০৯ ডিসেম্বর ২০১৯

খেলাপি ঋণ ১ লাখ ১৪ হাজার ৯৭ কোটি টাকা : সংসদে অর্থমন্ত্রী

-

গত জুন মাস পর্যন্ত দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ১৪ হাজার ৯৭ কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
সংসদে প্রশ্নোত্তরপর্বে গতকাল এই তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, এসব ঋণের মধ্যে ব্যাংকের খেলাপি ১ লাখ ৬ হাজার ৫৫ কোটি টাকা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ৮ হাজার ৪২ কোটি টাকা।
বিকেলে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিএনপির গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের লিখিত এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী খেলাপি ঋণের তথ্য তুলে ধরেন। অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যেই অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩ প্রণয়ন করেছে। এ আইনের আলোকে খেলাপি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হচ্ছে।
‘২০১৮-১৯ অর্থবছরের ২০১৮ সালের ১ জুলাই থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত শ্রেণিকৃত ঋণের বিপরীতে ১৬ হাজার ৮ শ’ ২৬ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে বলেও অর্থমন্ত্রী জানান। সরকারি দলের মহিবুর রহমান মানিকের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকগুলোয় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ব্যাংক কোম্পানি আইন, সংশোধনের মাধ্যমে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব, কর্তব্য এবং কর্মপরিধি সম্পর্কে দিক-নিদের্শনা দেয়া হয়েছে। ব্যাংকের ঝুঁকি মোকাবেলায় ১২ ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। একই সংসদ সদস্যের আরেক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মচারীদের জন্য ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে গৃহ নির্মাণ ঋণ প্রদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী তারা রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, রূপালী, জনতা, অগ্রণী ব্যাংক ও বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনে অনলাইনে সরাসরি আবেদন করে থাকেন। গত ৩ নভেম্বর-১৯ পর্যন্ত ২৪৬ জন সরকারি কর্মচারী ঋণের আবেদন করলেও ১৯০ জন এ সুবিধা পেয়েছেন। আবেদনে ত্রুটি থাকায় ৫৬ জনের আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ নীতিমালার আওতায় একক আবেদনকারী কেবল জমি ক্রয়ের জন্য কোনো ঋণ সুবিধা পাবেন না। তবে গ্রুপভিত্তিক জমি ক্রয়সহ বাড়ি নির্মাণের জন্য ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে।
জাতীয় পার্টির পীর ফজলুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অর্থ পাচার রোধে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা নিরলসভাবে কাজ করছে। ইতোমধ্যে বিদেশ হতে পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বর্তমানে অর্থ পাচারবিষয়ক প্রায় ৪০টি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে অ্যাটর্নি জেনারেলের নেতৃত্বে গঠিত আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স অর্থ উদ্ধারে কাজ করছে।
জিএম সিরাজের অপর এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে টিআইএনধারী করদাতার সংখ্যা ৪৫ লাখ ১৬ হাজার ৬৩২ জন। ঢাকাসহ ২৭ কর অঞ্চলের মাধ্যমে করদাতারা কর প্রদান করছেন।
বেগম রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের জবাবে আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, বিদ্যমান বিও অ্যাকাউন্টধারীদের মধ্যে সব বিনিয়োগকারী একই সাথে পুঁজিবাজারে লেনদেন করে না। কিছুসংখ্যক বিনিয়োগকারী প্রায়ই লেনদেন করেন, কিছুসংখ্যক বিনিয়োগকারী স্বল্প ও দীর্ঘ বিরতির পর লেনদেন করেন।
তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে সিকিউরিটিজের মূল্যের উত্থান-পতন একটি স্বাভাবিক ঘটনা, এর ফলে বিনিয়োগকারীরা স্বাভাবিক নিয়মেই লাভ-লোকসান করতে পারে।
মাহমদ উস সামাদ চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর গত ৯ মাসে বিদেশ থেকে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ ১৩ হাজার ৪৩৮ দশমিক ৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

 


আরো সংবাদ




Paykwik Paykasa
Paykwik