২১ জুন ২০১৮

গাড়িতে ধর্ষণ চেষ্টাকারী রনির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

ধর্ষণ চেষ্টাকারী মাহমুদুল হক রনি -

রাজধানীতে গাড়িতে এক নারীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে আটক মাহমুদুল হক রনিকে তিন দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার ঢাকার মহানগর হাকিম আহসান হাবীব এ আদেশ দেন।

ঢাকার অপরাধ, তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার আনিসুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, আজ ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মিনহাজ উদ্দিন আসামি রনিকে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারক তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন।

গত শনিবার মাহমুদুল হক রনির বিরুদ্ধে তার গাড়িতে এক তরুণীকে ধর্ষণ চেষ্টা করার অভিযোগ ওঠে। এরপর উত্তেজিত জনতা রনিকে গাড়ি থেকে বের করে মারধর করেন। মুহুর্তেই এ দৃশ্য ফেসবুকে ভাইরাল হয়। মারধরের পর উত্তেজিত জনতা পুলিশের কাছে তাকে তুলে দেন। এরপর রোববার ভুক্তভোগী এক তরুণী রনির বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় ধর্ষণ চেষ্টার মামলা করেন।

শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোপাল গণেশ বিশ্বাস জানান, মামলায় রনির পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িচালককেও আসামি করা হয়েছে। ঘটনায় ব্যবহৃত গাড়িটি (নম্বর- ঢাকা মেট্রো গ- ২৯-৫৪১৪) আটক করেছে পুলিশ।

ওসি গোপাল গণেশ বিশ্বাস বলেন, মামলার এজাহারে ওই নারী অপহরণ করে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ এনেছেন। আপাতত ওই দুই নারীকে থানা হেফাজতে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে।

ওসি আরো জানান, মামলার বাদী অভিযোগ করেছেন, তিনি ও আরেক তরুণী মোহাম্মদপুর কলেজ গেট এলাকায় রনির গাড়ি থামিয়ে তাঁদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করেন। এরপর তাদেরকে গাড়ীতে তুলে নেয়া হয়। কিছু দূর যাওয়ার পর এক তরুণীকে শিশুমেলার কাছে নামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর গাড়িতে থাকা অন্য তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন রনি। তরুণীকে নিয়ে গাড়িটি পালাতে চেষ্টা করে কিন্তু রাস্তায় যানজট থাকার কারনে গাড়িটি বেশি দূর যেতে পারে নি। গাড়িতে ধ্বস্তাধস্তির কারনে ব্যস্ত সড়কে থাকা মানুষেরা টের পেয়ে যায় । তারপর তাঁদেরকে গাড়ি থেকে বের করে মারধর করেন উত্তেজিত জনতা। এসময় ড্রাইভার পালিয়ে যান।

ওসি গোপাল গণেশ বলেন, আমরা তদন্ত করে দেখছি বিষয়টি। পালিয়ে যাওয়া ড্রাইভারকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।

জানা গেছে যে, আসামি মাহমুদুল হক রনি একজন ব্যবসায়ী। তিনি রাজধানীর ঝিগাতলায় পরিবারের সাথে থাকেন।

গত শনিবার রাতে রনিকে আটক করেন শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিনহাজ উদ্দীন। কেন আটক করা হয়েছে জানতে চাইলে রোববার তিনি বলেন, ‘শনিবার রাতে রনি সংসদ ভবনের সামনে থেকে একটি মেয়েকে প্রাইভেটকারে করে তুলে মোহাম্মদপুরের দিকে নিয়ে আসে। সম্ভবত ওই মেয়েকে রনি ধর্ষণ করার চেষ্টা করে। এর পরে স্থানীয়রা সেটা বুঝতে পেরে রনিকে গাড়ি থেকে নামিয়ে গণধোলাই দেয়। তারপরে আমাদের কাছে হস্তান্তর করে। আমরা রনিকে মদ্যপ অবস্থায় পাই। এরপরে আমরা থানায় নিয়ে আসি।’

রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় রনিকে গাড়ি থেকে নামিয়ে গণধোলাইয়ের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। সেখানে দেখা যায়, উত্তেজিত মানুষ রনিকে চড়-থাপ্পড় মারছেন, গণধোলাই দিচ্ছেন। ওই ভিডিওতেই দেখা যায় গাড়িতে থাকা একজন নগ্ন হয়ে দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন।


আরো সংবাদ