২১ নভেম্বর ২০১৮

ভারতীয় ক্রিকেটাররা কে কত বেতন পান?

ভারতীয় ক্রিকেটাররা কে কত বেতন পান? - ছবি : সংগৃহীত

ইংল্যান্ড সফরে ভারতের ফলাফল মোটেই ভালো হয়নি। শুরুতে টি-২০ সিরিজ জিতলেও, তারপরই হারতে হয়েছে ওয়ান ডে সিরিজ। টেস্ট সিরিজও ইতিমধ্যেই হাতছাড়া হয়ে গেছে ৩-১ এর ব্যবধানে। ৪-১ ম্যাচের ব্যবধানে হার বাঁচাতে লড়ছে বিরাট ব্রিগেড। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ম্যাচটিও হারার সম্যক সম্ভাবনা রয়েছে ভারতের। কিন্তু তাতে কী? রোজগার কিন্তু মন্দ করেননি ভারতীয় ক্রিকেটাররা। সম্প্রতি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে গত দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের জন্য ক্রিকেটারদের দেয়া বেতনের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

গত কয়েক মাসের বেতন দেয়ার পাশাপাশি যারা নিয়মিত টেস্ট দলের সদস্য তারা ব়্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে থাকার জন্য আইসিসির তরফে যে বোনাস দেয়া হয়, তার থেকেও অংশ পেয়েছেন। বিসিসিআইয়ের পক্ষ জানানো হয়, টেস্ট দলের প্রত্যেক সদস্যকে অতিরিক্ত ২৯ লক্ষ ২৭ হাজার ৭০০ রুপি করে দেয়া হয়েছে। আর বেতন বাবদ প্রত্যাশিত ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোজগার করেছেন বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, শিখর ধাওয়ানরা। একা কোহলি দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজের জন্য রোজগার করেছেন ১ কোটি ৫ লাখ রুপি। কোচ রবি শাস্ত্রী পেয়েছেন, ২ কোটি ৫ লাখ রুপি।
অন্যান্য ক্রিকেটারদের বেতন তালিকা-

হার্দিক পাণ্ডিয়া : প্রায় ১ কোটি ১০ লক্ষ রুপি
চেতেশ্বর পুজারা : ১ কোটি ১ লক্ষ রুপি
ইশান্ত শর্মা : ১ কোটি ৩ লক্ষ রুপি
জশপ্রীত বুমরাহ : ১ কোটি ৭০ লক্ষ রুপি
দীনেশ কার্তিক : ১ কোটি ১৩ লক্ষ রুপি
অশ্বিন : ১ কোটি ২৫ লক্ষ রুপি
বিরাট কোহলি : ১ কোটি ২৫ লক্ষ রুপি
শিখর ধাওয়ান : ১ কোটি ১২ লক্ষ রুপি।

আরো পড়ুন :
আরেকটি বিরাট পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে ভারত

বিদায়ী টেস্টে শতরানের আলো ছড়ালেন অ্যালিস্টার কুক। তাকে দুরন্ত সঙ্গ দিয়ে সেঞ্চুরি করলেন অধিনায়ক জো রুটও। সেই সুবাদে ভারতের বিরুদ্ধে পঞ্চম টেস্টেও জয়ের পথ প্রশস্ত করে ফেলল ইংল্যান্ড। চতুর্থ দিন চায়ের বিরতির আগে ৮ উইকেটে ৪২৩ রান তুলে দ্বিতীয় ইনিংস ডিক্লেয়ার করেন রুট। ফলে ভারতের সামনে জয়ের লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়ায় ৪৬৪ রান। আর তাতেই থরহরি কম্পমান দশা টিম ইন্ডিয়ার। বড় কোনো অঘটন না ঘটলে সিরিজের শেষ টেস্টেও হার বাঁচানো কঠিন কোহলিদের। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ২ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে রীতিমতো ধুঁকতে থাকে ভারতীয় দল। তৃতীয় ওভারে জেমস অ্যান্ডারসনের বলে পরপর এলবিডব্লু হয়ে বসেন শিখর ধাওয়ান (১) ও চেতেশ্বর পূজারা (০)। স্টুয়ার্ট ব্রডের পরের ওভারেই উইকেটকিপার বেয়ারস্টার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন অধিনায়ক বিরাট কোহলি। রানের খাতাই খুলতে পারেননি তিনি। চতুর্থ দিনের শেষে ৩ উইকেট হারিয়ে ভারতের স্কোর ৫৮। লোকেশ রাহুল ৪৬ ও অজিঙ্কা রাহানে ১০ রানে ব্যাটিং করছেন। এখনও ৪০৬ রানে পিছিয়ে রয়েছে ভারত। হাতে ৭টি উইকেট নিয়ে শেষ দিন ম্যাচ বাঁচাতে লড়বেন রাহানেরা।

তবে সোমবার যাবতীয় ফোকাস ছিল অ্যালিস্টার কুকের ওপর। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগেই সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে জীবনের শেষ ইনিংসেও ইংল্যান্ড সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটান ৩৩ বছর বয়সী বাঁহাতি ওপেনারটি। ইনিংসের ৭০তম ওভারে হনুমা বিহারীকে কাট করেছিলেন ৯৬ রানে দাঁড়িয়ে থাকা কুক। বুমরাহর ওভার-থ্রোয়ের সৌজন্যে সীমানা পেরিয়ে যায় বল। কুকের স্কোরে যোগ হয়ে যায় পাঁচ রান। সেই সঙ্গে তাঁর নামের পাশে লেখা হয়ে যায় কেরিয়ারের ৩৩তম টেস্ট সেঞ্চুরি। প্রথম ইনিংসে করেছিলেন ৭১। বড় রানের লক্ষ্যেই এগোচ্ছিলেন কুক। কিন্তু পারেননি। সেই আক্ষেপ মেটালেন সোমবার, প্রথম সেশনেই সেঞ্চুরি পূর্ণ করে। ক্রিকেট কেরিয়ারে শেষবারের মতো উঁচিয়ে ধরলেন ব্যাট। গ্রহণ করলেন কেনসিংটন ওভালের ভরা গ্যালারির ‘স্ট্যান্ডিং ওভেশন’। ইংল্যান্ড অধিনায়ক জো রুট উলটোদিক থেকে এগিয়ে এসে জড়িয়ে ধরেন কুককে। পরিবারের উপস্থিতিতে বিদায়ী টেস্টকে যথার্থ অর্থেই স্মরণীয় করে তোলেন তিনি। কেরিয়ারের প্রথম ও শেষ টেস্টে সেঞ্চুরিকারী মাত্র পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজের নাম ইতিহাসে খোদাই করে নেন তিনি।

কুক ও জো রুটের চওড়া ব্যাটে ভর করে চালকের আসন মজবুত করে ফেলে ইংল্যান্ড। ভারতীয় বোলারদের কার্যত ক্লাব স্তরে নামিয়ে আনেন এই দুই ইংলিশ ব্যাটসম্যান। আগের দিনের ১১৪/২ নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করা কুক ও রুটের দাপটে তরতরিয়ে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ডের স্কোরবোর্ড। কুকের সঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে স্বমহিমায় ব্যাটিং করে যান অধিনায়ক রুট। তিনিও পূর্ণ করেন কেরিয়ারের ১৫তম সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত হনুমা বিহারীর স্পিনে কিছুটা নিস্কৃতি পায় কোহলি ব্রিগেড। দ্রুত রান তোলার চেষ্টায় সুইপ করতে গিয়ে ডিপ-মিড উইকেটে পরিবর্ত ফিল্ডার হার্দিক পান্ডিয়ার হাতে ধরা পড়েন রুট। প্রতিপক্ষ অধিনায়ককে ফিরিয়ে জীবনের প্রথম টেস্ট উইকেটের স্বাদ পান হনুমা। ১৯০ বলে ১২৫ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন রুট। মারেন ১২টি বাউন্ডারি ও একটি ছক্কা। তার আগে কুকের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে তিনি গড়ে তোলেন বিশাল ২৫৯ রানের জুটি। আর তাতেই নিশ্চিত হয়ে যায় ভারতের আরও একটা বিপর্যয়।

রুট ফিরে যাওয়ার পর মনঃসংযোগ হারিয়ে হনুমার পরের বলেই আউট হয়ে বসেন কুক। কাট করতে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বল তার ব্যাটের কানায় লেগে উইকেটরক্ষক ঋষভ পন্থের গ্লাভসে জমা পড়ে। নবাগত হনুমার হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়ে পরিসমাপ্তি ঘটে ক্রিকেট ইতিহাসের এক মহান অধ্যায়ের। ২৮৬ বলে ১৪৭ রান করার পথে কুক মারেন ১৪টি বাউন্ডারি। ড্রেসিং রুমে ফেরার সময় এগিয়ে এসে তাঁর সঙ্গে হাত মেলান ভারতীয় ক্রিকেটাররা। আরো একবার উঠে দাঁড়িয়ে কুককে অভিনন্দন জানান দর্শকরা।

এরপর দ্রুত আরও চারটি উইকেট পড়ে গেলেও ইংল্যান্ডের বড় রানের লিড আটকায়নি। বেয়ারস্টো (১৮), স্টোকস (৩৭), কুরান (২১), আদিল রশিদরা (অপরাজিত ২০) চালিয়ে খেলে চায়ের বিরতির আগেই দলের স্কোর চারশোর গণ্ডি পের করে নিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ৪২৩ রানের মাথায় ইনিংস ডিক্লেয়ার করে দেন অধিনায়ক জো রুট।


আরো সংবাদ