২০ জানুয়ারি ২০২০

রাবিতে গবেষণা নেই বেশির ভাগ শিক্ষকের কোনো গবেষণাই করেনি ১০ বিভাগ

-

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ৯টি অনুষদে মোট বিভাগ রয়েছে ৫৮টি। এসব বিভাগের শিক্ষকের সংখ্যা ১১৭০ জন। তবে শিক্ষক সংখ্যা অনেক হলেও নেই তেমন গবেষণা। ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধ ও গ্রন্থসহ মাত্র ২৪ শতাংশ শিক্ষকের গবেষণা আছে। বাকি ৭৬ শতাংশ শিক্ষকের এ শিক্ষা বছরে কোনো গবেষণার প্রবন্ধ বা গ্রন্থ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
বার্ষিক প্রতিবেদন বলছে, ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে গবেষণা প্রবন্ধ আছে মোট ২৮৪ শিক্ষকের। বাকি ৮৮৬ শিক্ষকের গবেষণা পাওয়া যায়নি। তা ছাড়া এক বছরে একটিও গবেষণা প্রবন্ধ নেই এমন বিভাগ আছে ১০টি। যার মধ্যে নতুন বিভাগগুলোতে গবেষণা প্রায় শূন্যের কোটায়।
কলা অনুষদভুক্ত ১২টি বিভাগে মোট ২৫৪ শিক্ষকের ৪৯ জন, আইন অনুষদের দু’টি বিভাগের মোট ২৫ শিক্ষকের একজন, বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত আট বিভাগের মোট ২৩১ শিক্ষকের ১০০ জন শিক্ষকের গবেষণা আছে। ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ১০০ শিক্ষকের চারজন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ১৭২ শিক্ষকের ২৮ জন, জীব ও ভূবিজ্ঞান অনুষদের ১৪৮ শিক্ষকের ৫৭ জন, কৃষি অনুষদের ৮৪ শিক্ষকের ১৪ জন, প্রকৌশল অনুষদের ১১৯ শিক্ষকের ৩০ জনের গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে। চারুকলা অনুষদে তিনটি বিভাগে মোট ৩৬ শিক্ষকের মাত্র একজনের গবেষণা আছে।
শুধু তাই নয়, কোনো শিক্ষকের গবেষণা নেই এমন বিভাগও আছে ১০টি। বিভাগগুলো হলোÑ সঙ্গীত বিভাগ, আইন ও ভূমি প্রশাসন, শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স, অর্থনীতি, সমাজকর্ম, ফিশারিজ ও চারুকলা অনুষদভুক্ত মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য, গ্রাফিকস্ ডিজাইন-কারুশিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগ।
চারুকলা অনুষদের গবেষণা ঘাটতির বিষয়ে জানতে চাইলে অনুষদটির ডিন অধ্যাপক সিদ্ধার্থ শঙ্কর তালুকদার বলছেন, এ অনুষদের শিক্ষকদের গবেষণা দুই ধরনের। যার মধ্যে হাতে কলমে কাজ বেশি। তবে প্রকাশনা থাকবে না এটি দুঃখজনক। এ ঘাটতির কারণ অনুসন্ধান জরুরি বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে অনেকে শিক্ষকের গবেষণা থাকলেও বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ হয় না বলে দাবি করেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব। তিনি বলেন, দেশজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বার্ষিক প্রতিবেদনকে যতখানি গুরুত্ব সহকারে নেয়া উচিত আমাদের শিক্ষকেরা সেভাবে নিচ্ছেন না। বার্ষিক প্রতিবেদনে যখন তথ্য চাওয়া হচ্ছে তখন অনেকেই গবেষণা থাকলেও তথ্য জমা দেন না। এতে অনেকে গবেষণা করলেও প্রতিবেদনে আসেনি।
তবে ফিশারিজ বিভাগসহ পুরো কৃষি অনুষদে গবেষণা বেড়েছে বলে দাবি করেন অনুষদটির ডিন ড. সালেহা জেসমিন। তার দাবি, শিক্ষকদের গবেষণা থাকলেও সেগুলো বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ হয়নি। অধ্যাপক জেসমিন বলেন, গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ যেমন বেড়েছে সেই সাথে গবেষণা প্রকল্প বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভাগের অধ্যাপক ইয়ামিনের বেশকিছু গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. অরুন কুমার বসাক বলেন, গবেষণা সঙ্কট সত্যিই আছে। তবে এ অবস্থার জন্য তিনি মৌলিক শিক্ষার ঘাটতি, যেন তেন গবেষণা দিয়ে পদোন্নতি, শিক্ষক নিয়োগে প্রকৃত মেধাবীদের মূল্যায়ন না করাকে দায়ী করেন। প্রবীণ এ অধ্যাপক বলেন, শিক্ষাব্যবস্থা অনেকাংশেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর বর্তমান শিক্ষকদের গবেষণার সঙ্কটের প্রভাব খুব বাজেভাবেই পড়বে। গবেষণার সত্যিকার মানদণ্ড না থাকায় পত্রিকায় প্রকাশিত লেখাও এখন পদোন্নতির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। গবেষণা না করেই যদি পদোন্নতি পাওয়া যায় তাহলে গবেষণা হবে কিভাবে? প্রশ্ন রাখেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, শিক্ষক গবেষণা করেন নাÑ এ সংখ্যাটা এত বেশি হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক গবেষণা করেন। বিশেষ করে বিজ্ঞান অনুষদগুলোতে কেউ গবেষণা করেন না এমন খুবই কম আছেন বলে দাবি করেন তিনি।

 


আরো সংবাদ

ফেসবুকে আজহারীর আবেগঘন স্ট্যাটাস (২৪৬৫৮)রাশিয়াকে সিরিয়ান তেলক্ষেত্রে যেতে বাধা মার্কিন সৈন্যদের, উত্তেজনা দুপক্ষেই (১০৩৬৪)ইরান সীমান্তে মার্কিন এফ-৩৫ জঙ্গিবিমান (৬৫৮৫)চীনের বিশাল বিনিয়োগ চুক্তি রাখাইনে (৬২৪১)সোলাইমানি হত্যা নিয়ে ট্রাম্পের নতুন তথ্য (৬০৬২)লিবিয়া নিয়ে জরুরী আলোচনায় এরদোগান-পুতিনসহ বিশ্বনেতারা (৫৪৬৭)ভয়ঙ্কর নারী! আই ড্রপ খাইয়ে অত্যাচারী স্বামীকে খুন (৪৭৯১)১৩৬ কেজি ওজনের সেই আইএস নেতা আটক; বহন করতে লাগলো ট্রাক (৪৫৬৩)এবার যুক্তরাষ্ট্রের টার্গেট যে ইরানি কমান্ডার (৪৪১৬)তামিম-মাহমুদুল্লাহদের নিরাপত্তায় পাকিস্তানের আইন-শৃংখলা বাহিনীর ১০ হাজার সদস্য (৪৪১০)



krunker gebze evden eve nakliyat