২২ জুলাই ২০১৯

চীনের বিকল্প খুঁজছে প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতারা

-

যুক্তরাষ্ট্র-চীনের মধ্যে বাণিজ্যবিরোধ কিছুটা শিথিল হলেও বিশ্বের বৃহৎ দুই অর্থনীতি ভবিষ্যতে বাণিজ্য বিরোধে জড়ালে যাতে জটিলতার মুখে পড়তে না হয় সে জন্য চীন থেকে উৎপাদন কার্যক্রম অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে হিউলেট প্যাকার্ড (এইচপি), ডেল, আসুস ও এসারের মতো শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতারা।
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইস উৎপাদন হাব হলো চীন। ১৯৯১ সালেও দেশটির ইলেকট্রনিকস আমদানি-রফতানি শিল্প খাতের আকার ছিল এক হাজার কোটি ডলার, যা ২০১৭ সালে এক দশমিক ৩৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্যযুদ্ধে জড়ালেও যাতে ডিভাইস উৎপাদন ও সরবরাহ নিয়ে জটিলতায় পড়তে না হয়, সে জন্য উৎপাদন কার্যক্রম অন্যত্র সরিয়ে নিতে চাইছে এইচপি, ডেল, লেনোভো, আসুস, এসার, মাইক্রোসফট, অ্যামাজন, সনি ও নিনটেনডোর মতো শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি কোম্পানি।
দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের বাণিজ্য বিরোধ চললেও গত মে মাসে চীনভিত্তিক হুয়াওয়ের ওপর মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এ বিরোধে নতুন মাত্রা যোগ করে। উভয় দেশ একে অন্যের আমদানি পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়। বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার কারণে হুয়াওয়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। অন্যদিকে ডিভাইস উৎপাদনের জন্য চীন নির্ভরশীল অ্যাপল পড়ে বিপত্তিতে।
যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্যযুদ্ধের জেরে ভবিষ্যতে যাতে বিপত্তিতে পড়তে না হয়, সে জন্য গত মাসে চুক্তিভিত্তিক পণ্য উৎপাদনকারীদের উৎপাদন সক্ষমতার অন্তত ৩০ শতাংশ চীনের বাইরে সরিয়ে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছিল অ্যাপল। পণ্য উৎপাদনের জন্য চীনের বিকল্প খুঁজে নেয়া বেশ ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ কাজ হবে। তারপরও এ বিষয়ে জোর দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এর মূলে রয়েছে যেকোনো পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের বাণিজ্য বিরোধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা।
বৈশ্বিক কম্পিউটার বাজারের শীর্ষ ও তৃতীয় শীর্ষ প্রতিষ্ঠান এইচপি ও ডেল। বাজারটির ৪০ শতাংশ এ দুই প্রতিষ্ঠানের দখলে। উভয় প্রতিষ্ঠান তাদের ল্যাপটপ উৎপাদন সক্ষমতার অন্তত এক-তৃতীয়াংশ চীনের বাইরে সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। চীনে উৎপাদন করা হলেও এইচপির ৪০ শতাংশ ল্যাপটপ বিক্রি হয় উত্তর আমেরিকার বাজারে এবং ডেলের ক্ষেত্রে তা ৪৭ শতাংশ। কাজেই যুক্তরাষ্ট্র-চীন আবার বাণিজ্য বিরোধে জড়িয়ে পড়লে ব্যবসার দিক থেকে নেতিবাচক পরিস্থিতিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে এইচপি ও ডেলের। এসব কারণে চীনের পরিবর্তে তাইওয়ান কিংবা থাইল্যান্ডে উৎপাদন কার্যক্রম সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করছে।


আরো সংবাদ

gebze evden eve nakliyat instagram takipçi hilesi