২১ মে ২০১৯

বিদেশীরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তায়, তামিমদের দেখে কে?

কোনো নিরাপত্তা ছাড়াই টিম বাসে ফিরছেন তামিম তাইজুলরা - ছবি : সংগৃহীত

বিদেশি কোনো ক্রীড়াদল বাংলাদেশে আসলে তাদের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশের কোনো দল বিদেশে গেলে তাদের জন্য সে পর্যায়ের বা তার নিচের পর্যায়ের নিরাপত্তার ব্যবস্থা আদায় করে নিতে পারেন না বাংলাদেশের কর্মকর্তারা। আজ শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের মসজিদে ভয়াবহ হামলার প্রেক্ষিতে সে সত্যটাই আবার চোখের সামনে ধরা দিয়েছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দল নিউজিল্যান্ড গিয়েছে ৬ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর থেকে টাইগারদের জন্য উল্লেখযোগ্য তেমন কোনো নিরাপত্তার ব্যবস্থা দেখা যায়নি। এমনকি শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলা চালানোর প্রেক্ষিতে যখন বাংলাদেশী দল গাড়িতে পৌঁছলেন এবং সেখান থেকে নিজেদের গন্তব্যে ফিরেন তখনও তাদের পাশে নিরাপত্তাবাহিনীর কোনো সদস্যকে দেখা যায়নি।

টিভি সংবাদে দেখা যায়, হামলার পর তামিম, মিরাজ, তাইজুলরা দ্রুত হেঁটে বাসে ফিরছেন। এ সময় তাদের পাশে বা বাসের পাশে কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা লক্ষ্য করা যায়নি। এ অবস্থায় তাদেরকে আজ মসজিদে জুমা না পড়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে বাংলাদেশী ক্রিকেট দলের সবাই সুস্থ আছে।

পাকিস্তানে কয়েক বছর আগে হামলার প্রেক্ষিতে সেখানে সেই যে আন্তর্জাতিক খেলা বন্ধ হয়েছে, এখনো সেখানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কোনো খেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। এ অবস্থার পরও নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশী ক্রিকেটারদের জন্য নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

ক্রাইস্টচার্চে এ হামলায় নিহতের সংখ্যা ২৭-এ পৌঁছেছে বলেও অনেকে জানিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, দুটি মসজিদে একাধিক হামলা চালানো হয়েছে। তবে এ হামলার সাথে ঠিক কতজন জড়িত তা এখনো পরিষ্কারভাবে জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যক্তি জানান, প্রথমে মসজিদের বাইরে গুলি চালানো হয়। এরপর হামলাকারী মসজিদের ভেতরে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে। মেঝেতে পড়ে থাকা লাশের ওপর একের পর এক গুলি চালিয়ে যায় হামলাকারী। সে তিনবার তার গুলি রিলোড করেছে। সব দিকেই সে গুলি ছুড়েছে বলে জানান ওই প্রত্যক্ষদর্শী।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একজন বন্দুকধারী দৌড়ে মসজিদে ঢুকছে এবং ভেতরের লোকজনের উপর এলোপাতাড়ি গুলি চালাচ্ছে। বন্দুকধারীই নিজে ভিডিওটি করে এবং অনলাইনে লাইভ প্রচার করে বলে জানা গেছে। ওই ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা গেছে যে, এটি একটি সন্ত্রাসী হামলা। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের পুলিশ জানাচ্ছে, প্রচারিত ভিডিওটি এ হামলার না-ও হতে পারে। তাই তারা ওই ভিডিও বেশি প্রকাশ না করতে অনুরোধ করেছেন।

 

আরো পড়ুন : মসজিদে হামলার ঘটনায় বাংলাদেশের তৃতীয় টেস্ট বাতিল
নয়া দিগন্ত অনলাইন, ১৫ মার্চ ২০১৯, ১০:৫৫

শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুরে ক্রাইস্টচার্চে মসজিদ আল নূরে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় নিউজিল্যান্ড ও বাংলাদেশের মধ্যকার তৃতীয় টেস্ট ম্যাচটি বাতিল করা হয়েছে। দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের সমঝোতার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে জানা গেছে। আগামীকাল শনিবার থেকে এই টেস্ট ম্যাচটি শুরুর কথা ছিল।

নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের অফিসিয়াল টুইট বার্তায়ও ক্রাইস্টচার্চ টেস্ট বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড জানায়,‘ক্রাইস্টচার্চে আতঙ্কজনক পরিস্থিতিতে যারা পরিবার ও বন্ধুদের হারিয়েছেন, তাদের প্রতি আমাদের সমবেদনা। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের যৌথ সিদ্ধান্তে ক্রাইস্টচার্চ টেস্ট বাতিল হয়েছে। দুই দলের ক্রিকেটাররা নিরাপদে আছেন।’


হামলার সময় মসজিদটির খুব কাছেই ছিলেন বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা। জুমার নামাজ আদায় করতে মসজিদ আল নূর-এ যাচ্ছিলেন ক্রিকেটাররা। তবে মসজিদে পৌঁছাতে ৫ মিনিট দেরি হওয়ায় হামলা থেকে বেঁচে যান ক্রিকেটাররা। এই ঘটনার পর ক্রিকেটাদের কেউই নিউজিল্যান্ডে থাকতে চাইছেন না বলে জানা গেছে।

এদিকে জনপ্রিয় ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি মোহাম্মদ ইসাম নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডকে বলেছেন,‘আমার মনে হয় না তারা এখন ক্রিকেট খেলার মতো অবস্থায় আছে। তারা যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরতে চায়। আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আমি যা শুনছি তা থেকেই বলছি।’

বাংলাদেশ দলের সদস্যরা কবে দেশে ফিরবেন, সে ব্যাপারে খুব শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবে বিসিবি।




আরো সংবাদ

agario agario - agario