২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

সাকিবের বোলিং পার্টনার হতে পারবেন মিরাজ?

মেহেদী হাসান মিরাজ - ফাইল ছবি

স্পিন বোলিংয়ে সাকিব আল হাসানের বোলিং পার্টনার নিয়ে বাংলাদেশের ‘অভাব’ অনেক দিনের। যুতসই একজন স্পিনার খুঁজে পেতে চেষ্টাও কম করা হয়নি। গত ৮ বছরে ছয় জন স্পিনারের অভিষেক হয়েছে বাংলাদেশ দলে; কিন্তু তাদের কেউই দলে স্থায়ী হতে পারেননি।

তাইজুল ইসলামকে এখনো স্টেটের স্পিন সহায়ক উইকেটের জন্য প্রথম পছন্দ ধরা হয়; কিন্তু সব কন্ডিশনে তিনি ফিট নন। ইলিয়াস সানী আর আরাফাত সানি দারুণ শুরু করলেও পরবর্তীতে হারিয়ে গেছেন। ডান হাতি অফস্পিনার সোহাগ গাজীর শুরুটাও হয়েছিলো দুর্দান্ত; কিন্তু বোলিং অ্যাকশন অবৈধ হওয়ার পর অ্যাকশন পাল্টে তিনি আর আগের মতো ফিরে আসতে পারেননি। লেগস্পিনার জুবায়েরকে পর্যাপ্ত সুযোগই দেয়া হয়নি, তার বিষয়টি বাংলাদেশ ক্রিকেকেটর একটি মেধা অপচায় ছাড়া আর কিছু নয়।

এদের সবার শেষে দলে এসেছেন তরুণ মেহেদী হাসান মিরাজ। বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটিংটাও পারেন, তাই দলে তার পরিচয় অলরাউন্ডার। যদিও বোলিংটাই তার মূল কাজ। ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুই ম্যাচে টেস্ট সিরিজে অভিষিক্ত হয়েই প্রতিভার জানান দেয়া শুধু নয়, রীতিমতো তারকা হয়ে যান মিরাজ। দুই ম্যাচের সিরিজে অভিষিক্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উইকেট নেয়ার রেকর্ড দখলে নেন। টেস্ট ক্রিকেটের কঠিন আর অভিজাত আঙিনায় অভিষেকে এত সুন্দর নৈপুণ্য দেখানো সহজ নয়।

কিন্তু অভিষেকের পরই আবার মিরাজ হাঁটতে শুরু করেন উত্তরসূরীদের রাস্তায়। নিউজিল্যান্ড ও ভারত সফরে পরবর্তী তিন টেস্টে মাত্র ৬ উইকেট, তবে গত বছর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজে আবার ফিরে আসেন মিরাজ। ১০ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে সিরিজ ড্র করতে সাহায্য
করেন। এরপর অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সিরিজেও ২৯ গড়ে নিয়েছেন ৮ উইকেট।

তবে টেস্টে এমন পারফরম্যান্স সত্ত্বেও মিরাজ সীমিত ওভারের ক্রিকেটে নিজেকে কিছুতেই খাপ খাওয়াতে পারছিলেন না। যার ফলে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে সাকিব আল হাসানের বোলিং পার্টনার নিয়ে সেই অভাব থেকেই যাচ্ছিল। নিদাহাস ট্রফি ও আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে দেরাদুন সিরিজ মিলিয়ে ছয় টি-টোয়েন্টিতে মাত্র ১টি উইকেট নেন এই ডান হাতি অফস্পিনার। ওয়ানডেতেও ছিলেন ম্লান। ফলে নাসির হোসেন, সোহাগ গাজীদের হারিয়ে যাওয়া দলে আরো একটি নাম যোগ হবে কিনা সেই সংশয় দেখা দিয়েছিলো।

তবে সেই সংশয়কে বাড়তে না দিয়ে যথাসময়ে ঘুরে দাড়ান মিরাজ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের অ্যান্টিগুয়া টেস্টের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৪৩ রানে অলআউট হওয়ার পর, মিরাজ বল হাতে ১৬ ওভার হাত ঘুড়িয়ে উইকেট শূন্য ছিলেন। তবে দ্বিতীয় দিনে পাল্টে যায় চিত্র। তিন উইকেট নেন মিরাজ। এরপর সিরিজের শেষ টেস্টে ৭ উইকেট নেন তিনি, যার মধ্যে ছিলো অভিষেক টেস্টের পর প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট।

দুই টেস্টে ১০ উইকেট নিয়ে এই সিরিজে বাংলাদেশীদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ছিলেন মিরাজ। যার ফলে ওয়ানডে সিরিজে সুযোগ পান। ওয়ানডেতে তার হিসাবী বোলিং ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানদের লাগাম টেনে রাখতে দারুণ কাজ দেয়। সেই সিরিজে মাত্র ৪ উইকেট নিলেও প্রতি ম্যাচেই রান দিয়েছিলেন মাত্র ওভার প্রতি চার করে। সে প্রসঙ্গে মিরাজ বলেন, সিরিজের আগেই মাশরাফি ভাই আমাকে বলেছিলেন তার সাথে নতুন বলে বোলিং করার সম্ভাবনার কথা। আমি সেভাবে মানসিক প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। দুই আক্রমণাত্মক ওপেনার ক্রিস গেইল ও এভিন লুইসকে বল করার বিষয়ে আগেই প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। বয়সভিত্তিক দল থেকেই নতুন বলে বল করার অভ্যাস ছিলো তাই সমস্যা হয়নি।

দারুণ এই বোলিংয়ের পুরস্কার হিসেবে টি-টোয়েন্টি সিরিজেও একটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পান মিরাজ। এরপর ক্রমশই তার মধ্যে সাকিব আল হাসানের যোগ্য বোলিং পার্টনার হওয়ার আশা দেখছেন অনেকে। আসন্ন এশিয়া কাপে মিরাজ বাংলাদেশ দলে স্পিন আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ সেনানী হয়ে উঠতে পারবেন বলেই মনে করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, তার মধ্যে বাংলাদেশের স্পিন ডিপার্টমেন্টের ভবিষ্যত নেতা হওয়ার সম্ভাবনাও দেখছেন অনেকে।

মানসিকভাবেও অনেক পরিণত ও সাহসী মেহেদী হাসান মিরাজ। একটি ঘটনা উল্লেখ করার মতো, গত বছর শ্রীলঙ্কা সফরে মিরাজের অভিষেক সিরিজের এক ম্যাচে লঙ্কান দেয়া ২৮১ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে ১২৭ রানে ৭ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এসময় ২৬ তম ওভারে ক্রিজে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা ও মিরাজ। সে সময় মিরাজ তার অধিনায়ককে বলেন, যে আমরা ম্যাচটা জিততে যাচ্ছি। তার ভাষায়, ‘ভাই শোনেন, ম্যাচটা আমরা জিতবো।’ উত্তেজিত কন্ঠে কথাগুলো বলে স্ট্রাইকিং প্রান্তের দিতে হাঁটতে শুরু করেন এই তরুণ ব্যাটসম্যান।’ মাশরাফি সেদিন দারুণ খুশি হয়েছিলেন এক তরুণের এমন সাহস আর আত্মবিশ্বাস দেখে।
বাংলাদেশ সেই ম্যাচ যদিও জিততে পারেনি, তবে হাফ সেঞ্চুরি করে মিরাজ পরাজয়ের ব্যবধানটা অনেক কমিয়ে এনেছিলেন। সূত্র: ক্রিকইনফো


আরো সংবাদ