১৭ নভেম্বর ২০১৯

টি এইচ খানের শততম জন্মদিন উদযাপন

টি এইচ খানের শততম জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন শুভানুধ্যায়ীরা : নয়া দিগন্ত -

শততম জন্মদিনে আইনজীবী, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও শুভাকাক্সক্ষীদের অভিনন্দন, ভালোবাসা ও ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণতম আইনজীবী ও বরেণ্য ব্যক্তিত্ব বিচারপতি টি এইচ খান। গতকাল ছিল বিচারপতি টি এইচ খান ১০০তম জন্মদিন। বিচারপতি টি এইচ খানের বাসভবনে শততম জন্মদিন পালন করে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম। আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক খন্দকার মাহবুব হোসেন ও সদস্য সচিব ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে শতাধিক আইনজীবী বিচারপতি টি এইচ খানের মোহাম্মদপুরের বাসভবনে এসে তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং জন্মদিনের কেক কাটেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন : জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী, ফিদা এম কামাল, সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি জয়নুল আবেদীন, মসিহ উজ্জামান সিনিয়র আইনজীবী এম আই ফারুকী, সাবেক বিচারপতি সৈয়দ এ বি মাহমুদুল হক, নিতাই রায় চৌধুরী, আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার, আহমদ আজম খান, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সানাউল্লাহ মিয়া, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, বিএনপির আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, বোরহান উদ্দিন, খোরশেদ মিয়া আলম, ওমর ফারুক ফারুকী, মো: আখতারুজ্জামান, ইকবাল হোসেন, আনজুমান আরা, তৌহিদুল ইসলামসহ শতাধিক আইনজীবী।
বিচারপতি টি এইচ খানের শততম জন্মদিনের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, তিনি বাংলাদেশের আইন জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী, আমরা তার জন্য গর্বিত। বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী শক্তি উৎস ও শক্তিশালী কর্ণধার হিসেবে আমরা বিচারপতি টি এইচ খানকে বিবেচনা করব। আমরা তার কাছে কৃতজ্ঞ।
দেশ বরেণ্য ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় এই আইনবিদ ১৯২০ সালের ২১ অক্টোবর ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলাধীন ঔটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে তিনি আইন পেশায় যোগদেন এবং বর্তমানে দেশের প্রবীণতম কর্মরত আইনজীবী তিনি।
বিচারপতি টি এইচ খানের ছেলে সাবেক এমপি আফজাল এইচ খান জানিয়েছেন শততম জন্মদিনে সোমবার সন্ধ্যায় মোহাম্মদপুরের নিজ বাসভবনে পরিবার-পরিজন, আইনজীবী, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাক্সক্ষীদের সাে তিনি জন্মদিন পালন করেন।
বিচারপতি টি এইচ খান ১৯৬৮ সনে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ তিনি হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। এরপর ১৯৭৩ সালের জুলাই মাস থেকে আবার আইন ব্যবসায় ফিরে আসেন। ১৯৭৪ সালে তিনি প্রথম বারের মতো সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৭৯ সালে তিনি পার্লামেন্ট নির্বাচনে বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮১ সালের ১৫ নভেম্বর আইন, শিক্ষা, ধর্ম, ভূমি ও রাজস্ব এবং ক্রীড়া মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এরপর ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ এরশাদের নেতৃত্বে সামরিক আইন জারি করা হয়। তখন তিনি আবার আইন পেশায় ফিরে যান। ১৯৮৬ সালে এরশাদের নির্বাচনের বিরোধিতা করার জন্য গ্রেফতার হন টি এইচ খান।
বিচারপতি টি এইচ খান ১৯৯২ সালে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের প্রতিষ্ঠা করেন এবং প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নির্বাচিত হন। এই পদে তিনি ২০১১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিএনপির প্রথম ভাইস চেয়ারম্যান।
১৯৯২ সালে তিনি সুইজারল্যান্ডের জেনেভার জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যার রাইটস কমিশনের মেম্বার এবং একই বছর জাতিসঙ্ঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দান করেন। ১৯৯৪ সালে তিনি সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের দ্বিতীয়বারের মতো সভাপতি নির্বাচিত হন।
১৯৯৫ সালে বিচারপতি টি এইচ খান এশিয়া জোন থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত রুয়ান্ডা ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি নির্বাচিত হন। ১৯৯৯ সালের ১৯ জুন মাস পর্যন্ত জাতিসঙ্ঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল পদে বিচার কার্য পরিচালনা করে দেশে ফিরে আসেন। আবার আইন পেশা শুরু করেন। আইন পেশা ছাড়াও বিচারপতি টি এইচ খান প্রথম জীবনে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ, ঢাকার জগন্নাথ কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন ও আইন বিষয়ে অধ্যাপনা করেন।


আরো সংবাদ

মাঠ সংস্কার উদ্বোধনে হাজী সেলিম অনুসারীদের হট্টগোল! চারুকলায় উৎসবে নবান্নকে বরণ ‘সুস্থ জীবনযাপনে মহানবীর জীবন অনুসরণের বিকল্প নেই’ খেলার মাঠগুলোকে বিশ্বমানের করা হচ্ছে : সাঈদ খোকন কেরানীগঞ্জেই হবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস : বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী রাঙ্গার এমপি পদ ও পরিবহনের শীর্ষ পদ থেকে বহিষ্কার দাবি ঐক্যলীগের নতুন বাংলাদেশ গড়তে মুক্তিযোদ্ধাদের এগিয়ে আসতে হবে : জি এম কাদের রাস্তা প্রশস্ত করার খবরে মুগদাবাসীর উদ্বেগ তাঁতি দলের আলোচনা সভা পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধিতে সরকারই জড়িত : গয়েশ্বর সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান স্পিকারের যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় ইসরাইলের বিমান হামলা

সকল