০৯ ডিসেম্বর ২০১৯

রাতে ভোট ডাকাতি বাংলাদেশেই প্রথম : আ স ম রব

বাংলাদেশ মহিলা বিজ্ঞানী সমিতি আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন আ স ম আবদুর রব : নয়া দিগন্ত -

জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেছেন, স্বৈরাচার দুই রকমের আছে। একটি সামরিক স্বৈরাচার; অন্যটি সিভিল স্বৈরাচার। স্বৈরাচার পৃথিবীতে ছিল, আছে, হয়তো ভবিষ্যতেও থাকবে। কিন্তু ৩০ তারিখের ভোট ২৯ তারিখ রাতে ডাকাতি করে- এ ধরনের স্বৈরাচার আমি পৃথিবীতে আর দেখিনি। এ স্বৈরাচার পৃথিবীতে প্রথম এসেছে বাংলাদেশে।
গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বাংলাদেশ মহিলা বিজ্ঞান সমিতি আয়োজিত ছাত্র রাজনীতি : অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. শাহিদা রফিকের সভাপতিত্বে সভায় নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক প্রফেসর ড. দিলারা চৌধুরী, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, ডাকসুর বর্তমান ভিপি নুরুল হক নুরু প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
আ স ম রব বলেন, দেশের স্বাধীনতা চুরি হয়ে গেছে। স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব আজ হুমকির মুখে। স্বৈরাচার সরকার স্বাধীনতা খুন করেছে, সংবিধান খুন করেছে, ন্যায়নীতি খুন করেছে, বিচার বিভাগ খুন করেছে। এ খুনের বিচার হওয়া দরকার। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরকে (ভিসি) নির্লজ্জ আখ্যা করে তিনি বলেন, এত ঘটনার পরে যদি দোষ প্রমাণিত না-ও হয়, তবুও নৈতিক কারণে আপনি এখন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে থাকেন কি করে? আপনার লজ্জা করে না?
আওয়ামী লীগের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদেরকেও ক্ষমতা থেকে যেতে হবে। যাওয়ার রাস্তাটা ঠিক করেন কিভাবে যাবেন। রাষ্ট্রকে অকার্যকর করে দিয়েছেন আপনারা। আপনাদের এই স্বৈরাচারকে আজকে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে হবে। আপনারা ভদ্রভাবে চলে যান। তা না হলে আপনাদেরকে কিভাবে যাওয়াতে হয়, এ দেশের যুবসমাজ তা জানে।
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, পাকিস্তানের সময় আইয়ুব খানও জিডিপি ও উন্নয়নের কথা বলতেন। সারা পাকিস্তান জুড়ে উৎসব পালন করতেন। কিন্তু তিনি টিকে থাকতে পারেননি। কোনো স্বৈরাচারই এ দেশে টিকতে পারবে না।
তিনি বলেন, ছাত্ররা দেশের পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধির কথা বলবে, চালের মূল্য বৃদ্ধি হলে কথা বলবে, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির হলে কথা বলবে। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির কথা কি বলতে পারবে না? যদি বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির কথা বলতে না পারে, তাহলে কি তিনি জেলে ধুঁকে ধুঁকে মরবেন? না ওই রকম ছাত্র রাজনীতি আমাদের দেশে কখনো হয়নি। আমাদের দেশে ছাত্ররা ১৯৫২ ও ১৯৭১-এ আন্দোলন সফল করেছে। যতদিন পর্যন্ত গণতন্ত্র হরণ হবে, ততদিন পর্যন্ত ছাত্ররাই ভ্যানগার্ড হয়ে থাকবে।


আরো সংবাদ




Paykwik Paykasa
Paykwik