২৭ মে ২০১৯

ভারতকে হারিয়ে সিরিজ নিজেদের করে নিল ইংল্যান্ড

ভারতকে হারিয়ে সিরিজ নিজেদের করে নিল ইংল্যান্ড - এএফপি

চতুর্থ টেস্ট জিতে সিরিজে সমতা ফেরানোর জন্য ভারতের দরকার ছিল ২৪৫। কিন্তু, ২২ রানের মধ্যেই তিন উইকেট পড়ে গিয়ে বেশ চাপে ভারত। চায়ের বিরতির ঠিক আগে ফিরলেন অধিনায়ক বিরাট কোহালিও। দুরন্ত অর্ধশতরানের ইনিংসে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। তবে শেষ রক্ষা হয়নি ভারতের। ৬০ রানে হেরে গেছে ইংল্যান্ডের কাছে। 

ইংল্যান্ডের মাটিতে রান তাড়া করে জয়ের তেমন একটা আশাপ্রদ নজির নেই ভারতের। এর আগে কখনও দু’শোর বেশি রান তাড়া করে ইংল্যান্ডে ম্যাচ জেতেনি তারা। এবারও হলো না। 

১৯৭১ সালে ওভালে ১৭৩ রান তাড়া করে জেতাই ছিল ইংল্যান্ডের মাটিতে শেষ ইনিংসে ব্যাট করে ভারতের সব থেকে বড় জয়। ইংল্যান্ডে মোটে তিনবার শেষ ইনিংসে ব্যাট করে ম্যাচ জিতেছে ভারত। শুধু ভারতের নয়, ইংল্যান্ডের মাটিতে সফরকারী দলের চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করে জয়ের নজির হাতে গোনা। দু’শোর বেশ রান তাড়া করে সফরকারী দল ইংল্যান্ডে ম্যাচ জিতেছে মাত্র আটবার। তাও গত তিন দশকে এমনটা ঘটেছে দু’বার।

এশিয়ার বাইরে রান তাড়া করে ম্যাচ জেতার ইতিহাসও ভারতের চমকপ্রদ নয়। ২০০৩ সালে শেষবার এশিয়ার বাইরে দু’শোর বেশি রান তাড়া করে ম্যাচ জিতেছে ভারত। ২০০৩-০৪ সালে অ্যাডিলেড ওভালে শেষ ইনিংসে ২৩০ রান করে ম্যাচ জিতেছিল টিম ইন্ডিয়া।

এশিয়ার বাইরে ৬১ বার টেস্ট জয়ের জন্য দু’শোর বেশি রানের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ভারতের সামনে। ভারত জিতেছে মাত্র তিনবার। সুতরাং সাউদাম্পটনে ভারতকে জিততে হলে এশিয়ার বাইরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ও ইংল্যান্ডের মাটিতে রেকর্ড রান তাড়া করতে হবে কোহলিদের। ১৯৭৬ সালে পোর্ট অফ স্পেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে শেষ ইনিংসে ৪০৬ রান করে টেস্ট জিতেছিল ভারত। এশিয়ার বাইরে এখনও পর্যন্ত সেটাই ভারতের বৃহত্তম জয়।

কাজটা যে সহজ নয় তা বোঝা গেল ভারতীয় ইনিংসের শুরুতেই। মাত্র ২২ রানের মধ্যে টপ অর্ডারের তিনজন ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে বসে ভারত। খাতা খুলতে পারেননি লোকেশ রাহুল। শিখর ধাওয়ান ১৭ ও চেতেশ্বর পূজারা ৫ রানে আউট হয়েছেন। রাহুলকে বোল্ড করেছেন ব্রড। ধাওয়ান ও পূজারার উইকেট তুলে নিয়েছেন অ্যান্ডারসন। 

উদাম্পটন টেস্টের চতুর্থ দিন ইংল্যান্ডকে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৭১ রানে গুটিয়ে দিয়ে ২৪৫ রানের লক্ষ্য পায় ভারত। কিন্তু মঈনের দারুণ স্পিনে ১৮৪ রানে অলআউট হয় তারা।

আগের দিন মোহাম্মদ সামির উইকেট উদযাপনে শেষ করেছিল ভারত, রবিবারও তার উদযাপনে শুরু হলো চতুর্থ দিনের খেলা। দিনের প্রথম বলেই ডানহাতি এই ফাস্ট বোলার ফেরান স্টুয়ার্ট ব্রডকে। ঋষভ পন্থের কাছে কট বিহাইন্ড হয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি।

৩৭ রানে অপরাজিত খেলতে নামা স্যাম কারানও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। স্কোরবোর্ডে আর মাত্র ১১ রান যোগ করে গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ড। দ্বিতীয়বার দৌড়ে রান নিতে গিয়ে ডাইভ দিয়েও রক্ষা পাননি কারান। ইশান্ত শর্মার থ্রোয়ে রান আউট হন তিনি ৪৬ রান করে।

সামি ৪ উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ভারতের সবচেয়ে সফল বোলার। ইশান্ত নেন ২ উইকেট।

২৪৫ রানের লক্ষ্যে নেমে জেমস অ্যান্ডারসনের আঘাতে ভেঙে পড়ে ভারতের ব্যাটিং লাইনআপ। লোকেশ রাহুল রানের খাতা না খুলে বিদায় নেওয়ার পর চেতেশ্বর পুজারা (৫) ও শিখর ধাওয়ান (১৭) ফেরেন সাজঘরে। ২২ রানে নেই তাদের ৩ উইকেট।

ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ইংল্যান্ডের হাতে গেলেও দারুণ প্রতিরোধে দাঁড়িয়ে যান কোহলি ও রাহানে। দ্বিতীয় সেশন পুরোটাই পার করে দেওয়ার পথে ছিলেন তারা। কিন্তু চা বিরতির কিছুক্ষণ আগে ১০১ রানের এই জুটি ভাঙেন মঈন।

কোহলির গ্লোভসে বল ছুঁয়ে শর্ট লেগে অ্যালিস্টার কুকের হাতে ধরা পড়ে। ভারতীয় অধিনায়ক রিভিউ নিলেও আউটের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। ১৯তম ফিফটি হাঁকিয়ে কোহলি বিদায় নেন ৫৮ রানে। ১৩০ বলের ইনিংসে তিনি চার মারেন ৪টি।

শেষ সেশনের তৃতীয় বলে হার্দিক পান্ডিয়াকে শূন্য রানে দ্বিতীয় স্লিপে জো রুটের ক্যাচ বানান বেন স্টোকস।

তারপর টানা দুই ওভারে আরও দুটি উইকেট তুলে নেন মঈন। ঋষভকে (১৮) কুকের ক্যাচ বানান তিনি। তারপর রাহানেকে এলবিডাব্লিউর ফাঁদে ফেলে ভারতের শেষ আশার প্রদীপ নিভিয়ে দেন ইংলিশ স্পিনার। ১৫৯ বলে ৫১ রানে আউট হন রাহানে।

সামি ৮ রানে মঈনের চতুর্থ শিকার হলে ১৬৩ রানে ভারত হারায় ৯ উইকেট। তারপর জশপ্রীত বুমরাকে নিয়ে রবিচন্দ্রন অশ্বিন কিছুটা সময় পার করেছেন ক্রিজে। কিন্তু নাটকীয় কিছু করতে পারেননি। ২৫ বলে তিনি কারানের শিকার হলে সিরিজ নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড।

প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়া মঈন ৪ উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসেও ইংল্যান্ডের সেরা বোলার। ম্যাচসেরাও তিনি। দুটি করে উইকেট পেয়েছেন অ্যান্ডারসন ও স্টোকস।

আগামী ৭ সেপ্টেম্বর লন্ডনে হবে সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টেস্ট। ক্রিকইনফো


আরো সংবাদ

Instagram Web Viewer
Epoksi boya epoksi zemin kaplama hd film izle Instagram Web Viewer instagram takipçi satın al/a> parça eşya taşıma evden eve nakliyat Bursa evden eve taşımacılık gebze evden eve nakliyat Ankara evden eve nakliyat
agario agario - agario