২১ মে ২০১৯

সন্ত্রাসীদের কোনো দেশ নেই : ইমরান খান

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। শুক্রবার জুমার নামাজের মুহূর্তে ওই হামলায় ৪৯ জন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছে।

ইমরান খান টুইটারে লিখেন, আমি ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় খুবই মর্মাহত এবং এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমরা সব সময় যা বলে আসছি এ ঘটনায় তা আবারো প্রমাণিত হয়েছে যে, সন্ত্রাসীদের কোনো ধর্ম নেই। টুইটরে তিনি হতাহত এবং তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।

ইমরান খান আরো বলেন, নাইন-ইলেভেনের পর থেকে মুসলমানদের ওপর এ ধরনের হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওই হামলার পর এর জন্য মুসলমানদেরকে দোষারোপ করা হয়েছিল। আমি এগুলোর তীব্র নিন্দা জানাই। মুসলমানদের বৈধ রাজনৈতিক সংগ্রামকে নস্যাৎ করতেই তারা এ ধরনের কর্মকা- চালিয়ে থাকে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশিও এ সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়ে হতাহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনিও ইমরান খানের কথায় পুনরাবৃত্তি করে বলেন, সন্ত্রাসীদের কোনো ধর্ম নেই। তাদের কোনো দেশ নেই।

এদিকে পাকিস্তান পিপলস পার্টির চেয়ারপারসন বিলাওয়াল ভুট্টোও এ হামলাকে বর্বর ও নৃশংস বলে উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের হামলা খুবই দুর্ভাগ্যজনক।

 

আরো পড়ুন : সংবাদ সম্মেলন শেষ হতে দেরি হওয়ায় বেঁচে গেলেন তামিমরা
নয়া দিগন্ত অনলাইন, ১৫ মার্চ ২০১৯, ১৪:৪৫

কথা ছিল, সংবাদ সম্মেলনটা শেষ করে জুমা আদায় করতে ঠিক দেড়টা নাগাদ পার্শ্ববর্তী আল নুর মসজিদে যাবেন বাংলাদেশী ক্রিকেটাররা। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনটা দীর্ঘায়িত হয়েছিল বেলা ১টা ৪০ পর্যন্ত। হয়তো সেটাই রক্ষা করেছে বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলকে।

সংবাদ সম্মেলন শেষ করেই জুমা ধরতে বাসে উঠেছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। বাসটি পৌঁছে গিয়েছিল যথাসময়েই। টিম টাইগারের সদস্যরা তখন মসজিদের সামনে পৌঁছেও গিয়েছিলেন। মসজিদে প্রবেশ করবেন, ঠিক সেই মুহূর্তে মসজিদের ভিতর থেকে মধ্য বয়সের এক নারী রক্তাক্ত অবস্থায় টলোমলো পায়ে বেরিয়ে এসে রাস্তায় হুমড়ি খেয়ে পড়ে যান। তামিমরা তখনো বুঝতে পারেননি, আসলে কী ঘটছে ভিতরে। এরপরই ভেসে আসে সতর্কবাণী। একজন চিৎকার করে বলে ওঠেন, মসজিদের ভিতর গুলি চলছে।

অবস্থা দেখে তামিম, তাইজুল, মিরাজরা দ্রুত হেঁটে এসে বাসে উঠে পড়েন। এ সময় পুলিশ ওই রাস্তা বন্ধ করে দেয়। ফলে বেশ কিছুক্ষণ বাসেই বসে থাকতে হয় তামিম, মুশফিকদের। তবে গুলির শব্দ ও আতঙ্কে তারা অনেকটা সময় বাসের ভেতর মাথা নিচু করে বসে ছিলেন। এ ভাবে বেশ কিছুক্ষণ থাকার পর নিরাপদে মাঠে ফিরে আসেন তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলন অনেক ক্রিকেটারের কাছেই একটি অস্বস্তিকর একটি বিষয়। বিশেষ করে দল হারতে থাকলে অস্বস্তি আরো বাড়িয়ে তোলে এসব অনুষ্ঠান। ফলে অনেকে এসব সংবাদ সম্মেলন এড়িয়ে যেতে পারলে বা তাড়াতাড়ি তা শেষ করে দিয়ে আসতে পারলে হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন। কিন্তু শুক্রবার এ ঘটনার পর তামিমদের কাছে ওই সংবাদ সম্মেলনটি অনেক নিশ্চয়ই অনেক মধুর বলে মনে হচ্ছে। কারণ ওই সংবাদ সম্মেলন না থাকলে হয়তো তারা আরো আগেই মসজিদে পৌঁছে যেতেন। এমনকি ঠিক সময়মতো শেষ হলেও হয়তো হামলার মুখে পড়তে হতো বাংলাদেশ টিমকে।

দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুক্রবার সকালে লিটন দাস ও নাঈম হাসান ছাড়া দলের সবাই ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলে ওভাল মাঠে অনুশীলনে করেন। সেখান থেকেই আল নুর মসজিদে যাচ্ছিলেন জুমার নামাজে যোগ দিতে। এ দিনের হামলার পরই টুইট করেন তামিম ইকবাল। এ ঘটনাকে ‘ভয়ের অভিজ্ঞতা’ বলে উল্লেখ করে তিনি লেখেন, পুরো দলই বন্দুকধারীর হামলা থেকে রক্ষা পেয়েছে। সবাই আমাদের জন্য প্রার্থনা করবেন।

চোখের সামনে এমন ঘটনা দেখে কেঁদে ফেলেন দলের অন্যতম সদস্য মুশফিকুর রহিম। মাঠে ফিরেও আতঙ্ক কাটছিল না তাঁর। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মুখপাত্র জালাল ইউনুস জানিয়েছেন, দলের বেশির ভাগ সদস্য মসজিদে যাওয়ার জন্য বাসে ছিলেন। মসজিদে ঢোকার মুহূর্তে হামলার ঘটনাটি ঘটে। আল্লাহর রহমতে সবাই ভাল আছেন। 

এদিকে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চেই শনিবার শুরু হওয়ার কথা ছিল সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট। কিন্তু এ হামলার ঘটনার পর সফর বাতিলের কথা ঘোষণা করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। শীঘ্রই নিরাপদে জাতীয় ক্রিকেটারদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে বিসিবির পক্ষ থেকে। 


আরো সংবাদ




agario agario - agario