১৮ আগস্ট ২০১৯

কুয়াশার চাদরে ঢাকা পুরো দেশ

কুয়াশার চাদরে ঢাকা পুরো দেশ
ভরদুপুরেও কুয়াশা কাটেনি। তাতেই বা কি আসে যায়। কয়েকটি গাংচিলের বেপরোয়া উড্ডয়ন জানান দেয় ওদেরকেও জীবিকার সন্ধানে হন্যে হতে হয়। পুরান ঢাকার মিল ব্যারাক এলাকার বুড়িগঙ্গা থেকে দৃশ্যটি ধারণ করেছেন আমাদের সিনিয়র আলোকচিত্রী - নাসিম সিকদার - নয়া দিগন্ত

কমতে শুরু করেছে তাপ। অব্যাহত থাকবে আরো দুই দিন। দেশের বিভিন্ন স্থানে বিরাজ করছে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা। গত ২৭ জানুয়ারি সারা দেশে যে উত্তাপ ছিল তাতে মনে হয়েছিল ‘শীত বুঝি গেল’ কিন্তু এক দিনের ব্যবধানেই হ্রাস পাচ্ছে তাপ। ঠাণ্ডা হাওয়া বয়ে নিয়ে আসা উপমহাদশেীয় উচ্চচাপ বলয় এ মুহূর্তে অবস্থান করছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে। গতকাল সোমবার দেশের সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ছিল কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাটে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল টেকনাফে ৩১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৬.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। 

দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর ও বিষুবীয় ভারত মহাসাগর এলাকায় সৃষ্ট একটি লঘুচাপ কয়েক দিন সক্রিয় থাকায় দেশের পূর্ব, উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের প্রবাহিত শৈত্যপ্রবাহ হ্রাস পায় এবং এক সময় তা ভারতের বিহার রাজ্যের আরো উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের দিকে সরে যায়। ফলে বাংলাদেশে বাড়তে থাকে তাপ। সর্বশেষ গত ২৭ জানুয়ারি দেশের সর্বনি¤œ তাপমাত্রা শৈত্যপ্রবাহের মাত্রা থেকে অনেক উপরে উঠে গেলে সারা দেশেই গরম অনুভূত হয়। এটা ছিল মাঘের ১৪। মাঘ মাসে এমন তাপমাত্রার ইতিহাস খুব বেশি নেই। ষাটোর্ধ্ব মানুষকে বলতে শোনা গেছে, ‘তারা মধ্য মাঘে এমন তাপমাত্রা আগে কখনো অনুভব করেননি।’ 

উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা সামান্য কমলেও রাজধানী ঢাকায় এর প্রভাব খুব বেশি পড়েনি। ঢাকায় সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ছিল ১৮.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ২৭ জানুয়ারি ঢাকায় সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ২০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ভোরের দিকে সামান্য একটু ঠাণ্ডা অনুভূত হলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে তাপমাত্রা। সকাল পেরিয়ে দুপুরের দিকে তাপমাত্রা সর্বোচ্চপর্যায়ে উঠলে ঠাণ্ডার পরিবর্তে শরীর ঘামতে শুরু করে। শীতের গরম জামা-কাপড় অথবা জ্যাকেট-স্যুয়েটার খুলে ফেলতে হয়। মধ্য রাজধানীতে যে ধরনের পরিবেশ থাকে সকালে অথবা বিকেলের দিকে রাজধানী বুড়িগঙ্গা অথবা অদূরের শীতলক্ষ্যা নদী তীরের পরিবেশের মধ্যে বেশ পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। শীতলক্ষ্যা অথবা বুড়িগঙ্গার তীরে ঘন কুয়াশার কারণে কিছুটা দূরের বস্তু স্পষ্ট দেখা যায় না। ঝাপসা হয়ে আসে দৃষ্টি। কুয়াশার সাথে ধুলাবালি ও ধোয়া একাকার হয়ে দূরের বস্তুকে আরো ঝাপসা করে দেয়। 

আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সারা দেশের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আংশিক মেঘলা থেকে মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। শেষ রাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে।


আরো সংবাদ

bedava internet