২৬ জুন ২০১৯

যে অভিবাসী ক্রিকেটারকে নিতে ইংল্যান্ড দলে পরিবর্তন

সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৯-এর দলে ডেকেছে জোফরা আর্চারকে। বাদ পড়েছেন ডেভিড উইলি ও জো ডেনলি।

বার্বাডোজে জন্ম নেয়া আর্চার ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার অনুমতি পান মার্চ মাসে, মাত্র তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেই ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন আর্চার। ইংল্যান্ড দল ঘোষণার পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন জোফরা আর্চার।

তার না থাকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে ক্রিকেট অঙ্গনে। ১৫ সদস্যের দলে জায়গা পেয়েছেন টম কারানও। একজন বিশেষজ্ঞ স্পিনার ডসনকে নেয়া হয়েছে দলে। ইয়ন মরগানের নেতৃত্বাধীন ইংল্যান্ড এবার বিশ্বকাপে যাচ্ছে ফেভারিট হিসেবে।

কীভাবে জোফরা আর্চার দলে ঢুকলেন?

ইংল্যান্ডের ঘোষিত প্রাথমিক ১৫ সদস্যের স্কোয়াডে ছিলেন উইলি ও ডেনলি, সাথে ছিলেন ওপেনার অ্যালেক্স হেলস। ড্রাগ টেস্টে ফেল করার পর হেলস জায়গা হারান জেমস ভিন্সের কাছে।

আর্চার প্রাথমিক দলে ছিলেন না কিন্তু তাকে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে একটি ম্যাচে ও পাকিস্তানের বিপক্ষে পাচঁ ম্যাচ সিরিজে সুযোগ দেয়া হয়। মূলত যে ম্যাচটিতে আর্চার নজর কাড়েন সেই ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়।

পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটিতে গতি ও সুইংয়ের মিশেলে দারুণ বোলিং করেন আর্চার। ঘন্টায় ৯০ মাইলের বেশি গতিতে বল করেন তিনি।

জোফরা আর্চার, ক্রিস ওকস, মার্ক উড, লিয়াম প্লাঙ্কেট ও টম কারানের সাথে যোগ দেবেন ইংল্যান্ডের পেস বোলিং বিভাগে।

সুযোগ পাওয়ার পর জোফরা আর্চার বলেন, ‘এতো তাড়াতাড়ি এটা হবে আমি ভাবিনি, আমার তো মনে হচ্ছিল আমার সাত বছর লাগবে।’

‘যদিও আমি তৈরি ছিলাম অপেক্ষার জন্য, সবাই বেশ খুশি মনে আমাকে গ্রহণ করছে।’

‘আমি এতো দ্রুত কিভাবে বল করি আমি জানিনা, আমার শুধু মনে হয় আমি যদি নিজের শরীরের খেয়াল রাখি, তাহলে আমার শরীর আমার খেয়াল রাখবে।’

বেন স্টোকসও যেহেতু পেস বল করেন, সেক্ষেত্রে ইংল্যান্ডের কোচ ট্রেভর বেলিস ভেবেছেন সাতজন পেস বোলার হলে সেটা অতিরিক্ত হয়ে যাবে এজন্য উইলিকে বাদ দিতে বাধ্য হয়েছে।

২০১৫ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে বাদ পড়ার পর উইলি নিয়মিত ইংল্যান্ড দলে খেলেছেন এবং ইংল্যান্ডের এই উত্থানের পেছনে তার অবদান রয়েছে, সেক্ষেত্রে তার বাদ পড়াটা দুর্ভাগ্যজনক মনে করা হচ্ছে।

২০১৫ বিশ্বকাপের পর সবাই ৪০টির বেশি ম্যাচ খেলেছেন, বাদ পড়েছেন শুধু হেলস ও উইলি।

যদিও পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচেই উইলি একটি ভালো স্পেল করেছেন, যা ইংল্যান্ডের জয়ে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

কীভাবে বেড়ে উঠেছেন আর্চার

আর্চারের বাবা ব্রিটিশ, মা বার্বাডোজের। দ্রুতই ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেটের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলেছেন জোফরা আর্চার। বার্বাডোজে আর্চারের বল নেটে খেলার সময় লক্ষ্য করেন ইংলিশ ক্রিকেটার ক্রিস জর্ডান।

সেসময়ই তাকে নিয়ে উচ্চাশার কথা প্রকাশ করেন জর্ডান। পরবর্তীতে আর্চারও বেড়ে ওঠেন জর্ডানকে অনুসরণ করে সাসেক্স দলে। খানিকটা উচুঁ অ্যাকশনে বল করেন আর্চার, ২০১৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে অনুর্ধ্ব ১৯ দলে সুযোগ পান তিনি। কিন্তু পিঠের একটি ইনজুরির কারণে বার্বাডোজের দল থেকে বাদ পড়েন তিনি। এরপরই আর্চার সাসেক্সে যোগ দেন।

শুরুতে পিঠের ইনজুরির কারণে তার সাথে চুক্তি করেনি সাসেক্স, কিন্তু দ্রুতই তারা আর্চারের মেধা সম্পর্কে জানতে পারে এবং নিজেদের করে নেয়। ২০১৬ সালের শেষদিকে সাসেক্সের মূল দলে যোগ দেন তিনি।

২০১৭ মৌসুমে ৬১ উইকেট পান আর্চার, ব্যাট হাতেও ৪৫ গড়ে রান তোলেন তিনি।


আরো সংবাদ