২০ জুন ২০১৯

চাপে পাকিস্তান

২০০ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চাপে পড়েছে পাকিস্তান। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানের সংগ্রহ ৪১ ওভারে ২৪৩ রান। সারফরাজ আহমেদ (৩৪) ও ওয়াহাব রিয়াজ ৩১ রানে ব্যাট করছেন।

বিশ্বকাপের ১৭তম ম্যাচে পাকিস্তানকে ৩০৮ রানের লক্ষ্য দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নারের সেঞ্চুরি (১০৭) ও অ্যারন ফিঞ্চের (৮২) রানের ওপর ভর করে ৪৯ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ৩০৭ রান সংগ্রহ করে অজিরা।

জয়ের হিসেব-নিকেশের চিন্তা কষেই বুধবার টন্টনের কাউন্টি গ্রাউন্ডে মাঠে নামে অস্ট্রেরিয়া ও পাকিস্তান। কিন্তু শেষ হাসিতো দুই দল হাসার সুযোগ নেই। হাসবে একদল। আর হেসেছে অজিরা। দুই দলের হাইভোল্টেজ ম্যাচে ফেবারিট ছিল না কোনো দলই। বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টায় ম্যাচটি মুরু হয়। টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তানের অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। বিশ্বকাপে দু’দলের চতুর্থ ম্যাচ এটি।

টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ছিল অজিদের দুর্দান্ত। ওপেনিং জুটিতে ডেভিড ওয়ার্নার ও অ্যারন ফিঞ্চ মিলে তোলেন ২২ ওভারে ১৪৬ রান। তখন খেরায় চার শ’ রানের আভাস দিচ্ছিলো অজিরা। কিন্তু প্রথম দিকে ভালো সূচনা করলেও পরের ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় তা আর সম্ভব হয়নি। নিজের দ্বিতীয় স্পেল ও খেলার ২৩তম ওভার করতে এসে প্রথম বলেই মোহাম্মদ হাফেজের ক্যাচ বানিয়ে ফিঞ্চকে তুলে নেন মোহাম্মদ আমির। ফিঞ্চের ব্যাট থেকে ৬ চার ও ৪ ছয়ের সাহায্যে আসে ৮৪ বলে ৮২ রান। ওয়ানডাউনে ব্যাট করতে নেমে স্টিভেন স্মিথকে ব্যক্তিগত ১০ রানে ফেরান অপস্পিনার মোহাম্মদ হাফিজ। তখন দলের রান ২৮.৪ ওভারে ১৮৯ রান। তখনও রানের চাকা সচল ছিলো। ঝড় তোলার জন্য নির্দিষ্ট পজিশন থেকে আগে ব্যাট করতে নামানো হয় গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে। ঝড় তোলার আভাস দিয়েই শুরু করেন ম্যাক্সওয়েল। কিন্তু ১০ বলে ২০ রান বিশ্বকাপে শাহীন আফ্রিদির প্রথম শিকার হয়ে ফেরেন ম্যাক্সি। তবে একপ্রান্ত আগলে ধরে খেলেতে থাকা ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার তুলে নেন বিশ্বকাপের প্রথম সেঞ্চুরি। ১১১ বলে ১১ চার ও এক ছয়ে ১০৭ রান করে শাহীন আফ্রিদির বলে ইমাম উল হকের তালুবন্দি হয়ে ফেরেন তিনি। শেষদিকে শন মার্শের ২৩, ওসমান খাজার ২০ ও অ্যালেক্স কেরির ২০ রানের সুবাধে সবকটি উইকেট হারিয়ে ৩০৭ রান করতে সক্ষম হয় অজিরা।

পাকিস্তানী বোলারদের মধ্যে মোহাম্মদ আমির ৫টি, শাহীন আফ্রিদি ২টি, ওয়াহাব রিয়াজ, হাসান আলি ও মোহাম্মদ হাফিজ একটি করে উইকেট শিকার করেন্।

৩০৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা্ একদমই ভালো হয়নি পাকিস্তানের। ইনিংসের তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে ২ রানের মাথায় পেট কমিন্সের বলে কেন রিচার্ডসনের তালুবন্দী হয়ে ফেরেন শূন্য রানে ফেরেন ওপেনার ফখর জামান। তার আউটের পর দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন ওয়ানডাউনে নামা বাবর আজম ও আরেক ওপেনার ইমাম উল হক। চাপহীনভাবে ব্যাট চালাতে থাকেন বাবর। প্রথম ১০ ওভারে দু’জনের ব্যাটে দলীয় স্কোর বোর্ডে জমা হয় ৫৬ রান। কিন্তু দলকে যখন বিপদমুক্ত করে আলোর পথ দেখাচ্ছিলেন তখনই কোল্টার নেইলের শর্ট বলে বিগ শর্ট খেলতে গিয়ে রিচার্ডসনের হাতে ক্যাচ দিয়ে দলকে ফের বিপদে রেখে মাঠ ছাড়েন বাবর। তৃতীয় উইকেট জুটিতে হাফিজ-ইমাম মিলে দলকে টেনে নিয়ে যান ১৩৬ রান পর্যন্ত। এই জুটিতে জয়ের আভাস পাচ্ছিলো পাকিস্তান। কিন্তু ইমামকে ফিরিয়ে ৮০ রানের জুটি ভাঙেন পেট কমিন্স। ইমাম তুলে নেন বিশ্বকাপের প্রথম ফিফটি। ৭৫ বলে ৭ চারে করেন ৫৩ রান। তার আউটের পর পাকিস্তান ব্যাটিংয়ে নেমে আসে ধস। ১৪ রানের মধ্যে হারায় ৩ উইকেট। হাফিজ ৪৬, মালিক (০) ও আসিফ আলি ফেরেন ৫ রান করে। এরপর হাসান আলিকে নিয়ে ৪০ রানের জুটি গড়েন সরফরাজ আহমেদ। হাসান আলি ১৫ বলে ৩ ছয় ও ৩ চারে ৩২ রান করে রিচার্ডসনের শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন।


আরো সংবাদ