০৯ ডিসেম্বর ২০১৯
সংবাদ সম্মেলনে রিজভী

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে নতুন কর্মসূচি

নয়া পল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপির সংবাদ সম্মেলন : নয়া দিগন্ত -

দলের চেয়ারপারসন কারাবন্দী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিতে সরকার বাধা দিচ্ছে অভিযোগ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আপসহীন নেত্রী চারবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার ক্রমান্বয়ে অবনতি ঘটছে। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি হেঁটে আদালতে যাওয়া বেগম জিয়ার হাত-পা এখন বেঁকে গেছে। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে দলের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন তিনি। এ ছাড়া সরকার দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে একের পর সঙ্কট তৈরি করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া প্রিজন সেলে বন্দী থাকায় হাত-পায়ের ব্যথা সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে, জয়েন্টগুলোতে প্রচণ্ড ব্যথার কারণে নিজে উঠে দাঁড়াতে পারছেন না, সোজা হয়ে বসতেও পারছেন না। এমনকি নিজের হাতে তুলে খেতেও পারছেন না। স্বাস্থ্যের এতটাই অবনতি হয়েছে যে, তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পঙ্গু হওয়ার উপক্রম হয়েছে। দেশের প্রতিটি মানুষ তাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রীর স্বাস্থ্যের অবনতিতে চরমভাবে উদ্বিগ্ন।
রিজভী বলেন, জনগণের সেন্টিমেন্ট অবজ্ঞা করে সরকার দেশের একজন জনপ্রিয় নেত্রীর জীবনকে নিঃশেষ করার সব আয়োজনে ব্যস্ত রয়েছে। তার চিকিৎসার অধিকারটুকুও কেড়ে নেয়া হয়েছে। এই সরকার অন্ধ প্রতিহিংসার বশে বেগম খালেদা জিয়াকে ক্রমান্বয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতেই তার সুচিকিৎসা প্রদানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। তার ন্যায্য প্রাপ্য জামিনে সরাসরি বাধা দেয়া হচ্ছে। নগ্নভাবে আদালতের ওপর হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। তার স্বাস্থ্য নিয়ে অসত্য সংবাদ পরিবেশন করতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা এক ভয়াবহ ও সুদূরপ্রসারী চক্রান্তের বর্ধিত প্রকাশ।
তিনি বলেন, মিথ্যা মামলায় দেশনেত্রীকে কারাবন্দী করে মধ্যরাতের নির্বাচনের সরকারপ্রধান শুধু ন্যায়বিচারকেই ক্ষতিগ্রস্ত করেননি, তিনি গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার সুরক্ষার ক্ষতি করলেন। এই সরকার বাংলাদেশকে দাসশিবিরে পরিণত করছে। বেগম খালেদা জিয়া সাহস, সততা ও দৃঢ়তা দিয়ে প্রত্যক্ষ অন্যায় ও অবিচারকে মোকাবেলা করছেন। অত্যাচারী অন্যায়ের রাজত্বে বেগম খালেদা জিয়া এক নির্ভীক কাণ্ডারি। গণতন্ত্র ও নাগরিক স্বাধীনতার প্রখর প্রবক্তা দেশনেত্রী বেগম জিয়া অনুভবে, চিন্তায়, বিশ্বাসে, বাক্যে, আচরণে একদিকে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা, অন্য দিকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে এক অকুতোভয় সিপাহসালার। সুতরাং দেশনেত্রীকে গায়ের জোরে বন্দী করে বিপর্যস্ত করাটাই শেখ হাসিনার প্রধান লক্ষ্য। আমরা প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই, আপনার টালবাহানায় বেগম খালেদা জিয়ার কোনো ক্ষতি হলে আপনার স্বনির্মিত দুঃশাসনের শৃঙ্খল ধুলোয় লুটোপুটি খাবে। তাই তাকে নিয়ে কোনো মিথ্যাচার-অপপ্রচার ও কুৎসা না রটিয়ে আজই মুক্তি দিন। জামিনে কোনো বাধা দেবেন না। তার পছন্দমতো হাসপাতালে তাকে সুচিকিৎসা নেয়ার সুযোগ দিন।
রিজভী বলেন, আমরা দেশবাসীর উদ্দেশে উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি, এই মিডনাইট নির্বাচনের সরকার আপনাদের ভোটে নির্বাচিত নয়। তারা আপনাদের সরকার নয়। আপনাদের কাছে তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই, দায়বদ্ধতা অন্যখানে। এর কারণ, তাদের ক্ষমতার মূলে এমন একটি শক্তি সক্রিয় যার ওপর কোনো হুকুম চলে না। এ কারণে আপনাদের ব্যস্ত রাখতে একটার পর একটা ভয়াবহ সঙ্কট সৃষ্টি করেই চলেছে তারা। এই সঙ্কট কৃত্রিম সঙ্কট, এই সঙ্কট অবাধ লুটপাটের সিন্ডিকেটের কারণে।
তিনি আরো বলেন, গ্রামে ডাকাত পড়লে একসাথে সবাই প্রাণপণ ঝাঁপিয়ে পড়ে গ্রাম রক্ষা করে। বাঁচার জন্য একসাথে লড়তে হয়। তখন কি কেউ জানতে চান কার কোন দল, কার কী আদর্শ? কার কী ঠিকুজি? চান না। তা না হলে আজ পেঁয়াজ, কালকে চাল, পরশু লবণের মতো সঙ্কট লেগেই থাকবে। মূল সঙ্কট লুটেরার ভাবধারায় লালিত বর্তমান স্বৈরাচার সরকার।
রিজভী বলেন, যখন দেশে চাল, পেঁয়াজ ও লবণের মতো অত্যাবশ্যকীয় খাদ্যপণ্যের হাহাকার চলছে তখন প্রধানমন্ত্রী বিনোদনের জন্য দুবাইতে এয়ারশো উপভোগ করছেন। আর সত্যভ্রষ্ট ওবায়দুল কাদেরের রোডশো তো জনগণ প্রতিদিনই দেখছে। নতুন সড়ক আইনের দ্বারা যে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে তাতে জনদুর্ভোগ আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সুতরাং অবৈধ সরকারকে সরিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারলে সঙ্কটের সুরাহা হতে থাকবে। কারণ তখন জবাবদিহির আওতায় আসবে সব কিছু। আজ দেশের তরুণ সমাজসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষকে রাজপথে নেমে আসতে হবে। দুনিয়ার দেশে দেশে তরুণরা সব স্বৈরাচারী সরকারগুলোকে পাল্টে দিচ্ছে।
কর্মসূচি : খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আগামী শনিবার বিএনপির উদ্যোগে ঢাকাসহ দেশব্যাপী জেলা ও মহানগরে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন ঢাকায় এই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বেলা ২টায়।

নিজস্ব প্রতিবেদক


আরো সংবাদ




Paykwik Paykasa
Paykwik