১৩ ডিসেম্বর ২০১৯

বাংলাদেশের বিপক্ষে ফার্স্ট বোলিংয়েই আস্থা অজি কোচের

অস্ট্রেলিয়ার কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার - ছবি : সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার জন্য বৃহস্পতিবার ম্যাচে জয় যতোটা গুরুত্বপূর্ণ তার চেয়ে বেশী বাংলাদেশের। সেমিতে খেলার আশা জিইয়ে রাখতে এই ম্যাচে জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবার সুযোগ নেই টাইগারদের। অন্যদিকে অজিরা চাইছে জয়ের ধারায় থাকতে। এই জয়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশের বিপক্ষেও তাদের আস্থা ফার্স্ট বোলিংয়ে। এমনটাই জানালেন অস্ট্রেলিয়ান কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার।

যদিও দলটির সাবেক বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্কের পরামর্শ, অস্ট্রেলিয়ার একাদশে যেন স্পিনার অন্তর্ভূক্ত করা হয়। তার এই বক্তব্যের উত্তরেই নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান ল্যাঙ্গার।

এবারের অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ স্কোয়াডে স্পিনার বলতে অ্যাডাম জাম্পা ও নাথান লিওন। জাম্পা মোটেই ভালো করতে পারেননি ভারতের বিপক্ষে। ওভালে তিনি ছয় ওভার বল করে কোনো উইকেট না পেয়ে দিয়েছেন ৫০ রান। লিওনকে অবশ্য এখনও খেলার সুযোগ দেয়া হয়নি এবারের বিশ্বকাপে। যদিও লিওনকে বলা হয় এই মুহুর্তে বিশ্বের সবচেয়ে ভালো অফ স্পিনার।

পেসার বোলার মার্কাস স্টয়নিস ইনজুরিতে। তার বিকল্প হিসেবেই স্পিনার খেলানোর কথা বললেন মাইকেল ক্লার্ক। উল্লেখ্য অস্ট্রেলিয়ায় অনেক দিন ধরেই পঞ্চম বোলারের সংকট। অবশ্য এরপরও তারা এবারের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে পাঁচ ম্যাচের চারটিতে জিতেছে। একমাত্র হার ভারতের কাছে।

মাইকেল ক্লার্কের যুক্তি, ‘অস্ট্রেলিয়া দলে কি কোনো অলরাউন্ডার আছে? নেই। তাই আমার মতে একজন স্পিনারকে খেলানো উচিত। তা জাম্পা বা লিয়নকে।’ উল্লেখ্য অজি দলে স্পিন অল রাউন্ডার হিসেবে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে খেলানো হচ্ছে। গত বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার সাফল্যের নেপথ্য ছিল তার স্পিন; কিন্তু এবার ইংল্যান্ডে কাজ হচ্ছে না তার ঘূর্নি বোলিংয়ে।

ল্যাঙ্গার বলেন, অনেকেই আমাদের দুর্বলতা নিয়ে কথা বলছেন; কিন্তু আমার মতে ওটাই আমাদের শক্তি। আমরা খেলছি আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিপক্ষকে বিবেচনায় এনে, মাঠের পরিস্থিতি মাথায় রেখে এবং খেলোয়াড়দের সামর্থ্য দেখে। এটা কোনো দুর্বলতা নয়। বরং এটাই আমাদের শক্তি।

এই কোচ আরো যোগ করেন, এবারের বিশ্বকাপে তো ফার্স্ট বোলাররাই ভালো করছে। বিপক্ষকে ধসিয়ে দিচ্ছে।

ল্যাঙ্গারের এই বক্তব্যের পেছনে শক্ত যুক্তিও আছে। আফগানিস্তানের রশিদ খানকে বলা হয় সবচেয়ে ভয়ংকর স্পিনার। অথচ গতকাল পরশু এই স্পিনার ইংল্যন্ডের বিপক্ষ ১০ ওভারে দিয়েছেন ১১০ রান। এটা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচয়ে ব্যয়বহুল বোলিং। ইংল্যান্ডের মাটিতে এবার তিনি পাঁচ ম্যাচে তিন উইকেট পেয়েছেন। যার গড় ৭৪.৬৬।

অবশ্য ল্যাঙ্গারের সাথে এই নিয়ে তর্ক জুড়ে দেয়ার মতো তথ্যও রয়েছে। ইংল্যান্ডের স্পিনার মঈন আলী এবং আদিল রশীদ এবং ভারতের জুভেন্দ্র চাহাল ও কুলদ্বীপ যাদব দলের বোলিং অ্যাটাকের নেতৃত্বে।

ল্যাঙ্গারের বক্তব্য, এবারের বিশ্বকাপে শুরুর দিকে ব্যাটসম্যানদের ধসটা কমই হয়েছে। যা হয়েছে তা মিডল অর্ডারেই। আমাদের ফার্স্ট বোলাররা এই কাজ ভালো ভাবেই সমাধা করেছেন পাকিস্তান ও শ্রীলংকার বিপক্ষে। দুই দলেরই মিডল অর্ডার বিধ্বস্ত হয় আমাদের ফার্স্ট বোলারদের তোপে পড়ে। ওয়ানডে ক্রিকেটে এই মিডল অর্ডারে ব্যাটসম্যানদের চেপে ধরে তাদের আউট করাটাই বেশী গুরুত্বপূর্ণ।’ তার মতে, গত চার বছর ধরে ওয়ানডে ক্রিকেটে স্পিনারদের দাপট ছিল; কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে সে ধারায় পরিবর্তন এসেছে।

এবারের বিশ্বকাপে ১০ দেশের মধ্যে স্পিন বোলার ছাড়া উইকেট দখলে সাফল্য পাচ্ছে নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। এই পরিসংখ্যানে দল দুটির পরেই অবস্থা অস্ট্রেলিয়ার।  সিডনী মনিং হেরাল্ড


আরো সংবাদ




hacklink Paykwik Paykasa
Paykwik