ্রু প্লাগ                                  ঌ০টি                ১৫.০০         ১২৫০.০০
আপার লিপ                                 ২টি                ১০.০০         ২০.০০
বউ সাজানো                                ১টি               ৬০০.০০       ৬০০.০০
পেডি কিউর ও মেনি কিউর                ৪টি               ১৫০.০০        ৬০০.০০
     মোট টাকা              ৩,৪৭০.০০
 
এই হিসাব অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে -
•    নিয়মিত জিনিস কেনার খরচ  = ১২২০.০০ টাকা
•    পরিবহন খরচ= ২০০.০০ টাকা
•    মোট =১৪২০.০০ টাকা
•    অতএব মাসিক আয় হবে = ৩২৭০-১৪২০ = ১৮৫০ টাকা

বিউটি পার্লার ব্যবসার সুবিধা ও অসুবিধাগুলো কি কি
আসলে এই ব্যবসায় সুবিধার পাশাপাশি কিছু সমস্যাও আছে৷ প্রথমে পার্লার ব্যবসার সুবিধা ও তারপর অসুবিধাগুলো জেনে নেই:
সুবিধাসমূহ:
•    এই ব্যবসার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো যারা সবসময় শহরের পার্লারে গিয়ে সাজতে পারেন না তারা কম খরচে ভ্রাম্যমান বিউটি পালারে যেতে পারেন৷
•    এই ব্যবসা বেকার নারী বা কিশোরীদের কর্মসংস্থানের একটি সুন্দর উপায় হতে পারে৷
•    এই ব্যবসার জন্য দরকারি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামালগুলো একবার কিনলে প্রায় ৫ থেকে ৬ মাস ব্যবহার করা যায়৷
•    বিউটি পার্লারের ব্যবসাটি একটি লাভজনক ও সম্ভাবনাময় ব্যবসা৷
•    অনেক সময় ঘরের গৃহিণীরা সময় করে উঠতে পারেন না ঘরের বাইরে গিয়ে পার্লারের সার্ভিস নিতে৷ এক্ষেত্রে ভ্রাম্যমান পার্লার নানা সুবিধা দিতে পারে৷
•    সাধারণত বিউটি পার্লারে সব ধরনের সেবার জন্য বেশি দাম নেয়া হয়৷ কারণ পার্লার স্থাপনার জন্য অনেক খরচ হয়৷ কিন্তু ভ্রাম্যমাণ পার্লারের কোনো স্থাপনা খরচ নাই৷ সুতরাং সার্ভিস কম দামে দেয়া সম্ভব৷
•    ভ্রাম্যমান বিউটি পার্লারে কম মূলধন বিনিয়োগ করলেই চলে আর সে তুলনায় লাভ আসে অনেক বেশি৷
•    কসমেটিক্সের জন্য যা কিছু প্রয়োজন তা স্থানীয়ভাবে জেলা শহর থেকে কেনা যায়৷ তাতে পরিবহন খরচও কম হয়৷
অসুবিধাসমূহ:
আমাদের দেশে ছোট শহরে কিংবা থানা পর্যায়ে এ ধরনের সার্ভিস কেউ দিচ্ছে না৷ সুতরাং প্রাথমিক পর্যায়ে কাজ করতে একটু অসুবিধা হতে পারে৷
•    এলাকায় যদি ভালো বিউটি পার্লার থেকে থাকে তাহলে খরিদ্দারের আস্থা অর্জন করতে সময় লাগতে পারে৷
•    খরিদ্দারকে ভালো ব্যবহার ও উন্নত সেবার সার্ভিস না দিতে পারলে ব্যবসা চালিয়ে নিয়ে যাওয়া কঠিন হতে পারে৷
•    কসমেটিক্সের মান ভালো না হলে প্রচার বাধাপ্রাপ্ত হতে পারে৷
•    প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যবসার প্রচার ও প্রসারের জন্য বেশি সময় ও ভালো সার্ভিস দিতে হবে৷ তাহলে পরবর্তীতে ব্যবসাটিতে সুবিধা হবে৷
পরিশেষে বলা যায় যে, আপনাদের যদি বাড়তি আয় করার ইচ্ছা থাকে তাহলে একটু সাহস করে আপনারা এই ব্যবসা শুরু করে দিতে পারেন৷ আজকাল অনেক এনজিও বা উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান নানা ধরনের ঋণের মাধ্যমে এই বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে৷ আপনারা যদি এই প্রশিক্ষণগুলো গ্রহণ করতে পারেন তাহলে ঝুঁকি এড়িয়ে ও বেশি পুঁজি খাটিয়ে লাভ বেশি করার উপায়গুলো বুঝে নিতে পারবেন৷ আর সেইসাথে তা আপনাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে আরও শক্তিশালী করবে৷ 


আরো সংবাদ