০৬ ডিসেম্বর ২০১৯

ঢাকার দুই সিটির অনেক কাউন্সিলরই এবার মনোনয়ন পাবেন না জানুয়ারিতে নির্বাচন

-

ঢাকার দুই সিটির আসন্ন নির্বাচনে বর্তমান অনেক কাউন্সিলর দলীয় মনোনয়ন পাবেন না। ক্যাসিনো সম্পৃক্ততা, অনিয়ম-দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজির কারণে তারা মনোনয়ন পাবেন না বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
নির্বাচন কমিশন আগামী জানুয়ারিতে ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের ঘোষণা দেয়ার পর রাজধানীতে ফের নির্বাচনী উত্তাপ শুরু হয়েছে। প্রার্থী হতে লবিং-গ্রুপিং শুরু করেছেন নেতারা। রাজনৈতিক দলগুলোও মেয়র-কাউন্সিলর হিসেবে যোগ্য প্রার্থী খুঁজতে তৎপরতা শুরু করেছে। তবে এবার প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে ক্যাসিনো কাণ্ড, অনিয়ম, দুর্নীতি বড় ফ্যাক্টর হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এ জন্য ঢাকার দুই সিটির অনেক কাউন্সিলরই এবার দলীয় মনোনয়ন পাবেন না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে সরকারি দলটির নেতাদের সূত্রেও বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে বর্তমানে মোট ১২৯টি ওয়ার্ড রয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণে ৭৫টি এবং উত্তরে রয়েছে ৫৪টি ওয়ার্ড। এসব ওয়ার্ডে পুরুষ কাউন্সিলর ছাড়াও এসব এলাকায় আরো ৪৩ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর রয়েছেন। যার মধ্যে দক্ষিণে ২৫ জন এবং উত্তরে রয়েছেন ১৮ জন। মোট ১৭২ জন কাউন্সিলর রয়েছেন। এসব কাউন্সিলরের মধ্যে বেশিরভাগ কাউন্সিলরই অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। দখলবাজি-চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া তাদের অনেকে অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসার সাথে জড়িত হয়ে পড়েছেন। এ কারণে ইতোমধ্যে কয়েকজনকে আটকও করা হয়েছে। আরো কয়েকজন আটক হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ছাড়া এসব কাউন্সিলরদের অনেকে নিয়মিত বোর্ড সভায় অংশ নেন না। এ জন্য দুই সিটি করপোরেশন তাদের মধ্যে ৩৫ জনকে কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণে ২১ জন এবং উত্তর সিটিতে ১৪ জন রয়েছেন। এ ছাড়া দক্ষিণে একজনকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এ অভিযোগে অব্যাহতি দিয়েছে। আর অভিযুক্ত কাউন্সিলরদের মধ্যে ইতোমধ্যে দুই সিটির তিনজন কাউন্সিলর গ্রেফতার হয়েছেন। গ্রেফতারকৃতরা হলেনÑ উত্তর সিটির হাবিবুর রহমান মিজান ও তারেকুজ্জামান রাজিব এবং দক্ষিণের ময়নুল হক মঞ্জু।
সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে ঢাকা সিটি করপোরেশনের আওয়ামী লীগ দলীয় কাউন্সিলররা আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পাবেন না। তিনি আরো বলেন, যেখানে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া দরকার দুদককে বলা আছে। দুর্নীতি দমন কমিশন ব্যবস্থা নিতে পারে, যে কারো ব্যাপারে।
কারণ দর্শানো নোটিশ পাওয়া ডিএনসিসির ১৪ কাউন্সিলর : টানা চারটি বোর্ড সভায় অনুপস্থিত থাকা ৩ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর বেগম মেহেরুন্নেসা হক, পরপর তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকা ৭ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর খালেদা বাহার বিউটি, টানা চারটিসহ পাঁচটি সভায় অনুপস্থিত থাকা ১২ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র আলেয়া সারোয়ার ডেইজী, পরপর তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকা ১৬ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইলোরা পারভীন, দু’দফা তিনটি সভাসহ সাতটি সভায় অনুপস্থিত থাকা ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী জহিরুল ইসলাম মানিক, টানা আটটি সভাসহ মোট ৯টি সভায় অনুপস্থিত থাকা ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুর রউফ, টানা ১১টি সভায় অনুপস্থিত থাকা ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো: রজ্জব হোসেন, পরপর তিনটিসহ মোট ছয়টি সভায় অনুপস্থিত থাকা ২০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো: নাছির, টানা ছয়টি ও পরপর তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকা ২৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ মুজিবুর রহমান, টানা সাতটিসহ ১০টি সভায় অনুপস্থিত থাকা ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শামীম হাসান, পরপর তিনটিসহ ছয়টি সভায় অনুপস্থিত থাকা ১১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো: নুরুল ইসলাম রতন, টানা চারটিসহ ছয়টি সভায় অনুপস্থিত থাকা ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৈমুর রেজা, পরপর তিন বৈঠকে অনুপস্থিত থাকা ৪৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো: মোতালেব মিয়া।
কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া ডিএসসিসির ২১ কাউন্সিলর : ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো: মাকসুদ হোসেন মহসিন (৯টি বোর্ড সভায় অনুপস্থিত), ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো: গোলাম হোসেন (ছয়টি), ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো: আশ্রাফুজ্জামান (১০টি), ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো: আবদুল বাসিত খান (পাঁচ সভা), ১২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিল গোলাম আশরাফ তালুকদার (১২টি), ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোস্তফা জামান পপি (১২টি), ১৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন (৯টি সভা), ১৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জসীম উদ্দিন আহমেদ (আটটি), ২২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো: তারিকুল ইসলাম সজীব (১১টি সভা), ২৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো: আনোয়ার পারভেজ বাদল (আটটি), ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো: হাসান (১৪ সভা), ৩১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম রাসেল (আটটি), ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো: বিল্লাল শাহ (১১টি), ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো: আউয়াল হোসেন (চারটি), ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ময়নুল হক মঞ্জু (১৫ সভা), ৪০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মকবুল ইসলাম খান টিপু (ছয় সভা), ৪১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সারোয়ার হোসেন আলো (ছয় সভা), ৪৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো: আরিফ হোসেন (৯টি), ৫২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ নাছিম মিয়া (পাঁচটি) এবং সংরক্ষিত ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রাশিদা পারভীন মণি (১২টি) ও সংরক্ষিত ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শিউলী হোসেন (৯টি সভায় অনুপস্থিত)।
স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন-২০০৯ এর ধারা-১৩ এর উপধারা-১ (মেয়র এবং কাউন্সিলর অপসারণ) এ বলা হয়েছে, মেয়র এবং কাউন্সিলর নিজ পদ থেকে অপসারণ যোগ্য হবেন, যদি তিনি যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া পরপর তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকেন। জানা যায়, নোটিশ পাওয়া কাউন্সিলরা ইতোমধ্যে জবাব দিয়েছেন। এতে তারা শারীরিক অসুস্থতাসহ বিভিন্ন কারণ জানিয়েছেন। অনেকে হজে যাওয়াকেও কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন। তবে কাউন্সিলদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, অনেকেই এ আইনটির ব্যাপারে আগে জানতেন না। এ কারণে তারা নিয়মিত বোর্ড সভায় আসেননি।

 


আরো সংবাদ

পর্দা নামলো নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের নতুনের উৎসবের চার গুণীজনকে সম্মাননা না’গঞ্জে ল ইয়ার্স কাউন্সিল : সভাপতি আবদুল কাদের সেক্রেটারি মাইন উদ্দিন জানুয়ারিতে পরীক্ষামূলক পণ্য ট্রান্সশিপমেন্ট করবে ভারত ১২ ডিসেম্বরের আগ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির সিদ্ধান্ত জাগপার জাতীয় সম্মেলন আজ সিদ্ধেশ্বরী থেকে উদ্ধার হওয়া লাশটি স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ছাত্রী রুম্পার কায়সার কামালকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ সরকারের তিন মন্ত্রণালয়সহ ৭ জনকে বিবাদি করে মেয়র আইভীর রিট টঙ্গীতে স্পিনিং মিলে অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক ক্ষতি গণতন্ত্রের ইতিহাসে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী উজ্জ্বল নক্ষত্র উদ্ধার হওয়া লাশটি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর

সকল




Paykwik Paykasa
Paykwik