১৫ অক্টোবর ২০১৯

চার পেসার নাকি দুই স্পিনার?

তিন পেসার, এক স্পিনার। আফগানিস্তানের বিপক্ষে চট্টগ্রামে সবশেষ দেখায় এক বোলার কম নিয়ে খেলেছে বাংলাদেশ। অনিয়মিত বোলার আফিফ হোসেন ধ্রুব এসেই সাফল্য না পেলে বিপদ বাড়তে পারত টাইগারদের। মিরপুরে মঙ্গলবারের ফাইনালে অবশ্য স্বীকৃত পাঁচ বোলার নিয়েই নামার ইঙ্গিত দিয়েছেন কোচ রাসেল ডমিঙ্গো।

পেসার বাড়ানো হলে অনুমেয়ভাবেই রুবেল হোসেন ফিরবেন একাদশে। আর স্পিনার হলে তাইজুল ইসলাম। অভিষেকে আলো ছড়ানো লেগস্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লব চোটে থাকায় তাকে টেনে ঝুঁকি নেয়ার পক্ষে নন ডমিঙ্গো।

চট্টগ্রামে লিগ পর্বের শেষ ম্যাচটাতে উইকেটে ছিল কিছুটা ঘাস। তাতে শফিউল ইসলাম, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনদের শুরুটা হয় দারুণ। উইকেট সুবিধামতো থাকলে যে পেসাররাও হতে পারেন শক্তি, সে ম্যাচে দেখা গেছে তা। ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালের উইকেটেও থাকছে এমন ঘাসের ছোঁয়া। কেবল তা-ই নয়। আফগানদের স্পিন শক্তি, নিজেদের স্পিন জুজু আর ভবিষ্যৎ ভাবনায় ফাইনালে পেসারদের দিকেই ঝুঁকতে যাচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্ট। প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো জানালেন, একাদশে চার পেসার খেলানোও আছে তাদের ভাবনায়।

অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার অধীনে অনেকবারই ঘরের মাঠে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে চার পেসার খেলিয়েছে বাংলাদেশ। তাতে সাফল্যও মিলেছিল। কিন্তু গত বেশ কিছু দিন থেকেই টেস্ট ও টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ একাদশে থাকে স্পিনারদের ছড়াছড়ি।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে চারজন স্পিনার খেলানোর পর টি-টোয়েন্টিতেও স্পিন নির্ভরই ছিল বাংলাদেশের একাদশ। তবে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে সে চিন্তা থেকে সরে পেসারদের দিকে ঝুঁকে পড়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিলেন প্রধান কোচ, ‘সম্ভবত একজন বাড়তি পেসার নিয়ে আমরা ১২ জনের দল গড়ব আজ, কালকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে উইকেট দেখে। অবশ্যই এই জায়গাটি আমরা কাজে লাগাতে পারি। আজকে উইকেটে খানিকটা ঘাস আছে, বাউন্স মিলতে পারে। চার পেসার তাই ভালো বিকল্প হতে পারে। তবে কালকে উইকেট-কন্ডিশন দেখে সিদ্ধান্ত হবে।’

চার স্পিনার খেলিয়ে অভ্যস্ত হয়ে পড়া দল হুট করে চার পেসারে শিফট করবে। মানিয়ে নিতে তাই হতে পারে কিছুটা সমস্যা। কিন্তু কোচ আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মাথায় রেখেই অমন পরিকল্পনাতে এগোতে চান, ‘আমি জানি, এটি ঠিক বাংলাদেশের ধরন নয়। আমাদের ভাবনায় সবসময় থাকে আমরা বিশ্বকাপ কোথায় খেলব। অস্ট্রেলিয়ায় বিশ্বকাপ খেলব আমরা, সেখানে ১-২ জন পেসার খেলানোর সম্ভাবনা দেখি না। অন্তত তিনজন তো বটেই, চার পেসারও খেলানো হতে পারে সেখানে। এখন জেতাটা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবশ্যই, পাশাপাশি ভবিষ্যতের পথচলা নিয়েও ভাবতে হবে আমাদের।’

টি-টোয়েন্টিতে চার পেসার খেলালেও বেশ কয়েকজন স্পিনিং অলরাউন্ডার থাকায় স্পিন শক্তিও নিভে যাচ্ছে না। বাংলাদেশের শক্তির জায়গা বুঝে পেস-স্পিনের মিশেল গড়ার চিন্তা ডমিঙ্গোর, ‘খুব সূ্ক্ষ্মভাবে সমন্বয় করতে হবে এটি। দক্ষিণ আফ্রিকা হিসেবে আমি সবসময়ই চার পেসার খেলাতে পছন্দ করি। তবে আমি এখানকার সংস্কৃতি বুঝি। এই দলের শক্তি যে স্পিনে, সেটি জানি। কোচ হিসেবে তাই দুটির সমন্বয়ের চেষ্টা করছি।’


আরো সংবাদ




astropay bozdurmak istiyorum