২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

নিষিদ্ধ হাথুরুসিংহে!

ক্রিকেট, হাথুরু
চন্দিকা হাথুরুসিংহে - সংগৃহীত

দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে একদিনের সিরিজ শুরুর আগে ধাক্কা শ্রীলঙ্কা শিবিরে। শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য দলের অধিনায়ক দিনেশ চান্দিমাল, কোচ চন্দিকা হাথুরুসিংহে এবং ম্যানেজার আসাঙ্কা গুরুসিঙ্গেকে কঠিন শাস্তি দিয়েছে আইসিসি। চলতি দুটি টেস্টের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে এই তিনজনকে। একইসাথে একদিনের সিরিজে একটি ম্যাচও খেলতে পারবেন না চান্দিমাল।

কেন এমন শাস্তির মুখে পড়েছে শ্রীলঙ্কা দল?

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সেন্ট লুসিয়া টেস্টের তৃতীয় দিন মাঠে নামেনি শ্রীলঙ্কা দল। অধিনায়ক চান্দিমালের বিরুদ্ধে বল বিকৃত করার অভিযোগের প্রতিবাদে মাঠে নামেননি শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটাররা। এই ঘটনার পর তদন্তে নেমে শ্রীলঙ্কা দলের অধিনায়ক, কোচ এবং ম্যানেজারকে শাস্তি দেয় আইসিসি।

এই শাস্তির ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে দুই ম্যাচের চলতি টেস্ট সিরিজে খেলতে পারবেন না এই তিনজন। শুধু তাই নয় প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচে একদিনের সিরিজটি খেলতে পারবেন না লঙ্কান অধিনায়ক চান্দিমাল।

 

আরো পড়ুন : নাটকীয় ম্যাচে লঙ্কানদের হারালো বাংলাদেশ ‘এ’ দল

শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ ‘এ’। সিলেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এ ম্যাচে সফরকারীদের ২ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ দল। চরম উত্তেজনাপূর্ণ খেলায় প্রথম ব্যাটিং করে স্বাগতিকেরা সংগ্রহ করেছিল ২৮০ রান সাত উইকেটে। জবাবে খেলতে নেমে সফরকারীরা অলআউট হয়ে যায় ২৭৮ রানে। এ ম্যাচের শেষ বলে ৩ রান প্রয়োজন ছিল জয়ের জন্য। মাদুশঙ্কা খালেদের বলে মিথুনের গ্লাবসে ক্যাচ দেয়ার মাধ্যমে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সমাপ্তি টানেন।

প্রথম ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ ‘এ’ দলের দুই ওপেনার মিজানুর ও সৌম্য সরকার ৪২ রানের ইনিংস খেলে বিচ্ছিন্ন হয়। সৌম্য নিজেকে ফিরে পেতে ব্যর্থ হয়েছেন এখানেও। ৩৪ বল খেলে ২৪ রান করে আউট হন তিনি। মিজান অবশ্য ৬৭ করে আউট হন। অন্যদের মধ্যে ফজল মাহমুদের ৬৩ বলে ৫৯ করার পর শেষের দিকে আরিফুল হকের দ্রুত ২২ বলে করা ৪৭ রানের ওপর ভর করেই বাংলাদেশ ‘এ’ দলের স্কোর পৌঁছায় ২৮০তে। আরিফুল তার ইনিংসে হাঁকান ৪ ছক্কা ও ৩ চার। শ্রীলঙ্কার বোলারদের মধ্যে থিসারা পেরেরা, মাদুশঙ্কা লাভ করেন একটি করে উইকেট। থিসারা ৮ ওভারে ৪৪ রান দিয়ে নেন ওই উইকেটটি। বোলিংও করেন তিনি ৪ নম্বরে।

এরপর ২৮১ রানের বিশাল চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে খেলতে নেমে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের সূচনা ভালো হয়নি। সামারাবিক্রমা ৫ রানেই আউট। ৩ রান করেছিলেন। উপল থারাঙ্গাও সুবিধা করতে পারেনি এরপর। ১০ রান করে বিদায় নেন তিনিও। থিরমানে কিছুটা ভালো খেলার চেষ্টা করেও সুবিধা করতে পারেনি। দাসুন সানাকা একাই যতদূর টেনে নিয়ে গেছেন দলকে। ৭৮ রানের এক ইনিংস খেলে জয়ের স্বপ্নও দেখিয়েছিলেন। কিন্তু খালেদ আহমেদের বলে আউট হয়ে যান তিনি। আসান, মাদুশঙ্কারা মিলে চেষ্টা করেও কাজ হয়নি। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে খালেদ আহমেদ নেন ৪ উইকেট। ৭২ রানের বিনিময়ে উইকেটগুলো নিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া শরীফুল ইসলাম তিনটি ও আরিফুল হক নেন দুই উইকেট। আরিফুল হক ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। এ জয়ে বাংলাদেশ ‘এ’ দল সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর : 
বাংলাদেশ ‘এ’ ইনিংস : ২৮০/৭ (৫০ ওভার), মিজান ৬৭, ফজল মাহমুদ ৫৯, আরিফুল ৪৭, মিথুন ৪৪, সৌম্য ২৪, জাকির ১৮; মাদুশঙ্কা ১/৬১, তিসারা পেরেরা ১/৪৪। 
শ্রীলঙ্কা ‘এ’ ইনিংস : ২৭৮/১০ (৫০ ওভার), সানাকা ৭৮,প্রিয়াঞ্জন ৪২, থিরমানে ২৯; খালেদ আহমেদ ৪/৭২, শরীফুল ৩/৫৪, আরিফুল ২/৪২।

 

আরো পড়ুন : অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হেড কোচ নাভেদ নেওয়াজ

শ্রীলঙ্কার সাবেক টেস্ট ক্রিকেটার নাভেদ নেওয়াজকে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হেড কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় ২০২০ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ সামনে রেখে বিসিবি ওই নিয়োগ চূড়ান্ত করেছে।

নেওয়াজ কোচিং পেশায় নতুন নয়। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার তার সংক্ষিপ্ত হলেও কোচিং পেশায় বেশ সুনাম আছে। ৪৪ বছর বয়সের এ কোচ শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ ছিলেন ২০০৯ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত। এ ছাড়াও ২০১৪-১৫তে তিনি ব্যাটিং কোচ ছিলেন শ্রীলঙ্কা এমার্জিং খেলোয়াড় স্কোয়াডের। নেওয়াজ ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াতেও কোচিং পেশায় কাজ করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার হাইপারফরম্যান্সের (লেভেল থ্রি) কোচ। খেলোয়াড়ি জীবনে একমাত্র টেস্ট খেলেছেন তিনি বাংলাদেশের বিপক্ষেই ২০০২ এ কলম্বোতে। ওয়ান ডাউনে নেমে ফাহিম মুনতাসির সুমিতের বলে আউট হন ২১ রান করে। বাংলাদেশের অধিনায়ক ছিলেন তখন খালেদ মাসুদ পাইলট। এ ছাড়া তিনটি ওয়ানডে ম্যাচও খেলেছেন তিনি শ্রীলঙ্কার হয়ে। এ ছাড়া প্রথম শ্রেণীতে খেলেছেন তিনি ১৩১ ম্যাচ। সেখানে ছয় হাজার প্লাস রান রয়েছে তার।


আরো সংবাদ