১৬ ডিসেম্বর ২০১৯

২০ লাখ গ্রাহক এখনই পাচ্ছে না পদ্মা-জশলদিয়ার পানি প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

-

ঢাকা ওয়াসার ‘পদ্মা-জশলদিয়া পানি পরিশোধন প্রকল্পের’ দৈনিক ৪৫ কোটি লিটার পরিশোধিত পানি এখনই পাচ্ছেন না নগরীর ২০ লাখ বাসিন্দা। গ্রাহক পর্যায়ের পানি সঞ্চালন লাইন স্থাপন কাজের ধীরগতির কারণে পদ্মার এই পানি পেতে আরো কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে নগরবাসীকে। যদিও রাজধানীর ১০টি অঞ্চলের ৪০ লাখ বাসিন্দার জন্য পদ্মার পানি পরিশোধন প্রকল্পের উদ্বোধন করা হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে পদ্মা-জশলদিয়া পানি শোধন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রকল্পের সাথে জড়িত এক কর্মকর্তা নয়া দিগন্তকে জানান, নগরীর ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমিয়ে ভূ-ভাগের ওপরের পানির ব্যবহার বাড়াতেই পদ্মা নদী থেকে পানি পরিশোধন করে দৈনিক ৪৫ কোটি লিটার পানি ঢাকায় আনা হচ্ছে। নগরীর ১০টি এলাকায় এই পানি সরবরাহ করার টার্গেট নেয়া হয়েছে। ১০টি এলাকা মধ্যে রয়েছে পুরান ঢাকার সদরঘাট, মিডফোর্ড, লালবাগ, হাজারীবাগ, রায়েরবাগ, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, আগারগাঁও ও মিরপুরের কিছু অংশ। এই ১০টি এলাকার ৪০ লাখ বাসিন্দা পর্যায়ক্রমে পদ্মা-জশলদিয়া প্রকল্পের পরিশোধিত পানি পাবেন।
সূত্র আরো জানায়, বর্তমানে রাজধানীতে ঢাকা ওয়াসার নির্ধারিত এলাকায় ৯২৩টি পাম্পের মাধ্যমে প্রতিদিন ২৩০ থেকে ২৪০ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। যদিও ঢাকা ওয়াসার দৈনিক পানি উত্তোলন ক্ষমতা ২৪০ থেকে ২৫৫ কোটি লিটার। ওয়াসার হিসাবে রাজধানীতে পানির কোনো সঙ্কট নেই। তবে পদ্মা নদী থেকে দৈনিক ৪৫ কোটি লিটার পরিশোধিত পানি ঢাকা আনা হচ্ছে মূলত ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমানোর লক্ষ্যেই।
ওয়াসা সূত্র জানায়, ৩৩ কিলোমিটার দূর থেকে পদ্মার পানি শোধন হয়ে পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় স্থাপিত পাইপ লাইন (ইনজেকশন পয়েন্ট) দিয়ে প্রতিদিন ৪৫০ মিলিয়ন (৪৫ কোটি) লিটার পানি ঢাকায় আসা শুরু হয়েছে গত ৩ অক্টোবর। আজ বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করে ঢাকাবাসীকে পদ্মার সুপেয় পানি দেয়ার ঘোষণা দেয়া হবে।
প্রকল্পের সারপত্র থেকে জানা যায়, প্রায় আট বছর আগেই পদ্মা নদীর পানি শোধন করে ঢাকায় সরবরাহ করতে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ২০১৩ সালের ১৪ নভেম্বর প্রকল্পটি সরকারের ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার কমিটিতে (সিসিজিপি) পাস হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে ২৯০ মিলিয়ন ডলার (তিন হাজার ৮০০ কোটি টাকা) ব্যয় ধরা হয়েছিল। জি টু জি প্রকল্পের আওতায় এই প্রকল্পের সম্পূর্ণ আর্থিক ব্যয় বহন করেছে এক্সিম ব্যাংক অব চায়না। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে চায়নার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান (সিএএমসিই) ‘কেমসি’। চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি প্রকল্পের কাজ শেষ করে ৩ ফেব্রুয়ারি প্রকল্পটি ওয়াসার কাছে হস্তান্তর করেছে চীনা ঠিকাদারি ওই প্রতিষ্ঠান।
প্রকল্পের আওতায় পদ্মা নদীর পানি সংগ্রহ ও শোধন করতে পদ্মার তীরবর্তী মাওয়া এলাকায় এক কিলোমিটারের মধ্যে পানির পাওয়ার পাম্প বসানো, অপরিশোধিত পানি সংগ্রহ, পানির ট্রিটম্যান্ট প্লান্ট স্থাপন করা হয়। এরপর সংগৃহীত পানি ১৪ কিলোমিটার দূরবর্তী স্থানে নিয়ে এসে কেরানীগঞ্জের আবদুল্লাহপুরে স্থাপিত ‘বোস্টার পাম্প’ স্টেশনে দ্বিতীয় দফায় শোধন করে আবারো ৮ কিলোমিটার দূরে এসে পরিশোধিত পানি মিটফোর্ড এর ‘ইনজেকশন পয়েন্ট’ দিয়ে ঢাকায় আসবে, অর্থাৎ পদ্মা থেকে পানি সংগ্রহ করার পর মোট ৩৩ কিলোমিটার দূরত্ব ঘুরে আটটি পয়েন্টে শোধন হওয়ার পর সুপেয় পানি পাবে ঢাকার নাগরিকরা।
‘পদ্মা-জশলদিয়া পানি শোধন প্রকল্পের’ পরিচালক প্রকৌশলী মো: রফিকুল ইসলাম গতকাল বুধবার এই প্রতিবেদককে জানান, প্রথম পর্যায়ে পদ্মা নদী থেকে পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় স্থাপিত পাইপ লাইন (ইনজেকশন পয়েন্ট) পর্যন্ত ৩৩ কিলোমিটার পর্যন্ত পাইপ লাইনের কাজ আমরা শেষ করেছি। আমাদের টার্গেট ছিল নগরীর ১০টি এলাকার ৪০ লাখ বাসিন্দার ঘরে এই পানি পৌঁছে দেয়া। কিন্তু এই ১০টি এলাকার অভ্যন্তরীণ পানি সঞ্চালন লাইনের কাজ হচ্ছে অন্য আরেকটি প্রকল্পের মাধ্যমে। আবাসিক এলাকার ভেতরে সঞ্চালন লাইনের শতভাগ কাজ শেষ হলেই ৪০ লাখ বাসিন্দা পদ্মার পানি পাবেন। তবে এখন আপাতত ৪০ লাখ গ্রাহকের মধ্যে পুরনো লাইনে ২০ লাখ বাসিন্দা পদ্মার পানি পাবেন।

 


আরো সংবাদ

টেস্টেও সেরা দশে বাবর বিজয়ের স্বপ্ন পূরণে সমৃদ্ধ আগামীর পথে অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে : শিবির সভাপতি সোহরাওয়া‌র্দি‌তে ফি‌রে এ‌লো সেই ঐতিহা‌সিক বিজয় মুহূর্ত আমতলীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২ অশান্ত পশ্চিমবঙ্গ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত ৮ কোম্পানি বাহিনী যত জোরে সম্ভব তত জোরে পিটিয়েছি : হেটমায়ার ধামরাইয়ে মহান বিজয় দিবস পালিত, মুক্তিযোদ্ধাদের সংর্বধনা মঞ্চে বসার চেয়ার না পাওয়ায় বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান বয়কট আ’লীগ সভাপতির সরকার ফেলে দিলেও মাথা নোয়াব না : মমতা ‘সেঞ্চুরি না করলে তো দল থেকে বাদ দিয়ে দেবে’ উপজেলা চেয়ারম্যানের বাবা স্বাধীনতা বিরোধী, অনুষ্ঠান বর্জন আ’লীগের একাংশের

সকল




hacklink Paykwik Paykasa
Paykwik