২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ বিশ্বের কোথায় কেমন দেখা যাবে

পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ বিশ্বের কোথায় কেমন দেখা যাবে - সংগৃহীত

মেঘলা আকাশ, তার মাঝেই শুক্রবার মধ্যরাতে চাঁদকে খুঁজবে লক্ষ কোটি দৃষ্টি। কারণ শুক্রবার দিবাগত-রাত থেকে কাল, শনিবার ভোর পর্যন্ত এই শতাব্দীর (২০০১ থেকে ২১০০ সাল) দীর্ঘতম পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। গত প্রায় ৬০ হাজার বছরের মধ্যে দ্বিতীয় বার পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে আসা ‘লাল গ্রহ’ মঙ্গলকে রাতের আকাশে অনেক বেশি উজ্জ্বল হয়ে উঠতে দেখা যাবে। এদিন প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে ছায়াচ্ছন্ন থাকবে চাঁদ। প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা (১ ঘণ্টা ৪৩ মিনিট) ধরে চাঁদ পুরোপুরি ঢেকে যাবে পৃথিবীর ছায়ায়। পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণের আগে ও পরে আরও দুইবার হবে আংশিক চন্দ্রগ্রহণ।

পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ আর আগে-পরের দু’টি আংশিক চন্দ্রগ্রহণ মিলিয়ে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা আলো-আঁধারিতে ঢাকা থাকবে চাঁদ।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের জলবায়ু মহাশাখা জানিয়েছে, শুক্রবার পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ১১টা ১৩ মিনিট ৬ সেকেন্ডে শুরু হওয়া চন্দ্রগ্রহণ শেষ হবে ভোর ৫টা ৩০ মিনিট ২৪ সেকেন্ডে। কেন্দ্রীয় গ্রহণ হবে বাংলাদেশ সময় রাত ২টা ২১ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডে এবং গ্রহণের সর্বোচ্চ মাত্রা হবে ১.৬১৪।আকাশ মেঘমুক্ত থাকলে বাংলাদেশ থেকে গ্রহণটি সম্পূর্ণ দেখা যাবে।

এদিকে নরওয়েভিত্তিক ওয়েবসাইট টাইম অ্যান্ড ডেট ডটকম জানাচ্ছে, শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ১৪ মিনিটে শুরু হবে আংশিক চন্দ্রগ্রহণ। চলবে রাত ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। তারপর শুরু হবে শতাব্দীর দীর্ঘতম পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। তা শেষ হবে রাত ৩টা ১৩ মিনিটে। এরপর আবার ৩টা ১৩ মিনিটে ফের শুরু হবে আংশিক গ্রাস, যা শেষ হবে রাত ৪টা ১৯ মিনিটে।

প্রতিবেশী দেশ ভারতের পেশাদার জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের প্রধান সংগঠন ‘অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি অফ ইন্ডিয়া’ (এএসআই) থেকে  জানানো হয়েছে, শতাব্দীর এই বিরল দু’টি মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হতে পারবে উত্তর-পূর্বাঞ্চল বাদে গোটা ভারত। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী। বাংলাদেশের সর্বত্রই দেখা যাবে এই দীর্ঘতম পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। দেখতে পারবেন এশিয়া, আফ্রিকার একাংশের এবং অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ইউরোপের মানুষও।

এএসআই থেকে বলা হয়েছে, টানা প্রায় ৪ ঘণ্টা ধরে হবে চন্দ্রগ্রহণ। প্রায় পৌনে দু’ঘণ্টা (অঙ্কের সঠিক হিসেবে, ১ ঘণ্টা ৪৩ মিনিট) ধরে চাঁদ পুরোপুরি ঢেকে যাবে পৃথিবীর ছায়ায়। আর তার আগে ও পরে দু’-দু’বার হবে আংশিক চন্দ্রগ্রহণ। দু’টি আংশিক চন্দ্রগ্রহণই হবে ১ ঘণ্টা ৬ মিনিট ধরে।

যার মানে, পূর্ণ আর আগে-পরের দু’-দু’টি আংশিক চন্দ্রগ্রহণ মিলে মোট ৩ ঘণ্টা ৫৪ মিনিট (১ ঘণ্টা ৪৩ মিনিট + ১ ঘণ্টা ৬ মিনিট + ১ ঘণ্টা ৬ মিনিট) আলো-আঁধারিতে ঢাকা থাকবে চাঁদ।

প্রতিবেশী ‘লাল গ্রহ’ মঙ্গলও পৃথিবীর খুব কাছে এসে পড়বে শুক্রবার। কারণ, কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে ওই দিনই পৃথিবীকে মাঝখানে রেখে সূর্যের ঠিক উল্টো দিকে চলে যাবে মঙ্গল, আর ১০০ বছরের মধ্যে যেখানে ‘উপনিবেশ’ বানানোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে মানবসভ্যতার। ফলে, ২৭ জুলাই সন্ধ্যা থেকে ২৮ জুলাই (শনিবার) ভোর পর্যন্ত মঙ্গলকে জ্বলজ্বল করতে দেখা যাবে আকাশে। গ্রহণের রাতে চাঁদ পুরোপুরি পৃথিবীর ছায়ায় ঢাকা পড়লে মঙ্গলকে আরও ভাল ভাবে নজরে পড়বে।

যদিও ‘লাল গ্রহ’ পৃথিবীর সবচেয়ে  কাছে আসবে ৩১ জুলাই, আগামী মঙ্গলবার। সে-দিন পৃথিবী থেকে মঙ্গলের দূরত্ব হবে প্রায় পাঁচ কোটি ৭৬ লক্ষ কিলোমিটার।

এর আগে, ২০০০ সালের ১৬ জুলাই এক ঘণ্টা ৪৬ মিনিট ধরে চলেছিল পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। তার ১১ বছর পর, ২০১১ সালের ১৫ জুন পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ হয়েছিল এক ঘণ্টা ৪০ মিনিট ধরে। এ বার সব ‘রেকর্ড’ ভেঙে চন্দ্রগ্রহণ হবে ৩ ঘণ্টা ৫৪ মিনিটের।

 প্রতিবেশী দেশ ভারতে ২০১৯ সালের ১৭ জুলাই একটি চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে, তবে তা আংশিক। ২০১৯ সালের ২১ জানুয়ারি হবে আরও একটি পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। তবে তা উপমহাদেশ থেকে দেখা যাবে না।

আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তারা বলেছেন, মঙ্গল উপবৃত্তাকার কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করে সূর্যকে। তার ফলে, মঙ্গল তার কক্ষপথে এক বার সূর্যের নিকটতম বিন্দুতে (পেরিহিলিয়ন) থাকে। আর এক বার থাকে দূরতম (অ্যাপিহিলিয়ন) বিন্দুতে। মঙ্গল তার কক্ষপথে পেরিহিলিয়ন বিন্দুতে থাকার কাছাকাছি সময় যদি প্রতিযোগ হয়, তা হলে মঙ্গল আরও কাছে চলে আসে পৃথিবীর। এটাকেই বলে, ‘ফেভারেব্‌ল অপোজিশন বা সুবর্ণ প্রতিযোগ’।   শুক্রবার দিবাগত রাত এই সুবর্ণ প্রতিযোগই হবে মঙ্গলের। তার ফলে, ‘লাল গ্রহ’কে আরও উজ্জ্বল দেখাবে রাতের আকাশে।

আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তারা আরো বলেছেন, ‘মঙ্গল তার কক্ষপথে পেরিহিলিয়ন বিন্দুতে থাকবে ১৬ সেপ্টেম্বর। মঙ্গলের এই সুবর্ণ প্রতিযোগ হয় প্রতি ১৫ বা ১৭ বছর অন্তর। পরবর্তী সুবর্ণ প্রতিযোগ হবে ১৭ বছর পর। ২০৩৫-এর ১১ সেপ্টেম্বর। তখন মঙ্গল ও পৃথিবীর দূরত্ব কমে হবে প্রায় ৫ কোটি ৬৯ লক্ষ কিলোমিটার।’


আরো সংবাদ