২২ নভেম্বর ২০১৯

উইকেট রক্ষণে নড়বড়ে মুশফিক, ব্যাটিংয়েও রান খরা

উইকেটের সামনে এসে বল ধরতে গিয়ে রান আউটের সুযোগ মিস করছেন মুশফিকুর রহিম, এমন ঘটনা যেন বাংলাদেশের ক্রিকেটে নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। মুশফিকুর রহিম যখন বাংলাদেশের ক্রিকেটে আসেন উইকেটরক্ষক হিসেবে, তার আগে উইকেট সামলাতেন খালেদ মাসুদ পাইলট, যিনি বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসেরই সেরা উইকেটরক্ষক বলে বিবেচিত।

তখন থেকেই ভক্তরা খালেদ মাসুদ পাইলটের জায়গায় মুশফিকুর রহিমকে সার্বজনীনভাবে গ্রহণ করেননি। পরবর্তীতে মুশফিকুর রহিম তার ব্যাটিং দিয়ে মুগ্ধ করেন। মুশফিকুর রহিমের ক্যারিয়ারের এখন ১২ বছর চলছে, কিন্তু এখনও প্রশ্ন ওঠে প্রায়শই যে, উইকেটরক্ষক মুশফিক কতটা সামলাতে পারছেন উইকেটের পেছন থেকে।

ক্রিকবাজের একটি পরিসংখ্যান বলছে উইকেটের পেছনে বা স্লিপে আসা সুযোগে সাফল্যের হারের দিক থেকে সবার পেছনে বাংলাদেশ। যদিও ক্রিকেট বিষয়ক নানা ওয়েবসাইট ও পরিসংখ্যানের পাতায় ক্যাচ মিস বা রান আউটের সুযোগ মিস নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্যের অভাব রয়েছে।

তবু ক্রিকবাজ ও ইএসপিএনক্রিকিনফোতে দুটো পরিসংখ্যান পাওয়া গিয়েছে, যেখানে উইকেটরক্ষকদের সুযোগ নষ্ট করার একটা ধারণা পাওয়া যায়।

ইএসপিএন ক্রিকইনফোর ২০১৬ সাল পর্যন্ত যে পরিসংখ্যান, সেখানে স্পষ্টত উল্লেখ করা হয়েছে যে একুশ শতকের উইকেটরক্ষকদের নিয়ে এটি করা।

ইএসপিএনক্রিকিনফো থেকে নেয়া এই পরিসংখ্যানটি ২০১৬ সালের। যেখানে সবার ওপরে আছেন মার্ক বাউচার যিনি সবচেয়ে কম সুযোগ মিস করেছেন, ১০ শতাংশ। আর মুশফিকুর রহিম সবচেয়ে বেশি ক্যাচ বা স্ট্যাম্পিং মিস করেছেন, ৩২ শতাংশ।

৩০ এমনকি ২২ শতাংশের বেশি সুযোগ কোনো উইকেট রক্ষকই মিস করেননি। আদনান আকমল ২২ শতাংশ সুযোগ মিস করেন, এছাড়া তুমুল সমালোচিত পাকিস্তানি উইকেট রক্ষক কামরান আকমল মিস করেছেন ২২ শতাংশ সুযোগ।

২০১৭, ২০১৮ ও ২০১৯ সালেও মুশফিকুর রহিম উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মিস করেন। যার মধ্যে একটি বেশ আলোচিত, ২০১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কেইন উইলিয়ামসনের রান আউটের সুযোগ স্টাম্পের সামনে এসে আগেই স্টাম্প নাড়িয়ে দিয়ে হাতছাড়া করেন।

চলতি সিরিজেও একইভাবে দুবার সুযোগ নষ্ট করেন মুশফিক।

মুশফিকের দ্বৈত এই ভূমিকা কি ব্যাটিংয়েও প্রভাব ফেলছে?
ওয়ানডেতে এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যানদের একজন মুশফিকুর রহিম। ২০১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে মুশফিকুর রহিম বাংলাদেশের দ্বিতীয় সেরা ব্যাটসম্যান ছিলেন। ৮ ম্যাচে ৫২ গড়ে ৩৬৭ রান তোলেন বাংলাদেশের সাবেক এই অধিনায়ক। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও একটি ৯৮ রানের ইনিংস ও একটি ৬৭ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। কিন্তু বিপত্তি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে।

শেষ আট ইনিংসে মুশফিকুর রহিমের মোট রান ৪৩ রান, সর্বোচ্চ ১৫।

তবে গেলো বছরও মুশফিক টি-টোয়েন্টি বেশ ভালো ব্যাট করে ছিলেন, দুটি অপরাজিত ৭২ রানের ইনিংস ও একটি ৬৬ রানের ইনিংস ছিল।

ক্রিকেট বিশ্লেষক ও সাংবাদিক নোমান মোহাম্মদ বলেন, "মুশফিক মনে করে উইকেট কিপিং তার ব্যাটিংকে সাহায্য করে। এটা তার বিশ্বাস। মুশফিকুর রহিমকে কেউ এই জিনিসটা বোঝাতে পারেনি কখনো।"

আফগানিস্তানের বিপক্ষে মুশফিকুর রহিম রান তাড়া করতে নেমে ওপেনিংয়ে ব্যাট হাতে নেমে যান। এই ঘটনা নিয়ে নোমান মোহাম্মদ বলেন, "গত ম্যাচে মুশফিক ওপেনিংয়ে নামলো, এর পেছনে বড় কারণ সে উইকেট কিপিংয়ে বড় বড় ভুল করেছে, সেটাকে ঢাকার জন্য মরিয়া চেষ্টা হিসেবে ওপেনার হিসেবে নেমে গেল, যেটা ঠিক না।"

"পরিসংখ্যান দেখলে বলা যায় মুশফিকের ব্যাটিংয়ে খারাপ সময় যাচ্ছে, কিন্তু সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশে মুশফিককে কিপিংয়ে নিয়মিত রাখবে কি না সেটা একটা অমীমাংসিত প্রশ্ন।"

তবে লিটন দাসকে দলে রেখে মুশফিককে নিয়মিত কিপিংয়ে রাখাটা কতটা যৌক্তিক তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নোমান মোহাম্মদ এবং এটাকে দ্রুত সমাধানের ব্যাপারে পরামর্শ দেন।

"লিটন দাস মুশফিকের চেয়ে ভালো কিপার এটা স্বীকৃত। ঘরোয়া ক্রিকেট যারা দেখে অনুসরণ করে সেটা তারা জানে। টিম ম্যানেজমেন্টের সাথে বসে একটা সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত, কিন্তু মুশফিকের একটা সমস্যা সে এই ব্যাপারটাকে অন্যভাবে নেয় এবং অভিমান করে ফেলে।" বিবিসি।


আরো সংবাদ