২৪ এপ্রিল ২০১৯

ভারতের ওপর ‘রানের পাহাড়’ চাপিয়ে দিল ইংল্যান্ড1

ব্যাটিং করছেন অ্যালিস্টার কুকে - ছবি : এএফপি

মধ্যাহ্ন বিরতির পর থেকেই অপেক্ষা কখন ইংল্যান্ড ইনিংস ঘোষণা করবে। কিন্তু সেই সময়টা এলো চা বিরতিরও আধাঘণ্টা পর। ততক্ষণে ভারতের মাথার ওপর রানের পাহাড় চাপিয়ে দেয়ার কাজ সম্পন্ন করেছে ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা। সোমবার চা বিরতির পর ওভালে স্বাগতিক ইংল্যান্ড তাদের ইনিংস ঘোষণা করেছে ৮ উইকেটে ৪২৩ রানে। যার ফলে ভারতের সামনে ম্যাচ জেতার জন্য টার্গেট দাড়িয়েছে ৪৬৩ রানের। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এত রান তাড়া করে কেউ কখনো জিততে পারেনি। তার ওপর এই সিরিজে ভারতের যা পারফরম্যান্স, তাতে ম্যাচ জেতার আশা হয়তো কারোই নাই। ম্যাচ ড্র করতে হলে ভারতকে ব্যাটিং করতে হবে আজকের ১৮ ওভার ও মঙ্গলবার পুরো একটি দিন। কাজেই ম্যাচ ড্র করারই এখন বড় চ্যালেঞ্জ ভারতীয় বাহিনীর জন্য।

সিরিজ আগেই জিতে যাওয়ায় এই ম্যাচ জেতার জন্য কোন তাড়াহুড়ো ছিলো না ইংলিশ শিবিরে, যে কারণে তাদের ইনিংস ঘোষণায় হয়েছে বিলম্ব। অষ্টম ব্যাটসম্যান হিসেব স্যাম কারান আউট হওয়ার পরই আসে ঘোষণা। তবে লাঞ্চের পর থেকেই রানের গতি বাড়াতে থাকে দলটি। শেষ দশ ওভারে তারা রান তুলেছে ওভার প্রতি ছয় করে। যে কারণে উইকেটও গেছে বেশ কয়েকটি।

দ্বিতীয় ইনিংসে ইংলিশদের ইনিংস গড়ে তুলেছেন বিদায়ী অ্যালিস্টার কুক ও অধিনায়ক জো রুট। তাদের ২৫৯ রানের জুটিই দলকে চালকের আসনে বসায়। দুজনেই পেয়েছেন সেঞ্চুরি। কুক তার ক্যারিয়ারের শেষ ইনিংসটি স্মরণীয় করে রাখলেন ১৪৭ রানের ঝলমলে একটি ইনিংস খেলে। ২০০৬ সালে অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি পাওয়া এই ব্যাটসম্যান শেষ আর শুরুকে বেঁধে দিলেন সেঞ্চুরির সুতোয়। ২৮৬ বলের ইনিংসটিতে ছিলো ১৪টি চারের মার। জো রুটি খেলেছেন ১২৫ রানের ইনিংস।

তবে আজ মধ্যাহ্ন বিরতির পর অভিষিক্ত ভারতীয় অলরাউন্ডার হানুমা বিহারির পরপর দুই বলে আউট হয়েছে দুই সেঞ্চুরিয়ান। ভারতের জন্য এই ইনিংসে আনন্দের মুহূর্ত বলতে ছিলো ওই একটিই। শেষ পর্যন্ত আটটি উইকেটের পতন ঘটলেও ততক্ষণে ম্যাচ হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম ভারতের। ভারতীয় বোলারদের মধ্যে রবীন্দ্র জাদেজা ও হানুমা বিহারি ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন।

শেষ বিকেলে ৪৬৪ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমেছে ভারত। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তারা দলীয় ২ রানে ৩ উইকেট হারিয়েছে। 
স্কোর : ইংল্যান্ড ৩৩২ ও ৪২৩/৮ ডিক্লে.
ভারত : ২৯২ ও ১/১

সিরিজ : ইংল্যান্ড ৩-১ ব্যবধানে এগিয়েে

আরো পড়ুন: বিদায়বেলা কুকের ব্যাটে রান উৎসব
ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট খেলতে নেমেছিলেন, বলে সবার দৃষ্টি ছিলো অ্যালিস্টার কুকের ওপর। সিরিজের ফলাফল আগেই নির্ধারন হয়ে গেছে বিধায় এই টেস্ট নিয়ে দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ইংলিশ ওপেনার কুক। বিদায় বেলটাকে রঙিন করতে কী দারুণ খেলাটাই না খেলেছেন তিনি। সেই সাথে ঢুকে গেছেন রেকর্ড বইয়ের একাধিক পাতায়।

অথচ এই টেস্ট খেলতে নামার আগে তার ব্যাটে ছিলো রান খরা। এই সিরিজে আগের চার টেস্টে রান পেতে কী সংগ্রামটাই না করেছেন। ০, ১৩, ২১, ১৭, ২৯, ১২, ১৭- এই ছিলো ভারতের বিরুদ্ধে চলতি সিরিজে তার রান। গত এক বছর ধরেই রান খরায় ভুগছিলেন এই ওপেনার। যে কারণে বাধ্য হয়েই অবসরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। কিন্তু বিধাতা হয়তো চেয়েছিলেন তার বিদায়টাকে রঙিন করবে।


সোমবার ভারত-ইংল্যান্ড ওভাল টেস্টের চতুর্থ দিন সকালেই সেঞ্চুরির দেখা পান অ্যালিস্টার কুক। এটিই তার জীবনে শেষবারের মতো ব্যাট করতে নামা, তাই শেষটা রাঙাতে চেষ্টার ত্রুটি করেননি কুক। দারুণ এক সেঞ্চুরি করেছেন। সেই সাথে ঢুকে গেছেন অভিষেক ও শেষ টেস্টে সেঞ্চুরি করা সৌভাগ্যবানদের তালিকায়। কুকের আগে মাত্র চারজন ব্যাটসম্যান এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন।

ভারতের বিপক্ষেই ২০০৬ সালের মার্চে নাগপুরে টেস্ট অভিষেক হয়েছিলো তার। অভিষেক টেস্টে প্রথম ইনিংসে ফিফটি, দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরি। শেষ টেষ্টেও তা-ই! জীবনের প্রথম ও শেষ টেস্টে সেঞ্চুরি করা মাত্র পঞ্চম ব্যাটসম্যান কুক।

একশো বছরেরও বেশি সময় আগে এমন কৃতিত্ব প্রথমবার দেখিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার রেজিনাল্ড ডাফ। তিনি শেষ টেস্টটি তিনি খেলেছেন ১৯০৫ সালে। তালিকায় পরের দুটি নামও অস্ট্রেলিয়ানদের- উইলিয়াম পন্ফোসর্ড ও গ্রেগ চ্যাপেল। তিন অস্ট্রেলীয়র পর এ রেকর্ডটি সাবেক ভারতীয় অধিনায়ক মোহাম্মদ আজহারউদ্দিনের। আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেয়ার সুযোগ হয়নি আজহারের। ২০০০ সালের মার্চে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলা বহুল আলোচিত বেঙ্গালুরু টেস্টই তাঁর শেষ টেস্ট হয়ে আছে, যেটির দ্বিতীয় ইনিংসে করেছিলেন ১০২ রান। ১৮ বছর পর এই বিরল রেকর্ডে নাম তুললেন কুক।

রেকর্ড বইয়ে কুকের আরো একটি অর্জন আছে এই টেস্টে। কুমার সাঙ্গাকারাকে টপকে সবচেয়ে বেশি টেস্ট রানের মালিকের তালিকায় পাঁচ নম্বরে উঠেছেন তিনি। এই ইনিংসে ১৪৭ রানে আউট হয়েছেন। তার মোট টেস্ট রান ১২ হাজার ৪৭২। আউট হয়েছেন অভিষিক্ত ভারতীয় বোলার হানুম বিহারির বলে। ক্যাচ দিয়েছেন উইকেটের পিছনে।

এই টেস্ট খেলতে নামার আগে ছিলেন ছয় নম্বরে, সেরা পাঁচে ওঠার জন্য দরকার ছিলো ১৪৭ রান। এই তালিকায় সবার ওপরে আছেন শচীন টেন্ডুলকার(১৫৯২১ রান)। এরপর যথাক্রমে রিকি পন্টিং(১৩৩৭৮), জ্যাক ক্যালিস(১৩২৮৯) ও রাহুল দ্রাবির(১৩২৮৮)।
এছাড়া বাহাতি ব্যাটসম্যানদের মধ্যেও কুক সর্বোচ্চ টেস্ট রানের মালিক হলেন। এরচেয়ে সুন্দর বিদায় আর কী হতে পারে!


আরো সংবাদ

iptv al Epoksi boya epoksi zemin kaplama Daftar Situs Agen Judi Bola Net Online Terpercaya Resmi

Hacklink

Bursa evden eve nakliyat
arsa fiyatları tesettür giyim
Canlı Radyo Dinle hd film izle instagram takipçi satın al ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme

instagram takipçi satın al
hd film izle
gebze evden eve nakliyat