২০ অক্টোবর ২০১৮

সন্তুষ্টির আড়ালে টেনশনের নাম সাকিব-অপু

সন্তুষ্টির আড়ালে টেনশনের নাম সাকিব-অপু - ছবি : সংগৃহীত

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দীর্ঘ ভ্রমণকান্তি থাকলেও হাসিমুখেই দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারেরা। ক্রিকেটারদের হাসির অর্থ আত্মতৃপ্তি। কারণ সফরটা দারুণ হয়েছে। তিনটি সিরিজের দুটিতেই জিতেছে তারা। তবে এ হাসির আড়ালেও অন্তত দু’জনকে কিছুটা হলেও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মনে হয়েছে। একজন নাজমুল অপু, অন্যজন সাকিব আল হাসান। অপু শেষ টি-২০ ম্যাচে যে ইনজুরিতে পড়েন তাতে অন্তত ২৫টি সেলাই দিতে হয়েছে। সেলাই নিয়েই ফিরেছেন তিনি ব্যান্ডেজ বাঁধা হাত নিয়ে। আগেই জানানো হয়েছিল ব্যান্ডেজ খুলে পর্যবেক্ষণ করেই অনুমান করা যাবে ক’দিন লাগবে তার ম্যাচে ফিরতে। 

সমস্যা সাকিব আল হাসানকে নিয়েও। দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত গত ২৭ জানুয়ারি তিন জাতি ক্রিকেটের ফাইনালে আঙুলে ব্যথা পেয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন। এরপর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাকি সিরিজ ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত নিদাহাস ট্রফির শুরুতে খেলতে পারেননি। তাকে পাঠানো হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ায়। সেখান থেকে ফিরে অবশ্য খেলেছিলেন ম্যাচ। কিন্তু ব্যথা পুরোপুরি সারেনি তার। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরেও ব্যথা নিয়েই খেলেছেন। জানা গেছে ব্যথানাশক ইনজেকশন নিয়ে খেলেছেন তিনি সিরিজ। এখন আর অপেক্ষা করতে চান না। আঙুলে অস্ত্রোপচার না হলেই নয়। সাকিব নিজেই এ ব্যাপারে আগ্রহী। কারণ ব্যথা নিয়ে খেলার চেয়ে ব্যথামুক্ত হয়ে খেলা বেশি জরুরি। সাকিব জানান দিয়েছেন এশিয়া কাপের আগে অর্থাৎ সহসাই এটি করিয়ে ফেলতে চান তিনি। এতে করে সাকিবের এশিয়া কাপ খেলা শঙ্কার মধ্যে পড়ে গেছে। আগামী মাসের ১৫ তারিখে শুরু এশিয়া কাপ। ফলে মাঝে সময় খুবই কম। এর মধ্যে অস্ত্রোপচার করে সেরে ওঠে মাঠে নামা কষ্টকর হয়ে যাবে। 

দেশে ফিরে গতকাল বিমানবন্দরে সাকিব বলেন, ‘আমরা সবাই জানি যে (আমার আঙুলের ইনজুরি) সার্জারি করতে হবে। আলোচনা হচ্ছে। কোথায় করলে ভালো হবে, কবে করলে ভালো হবে সে আলোচনা চলছে। আমার মনে হয় যত তাড়াতাড়ি সম্ভব করে ফেলাই ভালো। এবং সেটি এশিয়া কাপের আগেই হবে।’ সাকিব তার দ্রুত ইনজুরিমুক্ত হয়ে যাওয়ার পক্ষে। তিনি বলেন, ‘এটা দ্রুতই হয়ে যাওয়া উচিত। আমিও চাই না পুরোপুরি ফিট না হয়ে খেলতে।’ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও যুক্তরাষ্ট্র সফরের প্রসঙ্গ তুলে সাকিব বলেন, ‘সব মিলিয়ে বলতে গেলে এ সফরটা সফল বলতে হবে। তিনটা ট্রফির মধ্যে আমরা দুটিতে জিতেছি। দেশের বাইরে তো এমন ফল সাধারণত করি না আমরা। ফলে খুবই সন্তুষ্ট এ পারফরম্যান্সে।’ নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে কতটা সন্তুষ্ট এমন এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই খুশি। হয়তো আরো অবদান রাখতে পারলে আরো ভালো হতো। ওভারঅল যে ধরনের পারফরম্যান্স হয়েছে তাতে আমি খুবই আনন্দিত।’ সাকিব ওয়ানডে সিরিজে রান করেছেন যথাক্রমে ৯৭, ৫৬, ৩৭। এবং টি-২০তে তার রান যথাক্রমে ১৯, ৬০, ২৪। এর আগে টেস্টে তার রান ০, ১২ ও দ্বিতীয় টেস্টে ৩২ ও ৫৪। 

উল্লেখ্য, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে সাকিব একটা বিষয় শতভাগ নিশ্চিত করেছেন যে ওয়ান ডাউনে তার বিকল্প নেই। ওয়ানডেতে তিনি চমৎকার করেছেন ওয়ান ডাউনে। স্থানটা এখন থেকে পাকাও হয়ে গেছে তার। 
উল্লেখ্য, সফর শেষে সবাই ফিরলেও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, তামিম ইকবাল, মাশরাফি বিন মর্তুজা ফিরেননি। ক’দিন বেড়িয়ে দেশে আসবেন তারা।

আরো পড়ুন :

টেস্টে দীর্ঘকায় বোলার চান রোডস

দায়িত্ব পেয়ে প্রথম সিরিজের সাফল্যে উজ্জীবিত বাংলাদেশের হেড কোচ স্টিভ রোডস। গতকাল দেশে ফিরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘টেস্ট সিরিজ আমাদের জন্য বেশ কঠিন ছিল। বেশ ভুগতেও হয়েছে আমাদের। তবে আমি খুবই খুশি হয়েছি যে তারা টেস্টের বাজে অবস্থা পেছনে ফেলে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।’ বাংলাদেশ ওয়ানডেতে দীর্ঘ দিন ধরেই ভালো খেলছে। স্টিভ সেটা জানেন। ফলে এ ভার্সান নিয়ে আশাবাদী ছিলেন তিনি আগ থেকেই। তিনি বলেন, ‘ওয়ানডে সিরিজ জিতব এমন আশা ছিল আগেই। সেটা পূরণে সামর্থ্য হওয়া ছিল চমৎকার। তবে টি-২০ সিরিজটাতে সাফল্য এসে বিস্ময় হয়ে। শেষ দুটি টি-২০তে আমরা সত্যিই ভালো খেলেছি। ফলে দুটি সিরিজে জিততে পেরে আমরা উচ্ছ্বসিত।’ 

টি-২০ ক্রিকেটে দীর্ঘ দিন ধরে ভালো খেলতে পারছে না। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে সিরিজ জয় করল অথচ ঠিক আগের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হতে হয়েছে আফগানিস্তানের বিপক্ষে। ফলে এমন রেজাল্ট বিস্ময়েরই তো! দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে বিশেষ করে শেষ টি-২০ ক্রিকেটে লিটন দাস যে পারফরম্যান্স করেছে তাতে তিনি সন্তুষ্ট প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘লিটনকে নিয়ে আমি খুবই সন্তুষ্ট। শেষ ম্যাচে দুর্দান্ত খেলেছে সে। লিটন ওই ম্যাচে ৩২ বলে করেছিলেন ৬১ রান। ওয়ানডে ও টি-২০ ক্রিকেটে দুই অধিনায়কই বোলারদের চমৎকারভাবে সামাল দিয়েছেন।’ দলের স্পিনারদের নিয়েও ভীষণ খুশি এ কোচ। একই সাথে পেস বোলারদের নিয়েও সন্তুষ্টি জানিয়েছে ইংলিশ কোচ। তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে কী পেসাররা ওয়েস্ট ইন্ডিজে বেশ ভালো কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।’ তবে সফর শেষে নিজের কিছু চাহিদার কথা জানিয়েছেন এ নতুন কোচ। সেটা মূলত টেস্টের জন্যই। কারণ টেস্ট ম্যাচের রেজাল্ট তো সত্যিই বাজে হয়েছে। কোচ বলেন, ‘টেস্ট ম্যাচের জন্য কিছু দ্রুতগতির ও লম্বা পেসার খুঁজে বের করতে হবে আমাদের’। 

শেষটা ভালো হলেও আসলে বার বার তিনি টেস্ট ম্যাচের ব্যর্থতাটা টেনে আনেন। কারণ বাংলাদেশ যে সামর্থ্যরে সবটুকু দিয়ে খেলতে পারেনি এটা তো সত্যি। তিনি বলেন, ‘টেস্ট ম্যাচে আমাদের ব্যাটিংয়ে দুর্বলতা ফুটে উঠেছে। টেস্ট ম্যাচের ব্যাটিংয়ে আরো পরিপূর্ণতা আনতে হবে।’ তিনি নিজের ক্রিকেটারদের ওপর আস্থা রেখে জানিয়েছেন, ‘দলের ক্রিকেটারদের মেধা রয়েছে। প্রয়োজন শুধু ভিন্ন কন্ডিশনে দ্রুত মানিয়ে নেয়া। এটা হলেও আরো ভালো রেজাল্ট হওয়া সম্ভব।’ স্টিভ রোডস প্রথম টেস্টের স্মৃতি ভুলতে পারছিলেন না। তিনি বলেন, ‘আসলে সে টেস্টে টসটা ছিল গুরুত্বপুর্ণ। উইকেট ছিল বাউন্স ও সুইং। কেমার রোচ, গ্যাব্রিয়েল ও কামিন্সকে নিয়ে গড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিং অ্যাটাকট ডিউক বলে খুব ভালো কাজে লাগিয়েছে। তা ছাড়া দ্বিতীয় টেস্টে অ্যান্টিগাতে এমনিতেই বেশির ভাগ দল ব্যাটিংয়ে ঝামেলায় পড়ে।


আরো সংবাদ