১৩ ডিসেম্বর ২০১৯
ঢাকায় সর্বদলীয় বৈঠক

কাশ্মিরি জনগণের আন্দোলনের সাথে একাত্মতা ঘোষণা

কাশ্মির ইস্যুতে সর্বদলীয় বৈঠকে অতিথিরা : নয়া দিগন্ত -

কাশ্মিরের বর্তমান পরিস্থিতিতে গতকাল ঢাকায় এক সর্বদলীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের পুরানা পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে কাশ্মিরি জনগণের আন্দোলনের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করা হয় এবং বাংলাদেশের জনগণ কাশ্মিরি মজলুম মানুষের পাশে থাকবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়। একই সাথে নেতারা ভারত সরকারকে সব নিপীড়ন বন্ধ করে ঐক্যবদ্ধ কাশ্মিরিদের সাংবিধানিক অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানান।
বৈঠকে নেতৃবৃন্দ ভারতের অধিকৃত জম্মু কাশ্মিরের বর্তমান পরিস্থতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে স্বাধীনতাপরবর্তী ১৯৪৭ সালে ভারত যখন বিভক্ত হয়, তখন জাতিসঙ্ঘ সনদ অনুযায়ী কাশ্মিরের জনগণকে গণভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের যে অধিকার দেয়া হয়েছে, বর্তমান হিন্দুত্ববাদী উগ্র সন্ত্রাসবাদী বিজেপি সরকার তা বাতিল করে কাশ্মিরের জনগণের রক্ত নিয়ে হোলি খেলায় মেতে উঠেছে।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ভারতের সংবিধানে ৩৭০ ও ৩৫/এ ধারায় কাশ্মিরকে অন্যান্য রাজ্য থেকে আলাদা স্বকীয়তা দেয়া হয়। সেখানে অকাশ্মিরি কোনো লোক জমিজমা ক্রয় কিংবা চাকরি-বাকরি করতে পারবে না। নিরাপত্তা, পররাষ্ট্র ও অর্থ ছাড়া বাকি সব ব্যাপারে তাদের স্বাধীনতা থাকবে। কিন্তু ভারত বিগত ৬৯ বছর ধরে জাতিসঙ্ঘ সনদ উপেক্ষা করে সেখানে গণভোট দেয়নি। এ দীর্ঘ সময় ধরে ভারত কাশ্মিরিদের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়ে আসছে। হত্যা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও নারী ধর্ষণের মতো জঘন্যতম বর্বরতা চালিয়ে যাচ্ছে। ৩৭০ ও ৩৫/এ (ক) ধারা বাতিল করে কাশ্মিরকে দুই ভাগ করে দেয়া হয়েছে এবং বিধানসভা বাতিল করে পুরো কাশ্মির অঞ্চলকে কেন্দ্রীয় শাসনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করে সেখানে কারফিউ ও ১৪৪ ধারা জারি করে তাদের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। কাশ্মিরের নেতৃবৃন্দসহ অসংখ্য সাধারণ মানুষকে গ্রেফতার করেছে। তাদের খাদ্য-রসদপত্র বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে তাদের জীবন আরো দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় আমরা নীরব থাকতে পারি না।
বৈঠকে জাতীয় নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশের জনগণ ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যখন স্বাধীনতা সংগ্রাম করেছে, তখন ভারত আমাদের সব ধরনের সহযোগিতা করেছে। ভারতের নাগরিক হিসেবে কাশ্মিরিরাও এ সহযোগিতায় ছিল। আজ সময় এসেছে তাদের পাশে দাঁড়ানোর। তাই আজকের এ সর্বদলীয় বৈঠক থেকে কাশ্মিরি জনগণের আন্দোলনের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করা হচ্ছে এবং বাংলাদেশের জনগণ কাশ্মিরি মজলুম মানুষের পাশে থাকার ঘোষণা দিচ্ছে। আমরা ভারত সরকারকে সব নিপীড়ন বন্ধ করে ঐক্যবদ্ধ কাশ্মিরিদের সাংবিধানিক অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি। বৈঠকে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মতামতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে কাশ্মিরি মুসলমানদের পক্ষে বক্তব্য রাখার জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা হয়, কাশ্মিরের জনগণের মানবাধিকার যেভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে তার প্রতিবাদ না করে সরকারের কিছু ব্যক্তির ভারত তোষণমূলক বক্তব্য খুবই দুঃখজনক। নেতৃবৃন্দ এসব বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান। এ ছাড়া সব আন্তর্জাতিক সংস্থা ও ফোরামগুলোর প্রতি কাশ্মিরিদের মানবিক মর্যাদা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
বৈঠকে আগামী শুক্রবার সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয় এবং আসন্ন ঈদুল আজহা ও জুমার বয়ানে কাশ্মিরি জনগণের পক্ষে জনসচেতনতা সৃষ্টি ও দোয়া করার জন্য খতিবদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের মহাসচিব ও দেশের শীর্ষ আলেম আল্লামা নূর হোছাইন কাসেমীর সভাপতিত্বে ও জমিয়তের প্রচার সম্পাদক মাওলানা জয়নুল আবেদীনের পরিচালনায় বৈঠকে স্বাগত বক্তৃতা করেন, জমিয়ত সহসভাপতি মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী। বক্তৃতা করেন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব:) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম (বীর প্রতীক), ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের আমির ড. মাওলানা ঈসা শাহেদী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, জমিয়তের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মনজুরুল ইসলাম আফেন্দী, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মাওলানা আবদুল করীম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা: মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ন্যাশন্যাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ- ভাসানী) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, ঢাকা মহানগর যুগ্মসচিব মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী, এনডিপির চেয়ারম্যান কারী আবু তাহের, বাংলাদেশ পিপলস লীগের মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুব হোসেন, মাওলানা মুস্তফা তারেকুল হাসান, মাওলানা আবদুল গফ্ফার ছয়ঘরী প্রমুখ।


আরো সংবাদ




hacklink Paykwik Paykasa
Paykwik