২১ জুলাই ২০১৯

একদিকে গোলাগুলি, আরেক দিকে শাহিন আফ্রিদির বোলিং

শাহিন আফ্রিদি - ছবি : সংগ্রহ

ছোটবেলা থেকেই শুনেছেন গোলাগুলির শব্দ। খাইবার পাখতুনের বাসিন্দা। পাকিস্তান–আফগানিস্তান সীমান্তে আদিবাসী পরিবারের সন্তান। হতেই পারত, তাতারা পাহাড়ের পাদদেশে বেশিরভাগ প্রতিবেশীরা যেমন দুরন্ত ‘দু–নম্বরি’ এ কে ৪৭ সেভেন রাইফেল তৈরিতে সিদ্ধহস্ত তেমনই রাইফেল বানাচ্ছেন।
আবার হতেই পারত, লান্ডি কোটালের পাড়ার ছে‍লেদের সঙ্গে ভাঙা গাড়ির যন্ত্রাংশ দিয়ে তুখোড় বন্দুকও বানিয়ে ফেলছেন। তা হয়নি। কারণ, বাড়িতে ক্রিকেট–সংস্কৃতি ছিল। সঙ্গে ছিল খাইবার অঞ্চল থেকে দুনিয়া কাঁপানো শাহিদ আফ্রিদির মতো ক্রিকেটার হওয়ার ‘স্বপ্ন’।

তাই পাকিস্তানি বাঁহাতি বোলার শাহিন আফ্রিদি নিজেকে নিয়ে যাননি অন্য রাস্তায়। সঙ্গে যে ছিলেন বড় ভাই রিয়াজ আফ্রিদি। রিয়াজ পাকিস্তানের হয়ে একটি মাত্র টেস্ট খেলেছেন শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে। বড় ভাই দেখেছিলেন ভাই শাহি‍নের মধ্যে বড় ক্রিকেটার হওয়ার গুণ। তিনিই পাড়ায় পাড়ায় টেনিস বলে খেলে বেড়ানো ভাইকে তাতারা পাহাড়ের তলায় তাতারা ময়দানে নিয়ে গিয়ে ‘লাল চেরি’–র সঙ্গে হাতেখড়ি দিয়ে ছিলেন। ব্যস, আর পেছনে তাকাতে হয়নি শাহিনকে। বন্ধুরা বন্দুক বানানোতে ব্যস্ত, শাহিন মাঠে মাঠে বোলিং করে চলেছেন। বোলারই হতে চেয়েছিলেন বড় ভাই রিয়াজের কাছে।

২০১৮ পর্যন্ত পাকিস্তান অনূর্ধ্ব ১৯ দলে নিয়মিত খেলেছেন। তারপর ২০১৮–তেই পাকিস্তান সিনিয়র দলে সুযোগ। আনকোরা পেস। ছিল না কোনো পরিশীলিত ব্যাপার–স্যাপার। পাকিস্তান বোলিং কোচ আজহার মাহমুদের তত্ত্বাবধানে নিজেকে শানাচ্ছেন। বয়স মাত্র ১৯। সামনে প্রচুর সময়। কিন্তু এখনই তাকে ‘প্রতিভাবান’ বলতে কসুর করছেন না কিংবদন্তি পাকিস্তানি ক্রিকেটার ওয়াসিম আকরাম।

এজবাস্টনে শাহিনের বোলিং দেখে মুগ্ধ স্বয়ং আকরাম। কারণ, খুব ‘চাপের’ ম্যাচে শাহিন একাই যে শিরদাঁড়া ভেঙে দিয়েছেন নিউজিল্যান্ড ব্যাটিংয়ের। মনে রাখার মতো বোলিং। দেশের হয়ে ৩টি টেস্টে ১২খানা উইকেট হয়ে গেছে। একদিনের আন্তর্জাতিকে ১৬ ম্যাচে ২৭ এবং ৭টি টি২০তে ১১টি শিকারের মালিক শাহিন।


আরো সংবাদ

gebze evden eve nakliyat instagram takipçi hilesi