২১ জুলাই ২০১৯

কী করবেন ধোনি!

এমএস ধোনি - ছবি : সংগ্রহ

আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ দ্বাদশ আসরের ৩৪তম ম্যাচে বৃহস্পতিবার মুখোমুখি হচ্ছে পাঁচ ম্যাচে নয় পয়েন্ট তিলে তালিকার তৃতীয়স্থানে থাকা ভারত ও ছয় ম্যাচে তিন পয়েন্ট নিয়ে তালিকার অষ্টম স্থানে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টুর্নামেন্ট থেকে এখনো ছিটকে না পড়লেও বিপজ্জনক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের নজর থাকবে মহেন্দ্র সিং ধোনির ব্যাটিং এ্যপ্রোচ ও মিডল অর্ডারে পজিশনের ওপর।

লীগ পর্বের এ ম্যাচ সহজ জয় দিয়েই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করতে চাইবে ভারত। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজও চাইবে এ ম্যাচে জয়ী হয়ে ঘুরে দাঁড়াতে।

মূলত ওয়েস্ট ইন্ডিজের আনপ্রেডিক্টেবিলিটি এবং মিডল অর্ডারে বার বার ধোনির ব্যর্থতা কোহলিকে কিছুটা চিন্তায় ফেলেছে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৫২ বল খেলে ২৮ রান করা ধোনির ধীর গতির এ্যাপ্রোচ সর্বত্রই সমালোচনার ঝড় তুলেছে। এমনকি শচীন টেন্ডুলকারও ধোনির এমন এ্যাপ্রোচের সমালোচনা করেছেন।
একটি টেলিভিশন চ্যানেলে টেন্ডুলকার তার পর্যবেক্ষণে বলেন,‘সেখানে কোন ইতিবাচক মানসিকতাই ছিলনা।’

তবে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের সামনে ব্যাটিং পজিশনে বিকল্প হিসেবে কেদার যাদবও আছে। কেননা গ্রুপ পর্বে এখনো তাদের চারটি ম্যাচ বাকি আছে।
হার্ডিক পান্ডিয়াকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন পজিশনে ব্যবহার করা হয়েছে। তবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে দেখা গেছে অন্য প্রান্ত থেকে ভাল সহায়তা পাননি। যে কারণে তার ওপর অনেক বেশি চাপ পড়েছে এবং প্রায় প্রতিটি বলেই ছক্কা হাকানোর চেস্টা করেছেন।

অধিনায়ক কোহলি ও কোচ রবি শাস্ত্রি এখনো ঋষভ পন্থকে ব্যাবহার করতে খুব আগ্রহী হননি। কেবলমাত্র বিজয় শংকরকে বাদ দিলেই পন্থ সেরা একাদশে সুযোগ পেতে পারেন।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে ফাস্ট বোলারের সংখ্যা বেশি থাকায় স্ট্রাইক পরিবর্তনে ধোনির জন্য সহজ হতে পারে। কেননা স্পিনের বিপক্ষে তাকে খুব বেশি স্বাচ্ছ্যন্দ দেখা যায়নি। শেষ ম্যাচে আফগানিস্তান পুরো সময়ই তাকে চাপে রেখেছে।

আইপিএল এবং ৫০ ওভারের ধোনির ব্যাটিং এ্যাপ্রোচ নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হতে পারে। ঘরোয়া আইপিএলে অনেক সময়ই রান চেজ করেছেন ধোনি। তবে সেটা ছিল ভারতীয় অনভিজ্ঞ বোলারদের বিপক্ষে। তবে আন্তর্জাতিক তারকাদের বিপক্ষে সব সময়ই নিরাপদ ক্রিকেট খেলেছেন। যেমন কাগিসো রাবাদা, জোফরা আর্চারদের বিপক্ষে তিনি কখনো কোন ঝুঁকি নেননি। সুতরাং এখানে যাতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যাটিং করতে পারেন সে জন্য একটা কৌশল নেয়া হতে পারে। এ জন্য ব্যাটিং পজিশনে তার পরিবর্তনও হতে পারে। তবে উইকেটরক্ষক হিসেবে তার কার্যকারীতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। এখানে অধিনায়ক ও কোচের কিছু কৌশল থাকতে পারে।

পক্ষান্তরে পাকিস্তানের বিপক্ষে দূরন্ত সূচনার পর হারের বৃত্ত থেকে বের হতে না পারা ওয়েস্ট ইন্ডিজ অন্তত শেষটা ভাল করতে চাইবে। তবে দলটির জন্য বড় ধাক্কা হচ্ছে ইনজুরির কারণে আন্দ্রে রাসেলের ছিটকে পড়া। বিশেষ করে দুই তরুণ শেলডন কট্রেল ও ওশানে থমাসকে নিয়ে দলটির পেস আক্রমন খুবই ভালো করছে।

বিরাট কোহলি ও তার সহকারী রোহিত শর্মা ব্যাট হাতে সুপার ফর্মে থাকলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের শর্ট বল কৌশলের কারণে লড়াইটা বেশ জমে উঠতে পারে।

স্বঘোষিত ‘ইউনিভার্স বস’ ক্রিস গেইলের কাছ থেকে একটা ম্যাচ জয়ী পারফরমেন্স পাওনা হয়ে গেছে এবং কোহলি চাইবেন এমনটা যেন তার দলের বিপক্ষে না হয়। ওপেনার গেইলের বিপক্ষে জসপ্রিত বুমরাহর ওপেনিং স্পেল থেকেই হয়তোবা একটা ধারনা পাওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে মেধাবী এবং ফর্মে থাকা শাই হোপ ও শিরোন হেটমায়ারকে কুলদীপ যাদব ও যুজবেন্দ্রা চাহালের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কার্লোস ব্র্যাথওয়েট অসাধারন এক ইনিংস খেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে জয়ের কছাকাছি নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে স্লো বোলারদের বিপক্ষে তিনি স্বাচ্ছ্যন্দ বোধ করেন না।

সব মিলিয়ে আফগানিস্তানের তুলনায় এ ম্যাচে কঠিন পরীক্ষায় পড়তে হতে পারে ভারতকে। তবে সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনায় বৃহস্পতিবার ফেবারিট ভারতই।

দল :
ভারত : বিরাট কোহলি (অধিনায়ক), রোহিত শর্মা, জসপ্রিত বুমরাহ, যুজবেন্দ্রা চাহাল, ঋষভ পন্থ, এমএস ধোনি, রবীন্দ্র জাদেজা, কেদার যাদব, দিনেশ কার্তিক, কুলদীপ যাদব, ভুবনেশ্বর কুমার, মোহাম্মদ সামি, হার্ডিক পান্ডিয়া, কেএল রাহুল, বিজয় শংকর।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ : ক্রিস গেইল, এভিন লুইস, শাই হোপ, ড্যারেন ব্রাভো, শিমরোন হেটমায়ার, নিকোলাস পুরান, এ্যাশলে নার্স, সুনিল এ্যাম্ব্রিস, ফ্যাবিয়ান এ্যালেন, কেমার রোচ, শ্যানন গাব্রিয়েল, জেসন হোল্ডার (অধিনায়ক), কার্লোস ব্র্যাথওয়েট, ওশানে টমাস, শেলডন কট্রেল।

 


আরো সংবাদ

gebze evden eve nakliyat instagram takipçi hilesi