২৪ জুন ২০১৮

কোটি টাকার জাল নোটসহ গ্রেফতার ১০

-

রাজধানীতে এক কোটি টাকার জাল নোটসহ ১০জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাদের কাছ থেকে আরও প্রায় দুই থেকে তিন কোটি টাকার জাল নোট তৈরির কাগজ ও বিভিন্ন সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।
রাজধানীতে জাল টাকা তৈরির ৮ থেকে ৯টি গ্রুপ রয়েছে। গ্রেফতার হওয়া ১০জনের নয় জন কেই জাল টাকা তৈরির অভিযোগে একাধিকবার গ্রেফতার করা হয়েছিল। ঈদকে সামনে রেখে গ্রেফতারকৃতরা ১ থেকে ২ কোটি টাকা বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা করেছিল বলে জানিয়েছেন ডিবি পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার দেবদাস ভট্টা চার্য।
শুক্রবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
দেবদাস ভট্টা চার্য আরও জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাল টাকা তৈরি ও বাজারে বিক্রি চক্রের দশজনকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- রফিক, জাকির, হানিফ, খোকন ওরফে শাওন, রিপন, মনির, সোহরাব, জসিম,রাজন শিকদার ওরফে রাজা ওরফে রাজু ও রাজুর স্ত্রী লাবনী। রাজুর কাপড়ের ব্যবসার আড়ালে বাসা ভাড়া করে নিজের বাসায় জাল টাকা তৈরির টাকশাল বানিয়েছিল।
অতিরিক্ত কমিশনার জানান, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে জাল টাকার তৈরীর মূলহোতা রফিক। রফিক জাল টাকা তৈরির গুরু নোয়াখালী ছগির মাষ্টারের সহযোগী হিসেবে এক সময় কাজ করতো। এক পর্যায়ে সে নিজেই সরঞ্জামাদি কিনে রাজুর মাধ্যমে রাজধানীর কদমতলী থানাধীনপূর্ব জুরাইন বৌ-বাজার এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে জাল টাকা তৈরী শুরু করে। গ্রেফতার হওয়া জাকির মূল জাল টাকা তৈরির মূল কারিগর। সে জাল টাকার তৈরীর বিশেষ ধরনের কাগজে বিভিন্ন রকমের জল ছাপ এবং নকল নিরাপত্তাসূতা স্থাপনকরত।
তিনি বলেন, উৎপাদকের এক লাখ টাকা তৈরি করতে খরচ হয় প্রায় ১০ হাজার টাকা। তারা পাইকারী বিক্রেতার কাছে ১ লাখ টাকা ১৪-১৫ হাজার টাকায় বিক্রয় করে। পাইকারী বিক্রেতা ১ম খুচরা বিক্রেতার নিকট বিক্রয় করে ২০-২৫ হাজার টাকা, ১ম খুচরা বিক্রেতা ২য় খুচরা বিক্রেতার নিকট বিক্রয় করে ৪০-৫০ হাজার টাকায় এবং ২য় খুচরা বিক্রেতা মাঠপর্যায়ে সেই টাকা আসল এক লাখ টাকায় বিক্রয় করে।
তিনি আরও বলেন, জাল টাকা বেশির ভাগকারবারীকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা জেল হাজতে আছে। বর্তমানে যারা বাইরে আছে তাদেরকে গ্রেফতারে কাজ করছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া জাল টাকা আগের টাকার চেয়ে অনেক বেশি নিখুত উল্লেখ করে তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া জাল টাকাও নিরাপত্তাসূতা স্থাপন করা হয়েছে। এসব নিরাপত্তাসূতা তারা কিভাবে যোগার করেছে সেই ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সাধারণ চোখে বোঝা খুবই কঠিন যে এটা জাল টাকা। তবে অরজিনাল টাকা কিছুটা খসখসে এবং জাল টাকা বেশিমসৃণ বলে তিনি জানান।


আরো সংবাদ