২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

এশিয়া কাপ নিয়ে যা বললেন মাশরাফি

মাশরাফি বিন মর্তুজা। ছবি - সংগৃহীত

আসন্ন এশিয়া কাপ ক্রিকেটের শুরুটা জয় দিয়ে করতে চান বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। আজ মিরপুরে এশিয়া কাপ নিয়ে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে এমন কথা বলেন মাশরাফি।

তিনি বলেন, ‘প্রথম ম্যাচটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এশিয়া কাপে কেমন করব, সেটা নির্ভর করবে শ্রীলংকার বিপক্ষে ম্যাচের পারফরম্যান্সের উপর। আমরা যদি ম্যাচটা জিততে পারি, তাহলে আমরা শুরুতেই আত্মবিশ্বাস পেয়ে যাব। আমাদের সামর্থ্য আছে ভালো খেলার। আমাদের জন্য প্রথম ম্যাচটা গুরুত্বপূর্ণ। দলে ভালো মানের ক্রিকেটার আছে, যারা ম্যাচ উইনার। যদি প্রথম ম্যাচটা জিততে পারি আমরা তবে আমাদের ভালো করার সুযোগ থাকবে।’

আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে এশিয়ার কাপের ১৪তম আসর। উদ্বোধনী দিনই মাঠে নামছে বাংলাদেশ। ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শ্রীলংকা। লংকানদের বিপক্ষে জয় দিয়ে শুরু করতে চান বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি। শুরুটা দুর্দান্ত হলে টুর্নামেন্টে আত্মবিশ্বাসী হয়ে পথ চলতে পারবে বাংলাদেশ বলে মনে করেন ম্যাশ।
নিজেদের প্রথম ম্যাচটিই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন মাশরাফি। তিনি বলেন, ‘শ্রীলংকার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটি গুরুত্বপূর্র্ণ। ভারত অনেক শক্তিশালী দল, পাকিস্তানও ভাল দল। তবে আমি মনে করি এই দু’দলকে হারানোর সামর্থ্য আমাদের আছে। আমরা এই দুই দলের চেয়ে খুব বেশি পিছিয়ে নেই। এ জন্য টুর্নামেন্টের শুরুটা ভালোভাবে করতে হবে আমাদের।’

২০১২ ও ২০১৬ সালের আসরে ফাইনালে উঠেছিলো বাংলাদেশ। কিন্তু শিরোপার স্বাদ নিতে পারেনি তারা। তাই আসন্ন আসরে আরও ভালো কিছু করার ব্যাপারে আশাবাদী বাংলাদেশ। যা বলেছেন দলের অন্যরাও। কিন্তু এখনই ফাইনাল বা শিরোপা নিয়ে ভাবতে রাজি নন মাশরাফি। তিনি বলেন, ‘আগে দু’বার ফাইনাল খেলেছি আমরা। এটি কোন প্রভাব ফেলবে না। কারণ এটি নতুন টুর্নামেন্ট, নতুন জায়গা। এখানে সব কিছুই নতুন করে শুরু করতে হবে। আমার মূল ভাবনা, প্রথম ম্যাচ নিয়ে। আমরা শুরুটা কিভাবে করবো, এটি এখন আসল। আমাদের মূল মিশন শুরু প্রথম ম্যাচ দিয়েই। এই ম্যাচটিই আমাদের গতিপথ ঠিক করে দিবে।’

আঙ্গুলের ইনজুরির কারনে পুরোপুরি ফিট নন বাংলাদেশের সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তারপরও তাকে দলে রেখেছে বাংলাদেশ। সাকিবের দলে থাকাটাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন মাশরাফি। তিনি বলেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে সাকিবের পারফরম্যান্স ছিল দারুণ। দলের জয়ে তার অনেক অবদান ছিল। যদি ঐ পারফরম্যান্স এশিয়া কাপে থাকে, তাহলে খুবই ভালো। সাকিবের খেলার সিদ্ধান্ত, সাকিবের নিজের। সাকিব থাকলে পুরো দলই অনেক উজ্জীবিত হয়ে ওঠে।’

 

আরো দেখুন : মাশরাফি-সাকিব-রিয়াদ-তামিমকে নিয়ে যা বললেন মুশফিক

অমিয় চক্রবর্তী, বুদ্ধদেব বসু, জীবনানন্দ দাশ, বিষ্ণু দে ও সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রবীন্দ্র ধারার বাইরে গিয়ে আধুনিক বাংলা কবিতা রচনা করে পঞ্চপাণ্ডব উপাধি পেয়েছেন। তাহলে ক্রিকেটে মাশরাফি বিন মর্তুজা, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহীম ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ কেন পঞ্চপাণ্ডব নয়। বাংলা কবিতায় যখন রবীন্দ্রনাথের বাইরে কিছু হচ্ছিল না তখন ওই পাঁচজনই যেমন বাংলা সাহিত্যে নতুন যুগের উন্মেষ ঘটান, তেমনি ক্রিকেট জগতেও এই পাঁচজনের কাঁধে চড়েই বিশ্বক্রিকেটে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ।

অন্ধকার ঠেলে, খাদ থেকে উঠে দাঁড়িয়ে ক্রিকেট-বিশ্বে আবির্ভূত হয়েছে নতুন পরাশক্তি হিসেবে। ভবিষ্যতেও তাদের হাত ধরেই আরো ভালো কিছু করার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। এই পঞ্চপাণ্ডবের একজন মুশফিকুর রহীমের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ১০ বছর ধরে মাশরাফি-সাকিব-তামিম-মাহমুদুল্লাহদের সাথে খেলার অভিজ্ঞতা কেমন?


বাংলাদেশের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যান ও সাবেক অধিনায়ক মুশফিকের মতে, মাশরাফি হচ্ছেন অতুলনীয়। আর সাকিব-তামিম-মাহমুদুল্লাহরা বিশ্বসেরা ক্রিকেটার। ক্রীড়াবিষয়ক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিক ইনফোকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানান মুশফিক।

পঞ্চপাণ্ডব নিয়ে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে জাতীয় দলকে সার্ভিস দেয়া মুশফিকের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘গত চার-পাঁচ বছর ধরে আমার ধারাবাহিক ভালো খেলার পেছনে এই চার ক্রিকেটারের ভূমিকা রয়েছে। কৃতজ্ঞতা তাদের প্রতি। ম্যাচ সহজ হয়ে যায় যখন আপনি সাকিব, রিয়াদ ভাই অথবা তামিমের সাথে ব্যাট করেন।

ক্রিকেট একার খেলা নয়। ভালো পার্টনারশিপ গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সবারই ম্যাচ জয়ের ক্ষেত্রে বড় অবদান রয়েছে। গত চার-পাঁচ বছর ধরে আমাদের পাঁচজনের প্রত্যেকেই কঠোরভাবে চেষ্টা করেছি। এমন একটি প্রজন্মের ক্রিকেটারদের সাথে খেলতে পারাটা অনেক বড় কিছু। মাশরাফি ভাই অতুলনীয়। সাকিব-তামিম ও রিয়াদ ভাই প্রত্যেকেই বিশ্বমানের খেলোয়াড়।’

বাংলাদেশের ক্রিকেটে কোনো-না-কোনোভাবে এই পাঁচের অবদান অনস্বীকার্য। জয়ের ভূমিকায়, কিংবা খাদের কিনার থেকে টেনে তোলাসহ সব কিছুই নির্ভর করে তাদের ওপর। নতুন করে হাল ধরার মতো কিংবা ক্রিজে বিশ্বস্ততায় মিতালি গড়তে পারছেন না কেউ। তারপরও মাঝে মাঝে দু-একটি ঘটনায় বোর্ড কর্তৃক সরাসরি অথবা পরোক্ষভাবে আহত হয়েছেন এই পাঁচজন। সাকিব তো বেশ কয়েকবার শাস্তিরও সম্মুখীন হয়েছেন। রিয়াদকে নিয়ে হয়েছে ছিনিমিনি খেলা। মাশরাফির নাম-ডাক যতই থাকুক- টি-২০ নিয়ে তার সাথে হয়েছে নাটক। মুশফিকের উইকেট কিপিং ও অধিনায়কত্ব নিয়ে হয়েছে নানা রটনা।

তবে সবার মধ্যে ব্যতিক্রম তামিম ইকবাল। অন্য চারজনের চেয়ে তাকে নিয়ে রটনা একটু কমই হয়েছে। মাঝে তার রান না পাওয়া নিয়ে যতটা না বোর্ড করেছে তার চেয়ে বেশি করেছে মিডিয়া। এসব কিছুই ক্রিকেটের অংশ উল্লেখ করে মাশরাফি বলেন, ‘খেলা খেলতে গেলে এমন কিছু হবেই। এটা ক্রিকেট তথা সব খেলারই অংশ। দিন শেষে আদর্শ খেলোয়াড়ের বৈশিষ্ট্য নিয়েই প্রেরণা খুঁজতে হয়। একজন খেলোয়াড়কে সব কিছু মোকাবেলা করেই সামনে এগোতে হয়।’

তবে সবার মধ্যে ব্যতিক্রম তামিম ইকবাল। অন্য চারজনের চেয়ে তাকে নিয়ে রটনা একটু কমই হয়েছে। মাঝে তার রান না পাওয়া নিয়ে যতটা না বোর্ড করেছে তার চেয়ে বেশি করেছে মিডিয়া। এসব কিছুই ক্রিকেটের অংশ উল্লেখ করে মাশরাফি বলেন, ‘খেলা খেলতে গেলে এমন কিছু হবেই। এটা ক্রিকেট তথা সব খেলারই অংশ। দিন শেষে আদর্শ খেলোয়াড়ের বৈশিষ্ট্য নিয়েই প্রেরণা খুঁজতে হয়। একজন খেলোয়াড়কে সব কিছু মোকাবেলা করেই সামনে এগোতে হয়।’


আরো সংবাদ