২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

নওয়াজ শরিফের স্ত্রীর মৃত্যু : ফেসবুকে আফ্রিদির স্ট্যাটাস

নওয়াজ শরিফের স্ত্রী কুলসুমের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন দেশটির তারকা ক্রিকেটার শাহিদ আফ্রিদি - নয়া দিগন্ত

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের স্ত্রী কুলসুম নওয়াজ (৬৮) মঙ্গলবার লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গত বছর আগস্টে তার ক্যান্সার ধরা পড়েছিল। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন দেশটির তারকা ক্রিকেটার শাহিদ আফ্রিদি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেয়া শোক বার্তায় তিনি কাল লিখেছেন, 'বেগম কুলসুম নওয়াজের মৃত্যুতে আমি গভীর সমাবেদনা জানাচ্ছি। মহান আল্লাহ তার আত্মাকে মাগফিরাত দান করুক। এবং মরিয়ম নওয়াজ শরিফ ও তার পুরো পরিবারকে এই শোক সহ্য করার তৌফিক দান করুক। এই দুঃসময়ে পরিবারটির জন্য আমার দোয়া রইলো।'

উল্লেখ্য, কুলসুম একটি কাশ্মীরি পরিবারে ১৯৫০ সালে লাহোরে জন্ম গ্রহণ করেন। ইসলামিয়া কলেজে পড়াশোনা করেন এবং লাহোরের ফরম্যান খ্রিস্টান কলেজ থেকে স্নাতক হন। ১৯৭০ সালে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উর্দু বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। একই বছর নওয়াজ শরিফের সাথে তার বিয়ে হয়। তার স্বামী নওয়াজ শরিফ ১৯৯০-৯৩, ১৯৯৭-৯৯ ও ২০১৩-২০১৭ মেয়াদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। কুলসুম ও নওয়াজ শরিফের চার সন্তান রয়েছেন। তারা হলেন হাসান, হুসাইন, মরিয়ম ও আসমা।

পাকিস্তানের তিনবারের এই ফার্স্ট লেডির শরীরে ২০১৭ সালে ক্যান্সার ধরা পড়ে। পরে চলতি বছরের ১৪ জুলাই তার হার্ট অ্যাটাক হয়। নওয়াজের পক্ষে নির্বাচন করে তিনি ২০১৭ সালে জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। তবে তিনি ওই সময় শপথ নেননি। এরই মধ্যে তার শরীরে ক্যান্সার ধরা পড়লে তিনি লন্ডনে চিকিৎসা নেয়া শুরু করেন। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

 

আরো পড়ুন : কুলসুম নওয়াজের ইন্তেকাল

দ্য ডন

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের স্ত্রী কুলসুম নওয়াজ ইন্তেকাল করেছেন। এক বছর ধরে ক্যান্সারের সাথে লড়াই করার পর অবশেষে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার লন্ডনের একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। কুলসুম নওয়াজের দেবর ও পাকিস্তান মুসলিম লিগের(এন) চেয়ারম্যান শাহবাজ শরিফ কুলসুমের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য, নওয়াজ শরিফ ও কন্যা মরিয়াম নওয়াজ বর্তমানে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় ইসলামাবাদের আদিয়ালা কারাগারে আছেন। স্বামী ছাড়াও হাসান, হুসাইন, মরিয়াম ও আসমা নামের চার সন্তান রেখে গেছেন কুলসুম নওয়াজ।

পাকিস্তানের জিও টিভি জানিয়েছে, গত এক মাস ধরে তিনি হাসপাতালে ছিলেন। লন্ডনের হার্লি স্ট্রিট ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অবস্থার অবনতি হওয়ায় মঙ্গলবার সকালে কুলসুম নওয়াজকে লাইফ সাপোর্ট দেয়া হয়। ক্যান্সারে আক্রান্ত কুলসুমের অবস্থা আগের রাত থেকেই অবনতির দিকে যেতে থাকে।

গত বছরের আগস্টে ক্যান্সার ধরা পরে তিনবারের এই সাবেক ফার্স্ট লেডির শরীরে। তার পর থেকেই চিকিৎসার সুবিধার্থে তিনি লন্ডেনে থাকছেন। সেখানে তার বেশ কয়েকটি অস্ত্রপচার ও অন্তত ৫টি কেমোথেরাপি দেয়া হয়েছে।

গত জুন মাসে আদালতের রায়ে শাস্তি হওয়ার পর নওয়াজ শরিফ ও মরিয়াম নওয়াজ যখন পাকিস্তানে ফিরে আসেন, সে সময় কুলসুম নওয়াজের অবস্থার উন্নতি হয়েছে বলে জানানো হয়েছিলো।

গত বছর আদালত কর্তৃক নওয়াজ শরিফ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ঘোষিত হলে লাহোরে তার আসনে উপ নির্বাচনে জিতে এমপি হয়েছিলেন কুলসুম নওয়াজ। যদিও নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করার আগেই তাকে চিকিৎসার জন্য লন্ডন চলে যেতে হয়। নির্বাচিত হয়েও তিনি আর শপথ নিতে দেশে ফিরতে পারেননি।

 

আরো পড়ুন : মেয়ের ছবি পোস্ট করে সমালোচনার মুখে আফ্রিদি

বুম বুম আফ্রিদি। ব্যাট হাতে এখন আর আগের মতো মাঠ মাতাতে পারেন না তিনি। তবে বল হাতে দুর্দান্ত। উইকেট শিকার করে হাত উপরে তুলে দুই আঙুলে ‘ভি’ দেখিয়ে জয়োৎসব করেন তিনি। তার এই স্টাইল নকল করে ছবি তোলে তার মেয়ে। আর সেই ছবিই টুইটারে পোস্ট করে সমালোচনার মুখে শাহিদ আফ্রিদি।

কেন?

মেয়ের যে ছবি আফ্রিদি পোস্ট করেছেন তাতে পিছনে একটি সিংহকে দেখা যাচ্ছে। আর সেই বন্যপ্রাণীর গৃহবাস নিয়েই যাবতীয় বিতর্ক।

কীভাবে আফ্রিদি এরকম বেআইনি কাজ করে ফলাও করে পোস্ট করতে পারেন তা নিয়ে বইছে সমালোচনার ঝড়।

শুধু তাই নয়, অন্য একটি ছবিতে আবার আফ্রিদিকে একটি শিশু হরিণকে দুধ খাওয়াতেও দেখা গেছে।

গত শনিবার টুইটারে দুটি ছবি পোস্ট করেন আফ্রিদি। যার একটিতে ছিল তার মেয়ের ছবি। আর সে ছবিটির পিছনেই দেখা গেছে লোহার চেন দিয়ে বাঁধা ওই সিংহকে। দেখেই বোঝা যায় বেশ দুর্বল, চুপ করে শুয়ে আছে মেঝেতে। আর তার পাশের ছবিতেই রয়েছে আফ্রিদি নিজে। কোলে একটি হরিণশাবক।

দুটো ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, 'ভালোবাসার মানুষের সাথে সময় কাটানো ভীষণই আনন্দের। আর সবচেয়ে ভালো অনুভূতি হলো, আমার মেয়ে যখন আমারই নকল করছে। এবং অবশ্যই প্রাণীদের যত্ন নিন, আমাদের ভালোবাসা এবং যত্ন ওদেরও প্রাপ্য।'

তার পোস্টের কারণে সমালোচনার মুখে পড়েন আফ্রিদি। ক্যাপশনে যিনি প্রাণীদের যত্ন নেয়ার কথা বলছেন, তিনি বাস্তবে সম্পূর্ণ বিপরীত কাজ করছেন কীভাবে? কারণ তাদের প্রাকৃতিক বাসস্থান অরণ্য। প্রশ্ন তোলেন অনেকে।

একজন লিখেছেন, 'পোষ্য সিংহ আছে আফ্রিদির। যাকে চেন দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। এটা ভীষণই অমানবিক কাজ। বন্যপ্রাণীদের সুরক্ষা দেয়া সংস্থাগুলো কোথায় এখন? বন্যপ্রাণীদের উপর যার এতটুকু সমবেদনা নেই, তার জনপ্রিয়তা এবং প্রতিপত্তিতে ধিক্কার।'

আর এক টুইটার ব্যবহারকারী লিখেছেন, 'নিজেকে পশুপ্রেমী হিসাবে তুলে ধরছেন আর অন্যদিকে বন্যপ্রাণীদের তাদের স্বাভাবিক বাসস্থান থেকে বঞ্চিত করছেন, সিংহটাকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে কতটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। ওর জন্য আমার খুব খারাপ লাগছে।'

এদিকে এই সব সমালোচনার কোনো জবাব দেননি আফ্রিদি। (১১ জুন ২০১৮, প্রকাশিত সংবাদ)


আরো সংবাদ

সকল