১৯ আগস্ট ২০১৯

ফেরি ও লঞ্চঘাটে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়

সদরঘাটে লঞ্চে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের ভিড় : নয়া দিগন্ত -

আগামীকাল দেশজুড়ে পালিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা। এ উপলক্ষে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষজন ছুটছে নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে। ফলে বিভিন্ন মহাসড়ক, লঞ্চ ও ফেরিঘাটে বাড়তি চাপ পড়েছে। পাটুরিয়া ও আরিচায় ঘরমুখো মানুষ ও তাদের যানবাহনের প্রচণ্ড ভিড় দেখা গেছে। শিমুলিয়া ও কাঁঠালবাড়ী রুটেও বেশ চাপ পরিলক্ষিত হয়েছে। তবে দৌলতদিয়ায় চাপ অনেকটাই কম।
শিবালয় (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাটে ঈদে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেলেও ফেরিঘাট এলাকা ছিল যানজটমুক্ত। ঈদের ছুটির শুরু থেকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করায় মহাসড়কজুড়ে যানজট যেন স্থায়ীরূপ নিয়েছে। পরিবহনগুলোতেও যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ। এ দিকে, পাটুরিয়া ফেরিঘাটের বাইপাস রুটে ছোট যানবাহন বিশেষ করে মাইক্রো ও প্রাইভেট কারের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।
পাটুরিয়া ও আরিচাঘাট এলাকা সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ফেরি-লঞ্চঘাটের তেমন সমস্যা না থাকলেও শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী রুটে ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়ায় পাটুরিয়া রুটে অতিরিক্ত যানবাহন ও যাত্রীর চাপ বেড়েছে। মহাসড়কে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ না থাকায় যাত্রীরা দীর্ঘ পথে নেমে হেঁটে আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাট হয়ে লঞ্চ-ফেরিতে উঠে গন্তব্যে যাচ্ছে। আরিচা-কাজিরহাট রুটে লঞ্চে বাড়তি ভাড়া আদায়ের পাশাপাশি ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা হলেও ঘাটে প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্তরা এগুলো দেখেও না দেখার ভান করছেন।
নাম-পদবি প্রকাশ না করার শর্তে আরিচায় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসনের এক কর্মকর্তা এ প্রতিনিধিকে বলেন, ঘাট এলাকা যাত্রী ও যানবাহনমুক্ত রাখতে অনেক ‘অনিয়ম’ নিয়মে পরিণত হয়েছে। বিধায় এগুলো এড়িয়ে চলতে হচ্ছে।
ফেরি সেক্টর বিআইডব্লিউটিসির আরিচা অঞ্চলের ডিজিএম আযমল হোসেন জানিয়েছেন, ঈদ উপলক্ষে এ রুটের বহরে ফেরির সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। যানবাহনের পাশাপশি যাত্রীরা নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে পার হলেও মহাসড়কে যানবাহনের জটলায় যাত্রী দুর্ভোগ বেড়েছে।
পাটুরিয়া ঘাটে নৌ-পুলিশ সুপার মো: আব্দুল্লাহ আরেফ বলেন, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে প্রতি ঘণ্টায় লঞ্চে দুই হাজার ও ফেরিতে প্রায় পাঁচ হাজার যাত্রী এবং ফেরিতে প্রতি ঘণ্টায় বিভিন্ন ধরনের আড়াই শ’ যানবাহন পার হচ্ছে। মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম জানিয়েছেন, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও ঘাট এলাকায় উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশের পাঁচ শতাধিক সদস্যের পাশাপাশি রোভার স্কাউট কাজ করছে।
জেলা প্রশাসক এস এম ফেরদৌস জানিয়েছেন, এ রুটে ঘরমুখো যাত্রীদের ঈদযাত্রা নির্বিঘœ করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
রাজবাড়ী সংবাদদাতা জানান, দৌলতদিয়া ঘাটে তেমন চাপ নেই। শনিবার সকালে দৌলতদিয়া ঘাটে সরেজমিন দেখা যায়, সেখানে অপেক্ষমাণ যানবাহনের সারি খুব বড় নয়। তবে অপর দিক থেকে আসা মানুষ ও যানবাহন নামার চাপ রয়েছে। ঈদের আগে ও পরে তিন দিন করে সাধারণ পণ্যবাহী ট্রাক পারাপার বন্ধ করে দেয়ায় স্বাভাবিকভাবে পার হতে পারছে যাত্রীবাহী যানবাহন। বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ জানায়, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ২০টি ফেরি চলাচল করলে ঘাটে আর যানবাহন আটকে থাকবে না।
এ দিকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে চলাচলকারী লঞ্চে বাড়তি চাপের কারণে প্রতিটি লঞ্চেই অতিরিক্ত যাত্রী বহন করতে দেখা গেছে। প্রতি লঞ্চে ১৭০ থেকে ২০০ যাত্রী পরিবহন করার কথা থাকলেও পরিবহন করা হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ জন যাত্রী।
বিআইডব্লিউটিসি পাটুরিয়া ঘাট শাখার এজিএম জিল্লুর রহমান বলেন, ঈদের জন্য শেষের দিকে একটু চাপ যানবাহন ও যাত্রীদের। এ নৌরুটে ছোট-বড় ২০টি ফেরি ও ২২টি লঞ্চ চলাচল করছে।
মুন্সীগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, দক্ষিণ বঙ্গের ২৩ জেলার মানুষের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত শিমুলিয়া ঘাটে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী এ নৌরুটে বর্তমানে ১৭টি ফেরি, সাড়ে চার শতাধিক স্পিডবোট, ৮৮টি লঞ্চ দিয়ে পারাপার হচ্ছে ঈদে ঘরমুখো মানুষ। শনিবার ভোর থেকেই ঘাট এলাকায় যাত্রীদের চাপ দেখা গেছে। বেলা বৃদ্ধির সাথে সাথে এ চাপও দ্বিগুণ বেড়ে যায়। ঈদ উপলক্ষে এ ঘাটে চার শতাধিক পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া ঘাট এলাকায় মোবাইল কোর্টের জন্য সার্বক্ষণিক ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছেন।
বিআইডব্লিউটিএ মাওয়া শাখার সহকারী পরিচালক শাহাদাত হোসেন জানান, গত কয়েক দিন বৈরী আবহাওয়ার কারণে লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ৮৮টি লঞ্চে যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। ভাড়া ও যাত্রী বেশি নেয়ার কোনো অভিযোগ নেই।
সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সিরাজদিখান সার্কেল) মো: রাজিবুল ইসলাম জানান, ফেরিঘাট, লঞ্চঘাট ও স্পিডবোট ঘাটে আমাদের পর্যাপ্ত সদস্য রয়েছেন। বাসে ভাড়া বেশি নেয়াসহ কোনো প্রকার অনিয়মের অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি, অনিয়মের অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 


আরো সংবাদ

bedava internet