১৬ নভেম্বর ২০১৯

সেমিনারে তথ্য প্রকাশ প্রতি ৪ জনে একজন হাড়ক্ষয়ে আক্রান্ত

-

পঞ্চাশের ঊর্ধ্বে বয়স এমন প্রতি তিন নারীর মধ্যে একজন এবং প্রতি পাঁচ পুরুষের মধ্যে একজন অস্টিওপরোসিস বা হাড়ক্ষয় রোগে আক্রান্ত হয়। অর্থাৎ প্রতি চারজনে একজন হাড় ক্ষয় রোগে আক্রান্ত। পশ্চিমা দেশগুলোর চেয়ে বাংলাদেশে অস্টিওপরোসিস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কম হলেও ভবিষ্যতে এর হার বাড়তে পারে। রাজধানীতে এক সেমিনারে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
হাড়ের অভ্যন্তরে ঘনত্ব বাড়ানোর জন্য পরিমিত ফল ও শাক-সবজি খাওয়ার উপরও গুরুত্বারোপ করেছেন চিকিৎসকরা। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, উচ্চ ক্যালরিসম্পন্ন প্রোটিন গ্রহণ করা হলে বয়সকালে অস্টিওপরোসিসের ঝুঁকি কমে যায়। এ ছাড়া অর্থোপেডিক চিকিৎসকরা ধূমপান করতে নিষেধ করেছেন। তারা বলছেন, ধূমপান হাড়কে ভঙ্গুর করে ফেলে। তারুণ্যে যারা পর্যাপ্ত ভিটামিন-ডি ও ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার এবং ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন সাপ্লিমেন্টারি গ্রহণ করেছে বৃদ্ধ বয়সে তাদের অস্টিওপরেসিসের আশঙ্কা কম থাকে।
রোগটির শিকার না হতে চাইলে বেড়ে উঠার বয়স পর্যন্ত (শিশুদের জন্য) দৈনিক পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম আছে এমন খাবার খাওয়া উচিত। চিকিৎসকরা বলছেন, সাধারণত মহিলাদের হাড়ের ঘনত্ব পুরুষের চেয়ে কম থাকে। এ কারণে ৫০ পেরোনোর পর (ম্যানুপজের পর) বাংলাদেশে ৩০ শতাংশ মহিলা অস্টিওপরোসিসে আক্রান্ত হয়। মহিলাদের মধ্যে অস্টিওপরোসিস বেশি দেখা যায় কারণ মহিলারা পুরুষের চেয়ে বেশি দিন বেঁচে থাকেন। চিকিৎসকরা বলছেন, তরুণ বয়সে অস্টিওপরোসিস হয়েছে এমন ঘটনা খুবই বিরল।
রাজধানীর শাহবাগে বারডেম হাসপাতালে গত রোববার বিশ্ব অস্টিওপরোসিস দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ অ্যান্ডোক্রাইন সোসাইটি (বিইএস) এ বিষয়ে একটি সেমিনারের আয়োজন করে। এতে বক্তব্য প্রদান করেন বারডেম হাসপাতালের মহাপরিচালক অধ্যাপক জাফর এ লতিফ, বিইএস’র সভাপতি অধ্যাপক মো: ফারুক পাঠান, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো: হাফিজুর রহমান, সহসভাপতি অধ্যাপক এস এম আশরাফুজ্জামান, অধ্যাপক এম এ হাসনাত, ডা: এম এ সামাদ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ডা: আহমেদ সালাম মীর, ডা: ইন্দ্রজিৎপ্রসাদ, ডা: এম সাইফুদ্দিন।
অধ্যাপক জাফর এ লতিফ বলেন, অস্টিওপরোসিসের জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত গাইড লাইনের। বাংলাদেশের জনসংখ্যা অনুসারে ক্যাটাগরির ভিত্তিতে গাইড লাইন তৈরি করা উচিত। অধ্যাপক মো: ফারুক পাঠান জানান, অস্টিওপরোসিসে আক্রান্ত রোগীর হার দিন দিন বাড়ছে। যদিও পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় এশিয়া মহাদেশ এমনকি বাংলাদেশে এর হার কম। তবু ভবিষ্যতে এর হার বাড়তে পারে। নারীরা বেশি অস্টিওপরোসিসে আক্রান্ত হলেও পুরুষদের সংখ্যাও কম নয়। রোগটি প্রতিরোধে পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করতে হবে। এ জন্য খাবারের তালিকায় ফল ও দুধ রাখতে হবে এবং প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম করতে হবে।
অধ্যাপক মো: হাফিজুর রহমান জানান, এটি একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। নারীদের ক্ষেত্রে ৫০ বছরের পর এবং পুরুষের ৬০ বছরের পর হাড়ক্ষয় রোগ ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে যেকোনো বয়সেই ‘পিক বোন ম্যাশ’ (হাড় ক্ষয়) সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে পরিবারের শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে অস্টিওপরোসিস বেশি হয়ে থাকে। তাই তাদের দিকে বেশি খেয়াল রাখতে হবে। এ জন্য পরিবারের সদস্যদের পর্যাপ্ত ভিটামিন-ডি ও ক্যালসিয়ামজাতীয় খাবার খেতে হবে।


আরো সংবাদ

যথাযথ মর্যাদায় ভেটারানস ডে উদযাপিত নাশকতা কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে : রেলমন্ত্রী বাবরি মসজিদ রক্ষায় মুসলিমদেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে : ইসলামী আন্দোলন কুমিল্লায় ২ কিশোর ও গেটম্যানের বুদ্ধিমত্তায় রক্ষা পেল যাত্রীবাহী ট্রেন রাষ্ট্রপতি দেশে ফিরেছেন সাভার উপজেলা আ’লীগের সম্মেলনে : হাসিনা-সভাপতি রাজিব-সাধারণ সম্পাদক প্রধানমন্ত্রী দুবাই এয়ারশোতে যোগ দিতে আমিরাত যাচ্ছেন আজ ঢাবি থেকে ২৬ জনের পিএইচডি লাভ ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের অবসর গ্রহণের সুযোগ নেই : মহানগর জামায়াত অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি জ্ঞাপনপত্র প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রত্যাখ্যান তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলো কমিটি

সকল