২২ অক্টোবর ২০১৮

সালমাদের জয়ে তামিমদের উল্লাস এখন ভাইরাল (ভিডিও)

এশিয়া কাপ, ক্রিকেট
ড্রেসিং রুমে তামিমদের উল্লাস - সংগৃহীত

জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১ বলে ২ রান। এমন শ্বাসরুদ্ধকর মুহূর্তে চাপ সামলে রেখে কাজটুকু করা খুব কঠিন। সেটা একমাত্র তিনিই বুঝতে পারেন, যিনি সেই সময় ক্রিজে দাড়িয়ে আছেন। এশিয়া কাপের ফাইনালে সেই মুহূর্তটিতে ক্রিজে ছিলেন জাহানারা আলম। বাংলাদেশকে ইতিহাসের পাতায় তুলতে তিনি দুর্লভ সেই মুহূর্তের নায়ক বনে যান। সপাটে চালান ব্যাট, তুলে নেন ২ রান, জয়ের আনন্দে ভাসান পুরো বাংলাদেশকে। চ্যাম্পিয়ন হন এশিয়া কাপে। যে কাজটি অসাধ্য মনে হয়েছিল মাশরাফি-তামিমদের বেলায়। এশিয়া কাপের শিরোপার দোরগোড়ায় গিয়েও শিরোপা ছুঁতে পারেনি তারা। সেই দুঃখ হয়ত এখন কিছুটা হলেও খুচেছে তাদের। কাল সালমাদের জয়ে উল্লাস করেছে তারা, যা এখন ভাইরাল।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের প্রস্তুতিতে ছিল বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারেরা। কিন্তু মাঝে খবর গিয়েছিল তাদের কাছে ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে জিতেও যেতে পারে বাংলাদেশ। অনুশীলন থেকে ফিরে ড্রেসিং রুমের টিভি সেটের সামনে গোল হয়ে বসে পড়েন সবাই।

শেষ ওভারে সালমাদের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৯ রান। দুর্দান্ত খেলা রুমানা দ্বিতীয় বলেই চার মেরে এগিয়ে নেন দলকে। তার আগে প্রথম বলে ১ রান নিয়েছিলেন সানজিদা। শেষ চার বলে প্রয়োজন চার। পরের বলে রুমানা এক রান নিলেও পরের দুই বলে দুই আউট।

তিন রান যখন প্রয়োজন তখন দুই ব্যাটসম্যান সানজিদা আউটের পরের বলে রুমানা দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে রান আউট। ফলে বলে প্রয়োজন পড়ে দুই রানের। ঘটনাবহুল শেষ বলে জাহানারা নেমে দুই রান নিলে ড্রেসিং রুমে টিভির সামনে দাঁড়ানো তামিম মাশরাফিরা নেচে ওঠেন। অনেক দিন পর বিজয়ের হাসিতে তামিম, মুশফিকরা ভুলে যান সব। সেই মুহূর্তটি ভিডিও করেন তামিম, যা এখন ভাইরাল।

সদ্য দেরাদুনে অনুষ্ঠিত আফগানিস্তানের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশ হওয়া বাংলাদেশ দলের দিনকাল মোটেও ভালো না। আসন্ন ঈদটাই মাটি! আফগানিস্তানের মতো এক দলের কাছে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার অনুভব করল কি-না জানা যায়নি যে-বাংলাদেশ কী বাজে কাজটা করেছে। অন্তত একটি ম্যাচ জিতলে মুখ রক্ষা। একটি ম্যাচও যারা জিততে পারে না তাদের এবারের ঈদ কেমন হবে তা নিয়েও সন্দেহের দোলাচাল। লজ্জা পাওয়ার মতো বিষয়। শুধু তামিম, সাকিবরাই নয়। বাংলাদেশের ক্রিকেটই যখন লজ্জায় মাথা অবনত হয়ে পড়েছিল। সেখানে বাংলাদেশের মেয়েরা যে সম্মান বয়ে এনেছে এতে মাশরাফিদের মুখও উজ্জ্বল হয়েছে। পুরুষদের এশিয়া কাপেও যেখানে মাশরাফিরা কোনো দিন পারেনি। সেখানে মেয়েদের এশিয়া কাপেও বাংলাদেশের মেয়েরা এমন সাফল্য পাবে তা কল্পনাতীত।

কারণ ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কান দলের চেয়ে ঢের পিছিয়ে বাংলাদেশের মেয়েরা। সেখানে ওই সব দলকে পেছনে ফেলে ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে বাজিমাৎ করে দেবে সেটা কে ভেবে রেখেছিল। একসাথে খেলা দেখে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটার মাশরাফি, তামিমরা অভিনন্দন জানান।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাসকিন আহমেদ লিখেছেন, ‘আহ কী দারুণ অনুভূতি। আমাদের মেয়েদের অভিনন্দন।’ তাসকিন ছাড়াও মুশফিকসহ আরো অনেক ক্রিকেটার তাদের অনুভূতি জানিয়ে মেয়েদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।

যেখানে ছেলেদের ব্যর্থতায় মুখথুবড়ে পড়েছিল বিসিবি। সেখানে মেয়েদের সাফল্যে তারাও ক্ষাণিকটা নড়েচড়ে বসতে শুরু করেছে। এটাও ঠিক, আফগানিস্তানের মতো একটা দলের সাথে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার যন্ত্রণা কী তা ক্রিকেটাররা অনুধাবন করেছেন। বিসিবিও। সেখানে মেয়েদের এমন সাফল্য ঈদের আনন্দ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিবে ক্রিকেটার ও ক্রিকেটপ্রেমীদের।

দেখুন সেই ভিডিও-

 

অারো পড়ুন : ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের বাঘিনীরা

ইতিহাস রচনা করলো বাংলাদেশের বাঘিনীরা। ভারতকে হারিয়ে এশিয়াকাপের শিরোপা জিতলো সালমাবাহিনী। ৩ উইকেটে ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হলো বাংলাদেশ।

এর আগে টুর্নামেন্টের শুরুতে প্রথমবারের মতো ভারতকে হারায় বাংলাদেশ। পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একটি ম্যাচে হারে সালমারা।

শেষ ওভারে শ্বাসরুদ্ধকর মুহূর্তে বাংলাদেশের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১ বলে ২ রান। সেই সময় চাপ সামলে ২ রান নেন জাহানারা আলম। তার ব্যাটেই রচিত হয় ইতিহাস।

এর আগে ১১৩ রানের সহজ লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে ভারতীয় বোলারদের উপর চড়াও হয় বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটি। পুনম যাদবের এক ওভারেই সাজঘরে ফিরেছেন শামিমা সুলতানা ও আয়েশা রহমান। তিন বাউন্ডারিতে ১৭ রান করেন আয়েশা আর দুই বাউন্ডারিতে ১৬ রান করেন শামিমা।

দলীয় ৩৫ রানে পুনমের শিকার হন আয়েশা আর পরের বলে শামিমা। এর পর ক্রিজে আসেন ফারজানা হক ও নিগার সুলতানা। থেমে ছিলেন না তারা। সুযোগ পেয়েই বাউন্ডারি হাকান। ১৭ বলে ১১ রান করে ফিরে যান ফারজাান। এরপর তাণ্ডব চালান নিগার। চার বাউন্ডারিতে ২৪ রান করে সাজঘরে ফিরেন তিনি। এরপর হাল ধরেন রুমানা আহমেদ। রান আউট হওয়ার আগে তার সংগ্রহ ছিল ২২ বলে ২৩ রান। বাকি কাজটুকু করে দেন টেলএন্ডাররা।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ১১২ রানে গুটিয়ে যায় ভারত। শুরু থেকে তাদের চাপে ফেলে সালমাবাহিনী। একের পর এই উইকেট হারিয়ে কোনঠাসা হয়ে পড়ে ভারত। সর্বোচ্চ ৫৬ করেছেন হারমানপ্রিত কউর। তিনি ছাড়া আর কেউ তেমন রান করতে পারেননি।

বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ দুটি করে উইকেট সংগ্রহ করেছেন জান্নাতুল কুবরা ও রুমানা আহমেদ। একটি করে উইকেট সংগ্রহ করেছেন অধিনায়ক সালমা খাতুন ও জাহানারা আলম।

বাংলাদেশ স্কোয়াড : শামিমা সুলতানা (উইকেটরক্ষক), আয়েশা রহমান, ফারজানা হক, সানজিদা ইসলাম, ফাহিমা খাতুন, জাহানারা আলম, খাদিজাতুল কুবরা, নাহিদা আক্তার, সালমা খাতুন (অধিনায়ক), নিগার সুলতানা ও রুমানা আহমেদ।

 

আরো পড়ুন : হারানোর কিছু ছিল না : সালমা

এশিয়া কাপ একরকম নিজেদের সম্পত্তিই বানিয়ে ফেলেছিল ভারত। ২০০৪ সাল থেকে ছয়টি আসরের সবকটিতে চ্যাম্পিয়ন হয় দলটি। ২০০৪, ২০০৫, ২০০৬ ২০০৮ সালে ওয়ানডে ফরম্যাটের আসরে চ্যাম্পিয়ন ভারত। এরপর ২০১২ ও ২০১৬ সালে টি-২০ ফরম্যাটেও চ্যাম্পিয়ন তারা। মালয়েশিয়ায় আয়োজিত সপ্তম এশিয়া কাপেও ফেবারিট ছিল ভারত। কিন্তু সেই দলের সাম্রাজ্যের পতন হলো বাংলাদেশের হাতে। লিগ পর্বেও ভারতকে (৭ উইকেটে) হারানোয় ফাইনালে মেয়েদের জয়ের প্রেরণাটা একটু বেশিই ছিল।

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে নতুন সূর্যের উদয় হলো রোববার। টি-২০ ফরম্যাটের এশিয়া কাপে ফাইনালে খেলার স্বপ্ন নিয়ে দেশ ছেড়েছিল বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ক্রিকেট দল। সেখানে ট্রফি নিয়ে দেশে ফেরার পর্ব এখন সালমা বাহিনীর। তাদের হাত ধরেই রচিত হলো শিরোপা জয়ের ইতিহাস। প্রথম শিরোপা জয়ী অধিনায়ক হিসেবে ইতিহাসের পাতায় উঠে যাওয়া সালমা খাতুন বলেন, ‘প্রথমবারের মতো আমরা এশিয়া কাপ জিতেছি। আনন্দের কথাটি বলে বোঝাতে পারব না... এটা কতো বড় পাওয়া। আত্মবিশ্বাস ছিল। ভারতের বিপক্ষে লিগ ম্যাচটা আমরা জিতছিলাম। ফাইনালে টার্গেট ছিল ভালো কিছু করব। আমাদের হারানোর কিছু ছিল না কিন্তু ওদের হারানোর অনেক কিছু ছিল। আমাদের যা পাওয়ার ছিল সেটি পেয়েছি।’

ভারতকে ৩ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বড় কোনো শিরোপার দেখা পাওয়া টাইগ্রেসদের এমন ঐতিহাসিক কীর্তিতে খুশি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি)। বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন মেয়েদের শাসরুদ্ধকর জয়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘মেয়েদের ক্রিকেটে এটা গ্রেট অর্জন। সামনে মেয়েদের আরো ভালো খেলতে এই সাফল্য অনেক বেশি অনুপ্রাণিত করবে। মেয়েদের ক্রিকেট নিয়ে আমরা অনেক দিন ধরেই কাজ করছি। আসলে সেভাবে রেজাল্ট পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশ্যই এটা বড় ধরনের প্রেরণা হয়ে থাকবে। আগামীকাল আমাদের বোর্ড মিটিং আছে। ওখানে বিষয়টা নিয়ে আমরা আলোচনা করবো।’

 

আরো পড়ুন : নারী ক্রিকেট দলকে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন

রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ আজ মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে এশিয়া কাপ টি-২০ ক্রিকেটের ফাইনালে ভারতকে তিন উইকেটে হারিয়ে ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করায় বাংলাদেশ প্রমিলা ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। টি-২০ এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশ ভারতকে তিন উইকেটে হারিয়ে এই স্মরণীয় জয় ছিনিয়ে এনেছে। ভারত প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১১২ রান করে। জবাবে বাংলাদেশ ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১১৩ রান করে জয় তুলে নেয়।

এক অভিনন্দন বার্তায়, রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ জাতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের সব খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) টি-২০ এশিয়া কাপ দলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘মহিলা ক্রিকেটাররা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করেছে। আমি তাদের টিম স্পিরিট এবং তাদের অসাধারণ সাফল্যে সত্যিই গর্বিত।’

রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের এই ক্রিকেট দলটি আগামীতেও তাদের এই জয়ের ধারা অব্যাহত রাখবে।

আরো পড়ুন : প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টি২০ এশিয়া কাপে বাংলাদেশ বিজয়ী হওয়ায় জাতীয় প্রমিলা ক্রিকেট দলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন।
আজ মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের কিনারা একাডেমি ওভালে অনুষ্ঠিত টি২০ এশিয়া কাপ ফাইনালে প্রতিপক্ষ ভারতকে তিন উইকেটে হারায় বাংলাদেশ।

রোববার এক বার্তায় জি-৭ সম্মেলনে যোগ দিতে কানাডায় অবস্থানরত শেখ হাসিনা টি২০ এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশ বিজয়ী হওয়ায় জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের খেলোয়ার, কোচ এবং সকল কর্মকর্তার পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিনন্দন জানান।

তিনি বলেন, সমগ্র জাতি বাংলাদেশ দলের টিম স্পিরিট ও অসাধারণ ক্রীড়া নৈপূণ্য দেখে গর্বিত।

শেখ হাসিনা বলেন, খেলাধূলায় বর্তমান সরকারের যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা ও সমর্থন এই ঐতিহাসিক সাফল্য এনে দিয়েছে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ প্রমিলা ক্রিকেট দলের বিজয়ের এই ধারা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।


আরো সংবাদ