২৬ জুন ২০১৯

বিদায় নিলো ফণী

দমকা ও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ঝরিয়ে বাংলাদেশ থেকে বিদায় নিয়েছে ফণী। তা-ও পূর্ণগতির ঘূণিঝড় নয়, গভীর নি¤œচাপ হয়ে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশে। ভারতের উডিষ্যায় পূর্ণগতিতে সমুদ্র থেকে স্থলে উঠলেও পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করার আগেই দুর্বল হয়ে পড়ে ফণী। উডিষ্যা উপকূলে স্থলভাগে উঠে ফণীর অনেকক্ষণ অবস্থানই এটাকে দুর্বল করে দেয়।

পশ্চিমবঙ্গে কলকাতার কাছাকাছি প্রবেশ করা সময় এর গতি ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটারে নেমে আসে। এরপর বাংলাদেশে প্রবেশের আগেই ঘূণিঝড়ের অবস্থা থেকে শক্তি হারিয়ে গভীর স্থল নিম্নচাপ হয়ে যায়। ফরিদপুর ও ঢাকা অঞ্চল পর্যন্ত এটা গভীর স্থল নিম্নচাপ অবস্থায় থাকে। ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল এলাকায় প্রবেশ করে দুপুর ১২টায়। বাংলাদেশ সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের আসামের দিকে গেলে এটা আরো দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

ফণী সুপার সাইক্লোন হলেও তাতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে অনেক কম। ভারতে কিছুটা হলেও বাংলাদেশে তুলনামূলক কম হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় হিসেবে ফণীর অন্য একটি রেকর্ড রয়েছে। সাধারণত গভীর নিম্নচাপ থেকে ঝড় হয়ে গেলে তা স্থল উঠে আসতে খুব বেশি সময় নেয় না। কিন্তু ফণী সাগরে ছিল অনেক সময়। বাংলাদেশের স্থল ভাগ থেকে অনেক দুরে ছিল ঘূর্ণিঝড় হওয়ার সময়। ২৭ এপ্রিল চট্টগ্রাম থেকে ফণী ছিল এক হাজার ৯৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণে।

বাংলাদেশে অন্যান্য তিন সমুদ্রবন্দর থেকে ফণী চট্টগ্রামের চেয়ে ১০০ কিলোমিটার কম অথবা বেশি দূরত্বে ছিল। ২৭ এপ্রিল থেকে ৩ মে সকাল ৮টায় উড়িষ্যা উপকূলে উঠে আসার আগে দীর্ঘ প্রায় সাত দিন বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় হিসেবেই কাটিয়েছে ফণী। সাধারণত তীর থেকে কিছু দূর আগে গভীর নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড় হয়ে থাকে। কিন্তু ফণী ছিল ব্যতিক্রম। বাংলাদেশের আবহাওয়া অফিস আবহাওয়া বিশেষ বিজ্ঞপ্তি প্রচারে রেকর্ড গড়েছে। এর আগে কখনো এত বিশেষ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেনি। ফণীর বেলায় আবহাওয়া অফিস ৪৬টি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।

গতকাল সকাল থেকেই মেঘলা আকাশ, অল্প কয়েকটি স্থানে ভারী বৃষ্টি হলেও দেশের সর্বত্র ছিল হালকা থেকে মাঝারি মানের বৃষ্টি। উপকূলীয় জেলাগুলোতে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৪০ থেকে ৪৫ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে গেছে। বৃষ্টির সাথে কোথাও কোথাও বজ্রপাত ছিল। সাগর উত্তাল থাকলেও ফণীর শক্তি হারিয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের চার সমুদ্রবন্দরের বিপদ সঙ্কেত বিকেল থেকেই নামিয়ে ফেলতে বলা হয়। অবশ্য আজ ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সঙ্কেত বহাল থাকবে।

সমুদ্র উত্তাল থাকায় জোয়ারের পানিতে উপকূলীয় অঞ্চল প্লাবিত হওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। আজ রোববার অমাবস্যা ও বায়ুচাপ পার্থক্যের আধিক্যের কারণে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, ভোলা, হাতিয়া, সন্দ্বীপ, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ২ থেকে ৪ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।
ফণী বিদায় নিলেও এর প্রভাবে আজ রোববার সারা দিনই দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হতে পারে। তবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে গতকালে চেয়ে।

আবহওয়া অফিস জানিয়েছে, আজ সারা দেশের দিনের বেলা তাপমাত্রা ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলয়িাস বৃদ্ধি পেতে পারে।

রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ স্থানে এবং খুলনা বিভাগের অনেক স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্র বৃষ্টি হতে পারে। গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা মাইজদীকোর্টে ১২১ মিলিমিটার। চাঁদপুরে ছিল ১০১, কুমিল্লায় ছিল ৮৫, হাতিয়ায় ৭৯, ঢাকায় ছিল ৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টি। আগামী সোমবারের দিকে বৃষ্টিপাত হ্রাস পেতে পারে এবং শুরু হতে পারে আবার গরম।

গতকাল টেকনাফে ছিল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং নিম্নচাপ ছিল রংপুরে ২১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।


আরো সংবাদ