২২ নভেম্বর ২০১৮

সাকিবের পর তামিমও অনিশ্চিত এশিয়া কাপে

তামিম ইকবাল। ছবি - সংগৃহীত

আঙ্গুলের ইনজুরি আর পিছু ছাড়ছে না বাংলাদেশের। ওই তালিকার নতুন নাম তামিম ইকবাল। ইনজুরিটা এমন পর্যায়ে তামিমের। এশিয়া কাপে তিনি খেলতে পারবেন কি-না সেটা নিয়েই সংশয়। বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, তামিম ইকবালের খেলার সম্ভাবনা ফিফটি-ফিফটি। তামিম শেষ পর্যন্ত রিক্স নেবেন কি-না সেটাই বিষয়।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে নাজমুল অপুকে দিয়ে শুরু। ফ্লোরিডায় অনুস্টিত শেষ টি-২০ ম্যাচে স্পাইকে চাপা পরে তার হাত। ২৬ টির মত সেলাই নেয়া ওই ম্যাচে বোলিং করতে না পারলেও দল জিতেছিল। ওই সফরের সব ম্যাচেই সাকিব আল হাসান খেলেছিলেন আঙ্গুলের যন্ত্রনা নিয়ে। ইনজেকশন নিয়ে খেলে সিরিজটা পার করে দেশে ফিরে এসেই বিসিবি’র শরনাপন্ন অস্ত্রোপাচারের। বিসিবি সভাপতির কিছুটা আপত্তিতে এশিয়া কাপের পর আঙ্গুলের ইনজুরির অস্ত্রোপাচারটা হবে তার সম্ভবত মেলবোর্নে। ফলে ব্যাথানাশক ইনজেকশন নিয়ে খেলবেন তিনি এশিয়া কাপে। এরপরও তার খেলা না খেলার একটা বিষয় আছে।

সাকিব যদি মনে করেন তবে খেলবেন- বিসিবি আপাতত এমন স্বাধীনতা মুখে বলে দিয়েছেন। কিন্তু প্রচণ্ডভাবে তাকে চাচ্ছে দল। ভারত পাকিস্তান শ্রীলঙ্কার মত দলের বিপক্ষে লড়তে সাকিব দলে থাকলে মনবলও বেড়ে যায় দলের। এশিয়া কাপের দল ঘোষনার পর দলে থাকা তরুন ক্রিকেটার নাজমুল হোসেন শান্ত’র আঙ্গুলেও ব্যাথা পেয়েছেন। ডাক্তারের পরামর্শ তার এ ব্যাথা সেরে উঠতে সময় লাগবে। দলের সঙ্গেই আছেন। প্রয়োজন পরলে হয়তো ব্যাথা নাশক ইনজেকশন নিয়ে এশিয়া কাপটা খেলবেন। দলের সঙ্গে থাকা এ ক্রিকেটার ও সাকিবের সর্বশেষ পরিস্থিতি অনুধাবন করেই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান মুমিনুলকে দলভুক্ত করা ১৬ তম ক্রিকেটার হিসেবে। যদি ওই দুই ব্যর্থ হন তাহলে মুমিনুলকে দিয়ে চালিয়ে নেয়ার প্লান থাকবে।

কিন্তু নতুন যুক্ত হলো দুশ্চিন্তার তালিকায় তামিম ইকবালের নাম। তিনিও ফিল্ডিং করার সময় আঙ্গুলে ব্যাথা পেয়েছেন। ডাক্তারের কাছে গেলে সেখান থেকে পরামর্শ আছে বিশ্রামে থাকার। সামান্য ক্রাক আছে। কিন্তু সেটা সেরে উঠতে বিশ্রাম প্রয়োজন। বিশ্রামটা তামিম আর কখন নেবেন।

১৫ সেপ্টেম্বর প্রথম ম্যাচ। সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাচ্ছে দল একটু আগে ভাগে সেখানের কন্ডিশনে অনুশীলনের জন্য। কিন্তু তামিমের এ অবস্থায় ওপেনিংয়ে কী হবে? হয়তো তামিমও ইনজেকশন নিয়ে খেলবেন। হয়তো না। সব কিছুই ইনজেকশনে কাজ হবে তেমন তো নয়। বাংলাদেশ দলের টপ অর্ডার ভাল করলেই সব ভালো। ফলে ওপেনিং জুটি তথা টপ অর্ডারে ভরসা। কিন্তু সেটা এখণ যে অবস্থা তাতে নতুন জট তৈরী হয়েছে। হেড কোচ স্টিভ রোডস এশিয়া কাপটা কিভাবে এখন পার করবেন সেটাই দেখার বিষয়।

 

আরো দেখুন : সাকিবের এশিয়া কাপ খেলা নিয়ে সংশয়

আর কয়েক দিন পরেই সংযুক্ত আরব আমিরাতে এশিয়া কাপ। এই ট্রুনামেন্টে বাংলাদেশের তারকা খেলোয়াড় সাকিব আল হাসানের অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। দিন দুয়েক আগে সাকিবের একটি ইংরেজি দৈনিকে দেয়া সাক্ষাতকার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।ঐ সাক্ষাতকারে সাকিব বলেন তিনি মাত্র ২০-৩০ ভাগ ফিট। ফিটনেস নিয়ে করা এমন মন্তব্যে বিসিবি ‘বিব্রত’ বলে জানিয়েছেন বিসিবির মিডিয়া কমিটির প্রধান জালাল ইউনুস।

বোর্ডকে না জানিয়ে নিজের ফিটনেস নিয়ে মিডিয়াতে মন্তব্য করায় বিব্রত বোর্ড। জালাল ইউনুস বলেন, সাকিব তার ফিটনেসের ব্যাপারে আমাদেরকে অবগত করেনি। সে যেকোন সময় তা আমাদের জানাতে পারতো। সে খেলার জন্য ২০ থেকে ৩০ ভাগ ফিট এটা আমাদেরকে আগে জানালে ভালো হতো। অথবা বলতে পারত যে সে খেলতে পারবে না।


বাংলাদেশের কোচ স্টিভ রোডস মনে করেন, পুরোপুরি না হলেও ৬০-৭০ ভাগ সুস্থ সাকিব আল হাসান দলের জন্য প্রধান সম্পদ ও শক্তি। আসন্ন এশিয়া কাপ ক্রিকেটের আগে আজ মিরপুরে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে এমন কথা বলেন রোডস। সাকিবের দলে থাকাটা অনেক বড় কিছু বলে মন্তব্যও করেন তিনি। যেমনটা করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। তিনি বলেন, ‘সাকিব থাকায় পুরো দলই অনেক উজ্জীবিত।’

আঙ্গুলের ইনজুরির জন্য এশিয়া কাপে সাকিবের থাকা, না থাকা নিয়ে আলোচনা ছিলো ব্যাপক। শেষ পর্যন্ত তাকে দলে রাখে বাংলাদেশ। বোর্ড প্রধান, দলের ফিজিও, চিকিৎসক ও নির্বাচকরা আলোচনার পর সাকিবের থাকা নিশ্চিত করেন।

সাকিবের থাকাটাই দলের জন্য চালিকা শক্তি বলেন মনে করেন কোচ রোডস, ‘আমি বিশ্বাস করি সাকিব পুরো শতভাগ ফিট নয়। এও সত্যি যে ৬০-৭০ ভাগ সুস্থ সে। সে যতটুকুই সুস্থ হোক না কেন, দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় সে। সাকিব দলের প্রধান সম্পদ ও শক্তি। দলের জন্য সে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একজন সদস্য।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের পর পবিত্র হজ পালন করে পরবর্তীতে পরিবারের সাথে দেখা করতে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান সাকিব। তাই এশিয়ার কাপের জন্য বাংলাদেশের অনুশীলন ক্যাম্পে যোগ দিতে পারেননি সাকিব। অনুশীলনে সাকিবের না থাকাটা দলের উপর কোন নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে রোডস বলেন, ‘সাকিব অনুশীলন করেনি। এটি কোন নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। ড্রেসিং রুমেও এ ব্যাপারে নেতিবাচক কোন আলোচনা নেই। পারফরমার সাকিব দলের সবার কাছে অনেক প্রিয়।’

 


আরো সংবাদ