১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সংসদ সচিবালয়ের আবাসন সমস্যা দূর করতে আরো ৫০০ ফ্যাট

-

আগের তুলনায় সরকারের ভিআইপির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় তাদের জন্য অফিস বরাদ্দের পাশাপাশি সংসদে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হিমশিম খাচ্ছে সংসদ সচিবালয়। ভিআইপিদের অফিস হিসেবে ব্যবহারের জন্য জাতীয় সংসদ এলাকায় বর্তমানে বসবাসরত ৩০টি ফ্যাটের কর্মকর্তাদের বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করে তাদের তুলে দিয়ে সেখানে অফিস হিসেবে বরাদ্দ দেয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এসব সমস্যা দূর করতে ৩০ জন কর্মকর্তাসহ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আরো ৫০০টি ফ্যাট বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। এ জন্য গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর চিঠিও দেয়া হয়েছে। একই সাথে আগারগাঁওয়ে নির্মিত সংসদ সচিবালয় আবাসিক কমপ্লেক্সে অযাচিত স্থাপনা তুলে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান।
গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংখ্যা আগের তুলনায় বর্তমানে তিনগুণেরও বেশি বেড়েছে। অথচ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে জনবলের তুলনায় বিভিন্ন শ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসনসংখ্যা খুবই কম। সংসদের অধিবেশন চলাকালে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের গভীর রাত পর্যন্ত অফিসে কাজ করতে হয়। অফিস শেষে প্রায়শই তাদের ভাড়া বাসায় ফিরতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। সরকারি আবাসন পরিদফতরের পত্রের পরিপ্রেেিত গত মাসে সংসদ সচিবালয়ের কর্মচারীদের জন্য ডি- শ্রেণীর ২৫০টি, সি- শ্রেণীর ১৫০টি ও বি- শ্রেণীর ১০০টিসহ সর্বমোট ৫০০টি নতুন ফ্যাটের চাহিদার কথা বলা হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে সংসদ সচিবালয়ের কর্মচারীদের আবাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী সংসদের কার্য-উপদেষ্টা কমিটিতে ৫০০ বাসা দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করায় এ চিঠি দেয়া হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সচিব ড. জাফর আহমেদ খান গতকাল গণমাধ্যমকে বলেন, জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গভীর রাত পর্যন্ত অফিসে থাকতে হয়। এ জন্য গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছে আরো ৫০০টি বাসা চাওয়া হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ইতঃপূর্বে জাতীয় সংসদের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে মন্ত্রীরা দায়িত্ব পালন করতেন। বর্তমানে মন্ত্রীর পরিবর্তে সংসদ সদস্য সভাপতি হওয়ায় ভিআইপির সংখ্যা আগের তুলনায় ৫০-৬০ জন বেড়েছে। এ ছাড়া সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা বেড়েছে, অথচ সংসদ ভবনে অফিস করে সংখ্যা একই রয়েছে। অফিস করে সঙ্কট থাকায় ভিআইপি, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য অফিস ক বরাদ্দ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে সংসদ ভবনের পশ্চিম পাশে মন্ত্রী হোস্টেলে সংসদীয় কমিটির সভাপতি ও কয়েকজন মন্ত্রীর অফিস রয়েছে। কাজের গতিশীলতা আনার জন্য তাদের সংসদ ভবনে অফিস ক বরাদ্দ দেয়া প্রয়োজন। এ ছাড়া সচিব/যুগ্মসচিব হোস্টেলে ই-টাইপ ও ডি-টাইপের ৩০টি ফ্যাট রয়েছে। ওই ফ্যাটে সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা বরাদ্দপ্রাপ্ত হয়ে শুরু থেকেই বসবাস করছেন। তাদের অন্যত্র আবাসন সুবিধা দিয়ে স্থানান্তর করে সেখানে অফিস স্থাপন করা অতি জরুরি হয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সচিব/যুগ্মসচিব হোস্টেলে বসবাসরত ৩০ জন কর্মকর্তার জন্য ৩০টি ফ্যাটসহ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের যেসব কর্মকর্তা এখনো বাসা বরাদ্দ পাননি সেসব কর্মকর্তার জন্য জাতীয় সংসদের নিকটবর্তী মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়া ও আদাবরে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপ নির্মাণাধীন ভবনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ই-টাইপের ৫০টি এবং ডি-১ টাইপের ৫০টি, ফ্যাট এবং পর্যায়ক্রমে আরো ৪০০টি ফ্যাট বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
এ দিকে আগারগাঁর সংসদ সচিবালয় আবাসিক কমপ্লেক্স এলাকায় নানারকম অপকর্মসহ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে গড়ে ওঠা অযাচিত স্থাপনা তুলে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সেখানে ৪৪৮টি ফ্যাট রয়েছে। ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এগুলো উদ্বোধন করেন। কিন্তু সেখানে বরাদ্দপ্রাপ্ত অনেকেই বসবাস না করে অন্যত্র ভাড়া দিয়েছেন। এদের ভাড়া দেয়া এক ফ্যাটের বাসিন্দাদের অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগও পাওয়া গেছে। আর বেশির ভাগ ফ্যাটেই দেয়া হয়েছে সাবলেট। অন্য দিকে সবুজায়নের জন্য রাখা জায়গা দখল করে নিজেরা থাকা ছাড়াও গণপূর্ত অধিদফতরের কর্মচারীরা রমরমা ভাড়া বাণিজ্য চালাচ্ছেন। কিন্তু এসব উচ্ছেদ করার জন্য গণপূর্ত সচিব মো: শহীদ উল্লা খন্দকারের কাছে সংসদ থেকে ২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর ও ২০১৯ সালে ৬ মে আধা সরকারি চিঠি দেয়া হলেও এ বিষয়ে গৃহীত পদপে সম্পর্কে এখনো জাতীয় সংসদ সচিবালয়কে অবহিত করা হয়নি। এ জন্য বিষয়টি জানিয়ে আবারো চিঠি দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সংসদের সহকারী সচিব (এস্টেট) দেলোয়ার হোসেন বলেন, ৫ আগস্ট স্পিকার, চিফ হুইপ এবং হুইপরা জাতীয় সংসদ সচিবালয় আবাসিক কমপ্লেক্সটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তারা আবাসিক কমপ্লেক্সটির রণাবেণ ও সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ফলে এ বিষয়ে তারা অবৈধ টিনশেড ও ঝুপড়ি ঘর উচ্ছেদের ল্েয অতি জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। একই সাথে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আবার গণপূর্তের সচিব বরাবর চিঠি দেয়া হয়েছে।
সংসদের সিনিয়র সচিবের পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত ৫.২০ একর জায়গার ওপর জাতীয় সংসদ সচিবালয় আবাসিক কমপ্লেক্স সরকারি আবাসনব্যবস্থায় একটি মাইলফলক। এ কমপ্লেক্সটির পশ্চিম পার্শ্বে গ্রিন জোন ও ফিউচার এক্সটেনশনের জায়গায় পিডব্লিউডির স্টাফ ও বিভিন্ন শ্রেণীর লোকজন অবৈধভাবে টিনশেড ও ঝুপড়ি ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছে। এসব অযাচিত স্থাপনায় অবৈধ মাদকদ্রব্যের ব্যবহারসহ অন্যান্য অসামাজিক কার্যকলাপ ল করা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে এসব টিনশেড ও ঝুপড়ি ঘর সংলগ্ন স্থানে কয়েকটি অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে যা আবাসিক কমপ্লেক্সে বসবাসরত বরাদ্দপ্রাপ্তদের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া বিঘœ করাসহ বসবাসের পরিবেশ নষ্ট করছে। এ ছাড়া এসব অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠার কারণে জাতীয় সংসদ সচিবালয় আবাসিক কমপ্লেক্স প্রকল্পের গ্রিন জোন বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না। কমপ্লেক্সের নিরাপত্তা ও গ্রিন জোন বাস্তবায়নের স্বার্থে সংসদ সচিবালয় আবাসিক কমপ্লেক্সের মূল নকশার অন্তর্ভুক্ত স্থানে অবৈধ টিনশেড ও ঝুপড়ি ঘর আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অপসারণ করে জাতীয় সংসদ সচিবালয়কে বুঝিয়ে দেয়ার জন্য আবার বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। অন্যথায় বিদ্যমান সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আরো সংবাদ