১৭ নভেম্বর ২০১৮

ব্যাটিং-বোলিং তাণ্ডবে শীর্ষে নাইট রাইডার্স

নাইটদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট শিকার করেন আলি খান - সংগৃহীত

প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থানটি বেশিক্ষণ কোনো দলই ধরে রাখতে পারছে না। মঙ্গলবার সেন্ট কিটস অ্যন্ড নেভিস প্যাট্রিয়াটস শীর্ষে ছিল। পরদিন স্থানচূত্য হলো তারা। এক নম্বর জায়গাটি দখল করে নিয়েছে ত্রিনিবাগো নাইট রাইডার্স। গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সকে ৬৭ রানে হারিয়ে শীর্ষে উঠেছে তারা। ছয় ম্যাচে জিতে তাদের সংগ্রহ ১২ পয়েন্ট।

কাল টস জিতে নাইটদের ব্যাট করতে পাঠায় ওয়ারিয়র্স। কলিন মুনরোর ব্যাটিং তাণ্ডবে ১৭০ রানে ইনিংস ঘোষণা করে নাইটরা। এই দুর্ধর্ষ ওপেনার ৫৬ বলে ১০ বাউন্ডারি ও চার ছক্কায় ৯০ রান করেন।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে ওয়ারিয়র্স। কেউই বেশিক্ষণ ক্রিজে টিকতে পারেননি। নাইটদের বোলিং তাণ্ডবে ১০৩ রানে গুটিয়ে যায় ওয়ারিয়র্স। সর্বোচ্চ ৩৬ রান করেন রোসন প্রিমোস।

নাইটদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট শিকার করেন আলি খান।

 

আরো পড়ুন : মাশরাফি-সাকিব-রিয়াদ-তামিমকে নিয়ে যা বললেন মুশফিক

অমিয় চক্রবর্তী, বুদ্ধদেব বসু, জীবনানন্দ দাশ, বিষ্ণু দে ও সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রবীন্দ্র ধারার বাইরে গিয়ে আধুনিক বাংলা কবিতা রচনা করে পঞ্চপাণ্ডব উপাধি পেয়েছেন। তাহলে ক্রিকেটে মাশরাফি বিন মর্তুজা, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহীম ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ কেন পঞ্চপাণ্ডব নয়। বাংলা কবিতায় যখন রবীন্দ্রনাথের বাইরে কিছু হচ্ছিল না তখন ওই পাঁচজনই যেমন বাংলা সাহিত্যে নতুন যুগের উন্মেষ ঘটান, তেমনি ক্রিকেট জগতেও এই পাঁচজনের কাঁধে চড়েই বিশ্বক্রিকেটে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ।

অন্ধকার ঠেলে, খাদ থেকে উঠে দাঁড়িয়ে ক্রিকেট-বিশ্বে আবির্ভূত হয়েছে নতুন পরাশক্তি হিসেবে। ভবিষ্যতেও তাদের হাত ধরেই আরো ভালো কিছু করার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। এই পঞ্চপাণ্ডবের একজন মুশফিকুর রহীমের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ১০ বছর ধরে মাশরাফি-সাকিব-তামিম-মাহমুদুল্লাহদের সাথে খেলার অভিজ্ঞতা কেমন?

বাংলাদেশের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যান ও সাবেক অধিনায়ক মুশফিকের মতে, মাশরাফি হচ্ছেন অতুলনীয়। আর সাকিব-তামিম-মাহমুদুল্লাহরা বিশ্বসেরা ক্রিকেটার। ক্রীড়াবিষয়ক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিক ইনফোকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানান মুশফিক।

পঞ্চপাণ্ডব নিয়ে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে জাতীয় দলকে সার্ভিস দেয়া মুশফিকের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘গত চার-পাঁচ বছর ধরে আমার ধারাবাহিক ভালো খেলার পেছনে এই চার ক্রিকেটারের ভূমিকা রয়েছে। কৃতজ্ঞতা তাদের প্রতি। ম্যাচ সহজ হয়ে যায় যখন আপনি সাকিব, রিয়াদ ভাই অথবা তামিমের সাথে ব্যাট করেন।

ক্রিকেট একার খেলা নয়। ভালো পার্টনারশিপ গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সবারই ম্যাচ জয়ের ক্ষেত্রে বড় অবদান রয়েছে। গত চার-পাঁচ বছর ধরে আমাদের পাঁচজনের প্রত্যেকেই কঠোরভাবে চেষ্টা করেছি। এমন একটি প্রজন্মের ক্রিকেটারদের সাথে খেলতে পারাটা অনেক বড় কিছু। মাশরাফি ভাই অতুলনীয়। সাকিব-তামিম ও রিয়াদ ভাই প্রত্যেকেই বিশ্বমানের খেলোয়াড়।’

বাংলাদেশের ক্রিকেটে কোনো-না-কোনোভাবে এই পাঁচের অবদান অনস্বীকার্য। জয়ের ভূমিকায়, কিংবা খাদের কিনার থেকে টেনে তোলাসহ সব কিছুই নির্ভর করে তাদের ওপর। নতুন করে হাল ধরার মতো কিংবা ক্রিজে বিশ্বস্ততায় মিতালি গড়তে পারছেন না কেউ। তারপরও মাঝে মাঝে দু-একটি ঘটনায় বোর্ড কর্তৃক সরাসরি অথবা পরোক্ষভাবে আহত হয়েছেন এই পাঁচজন। সাকিব তো বেশ কয়েকবার শাস্তিরও সম্মুখীন হয়েছেন। রিয়াদকে নিয়ে হয়েছে ছিনিমিনি খেলা। মাশরাফির নাম-ডাক যতই থাকুক- টি-২০ নিয়ে তার সাথে হয়েছে নাটক। মুশফিকের উইকেট কিপিং ও অধিনায়কত্ব নিয়ে হয়েছে নানা রটনা।

তবে সবার মধ্যে ব্যতিক্রম তামিম ইকবাল। অন্য চারজনের চেয়ে তাকে নিয়ে রটনা একটু কমই হয়েছে। মাঝে তার রান না পাওয়া নিয়ে যতটা না বোর্ড করেছে তার চেয়ে বেশি করেছে মিডিয়া। এসব কিছুই ক্রিকেটের অংশ উল্লেখ করে মাশরাফি বলেন, ‘খেলা খেলতে গেলে এমন কিছু হবেই। এটা ক্রিকেট তথা সব খেলারই অংশ। দিন শেষে আদর্শ খেলোয়াড়ের বৈশিষ্ট্য নিয়েই প্রেরণা খুঁজতে হয়। একজন খেলোয়াড়কে সব কিছু মোকাবেলা করেই সামনে এগোতে হয়।’

দেখুন:

আরো সংবাদ