২০ আগস্ট ২০১৯

দেশে সরকার আছে বলে মনে হয় না : দুদু

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অপরাজেয় বাংলাদেশ আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখছেন শামসুজ্জামান দুদু : নয়া দিগন্ত -

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, দেশে আজ কোনো সরকার আছে বলে দেশবাসী মনে করে না। সরকারের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, তিন বছরের শিশু থেকে বৃদ্ধা পর্যন্ত কেউ ধর্ষণের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। গণপিটুনির নামে দেশজুড়ে মানুষ হত্যার মহোৎসব শুরু হয়েছে। গত ১৫ দিনে শেয়ারমার্কেট থেকে ২৭ হাজার কোটি টাকা উধাও হয়ে গেছে। এমন দুঃসহ অবস্থায় রাষ্ট্র পরিচালনায় কাকে অযোগ্য বলবÑ প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী নাকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে?
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘অপরাজেয় বাংলাদেশ’ এর উদ্যোগে কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেয়ার দাবিতে এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আয়োজক সংগঠনের সহসভাপতি খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল, বিএনপির সহশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ফরিদা মনি শহীদুল্লাহ প্রমুখ বক্তব্য দেন।
সম্প্রতি আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের দেয়া বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, গত এক শতাব্দীতে এরকম একজন অযোগ্য আইনমন্ত্রী বাংলাদেশের জনগণ প্রত্যক্ষ করেননি। আজ রাস্তায় বের হতে ভয় লাগে। কেউ জানে না কখন কাকে কোথায় পিটিয়ে হত্যা করা হয়! অথচ আইনমন্ত্রী এসব ঘটনাকে বিরোধী দলের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নিপীড়ন ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহা দেশদ্রোহমূলক নালিশ করে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করার পরও আইনমন্ত্রী বলেছেন, ‘এটা দেশদ্রোহ বক্তব্য নয়, ছোট্ট একটা ঘটনা।’ এরপরও কি আমরা আইনমন্ত্রীকে যোগ্য বলতে পারি?
দুদু বলেন, সরকার যখন দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে তাহলে জনগণের টাকায় বেতন কেন নেবে? প্রধানমন্ত্রী বন্যাদুর্গতদের রেখে লন্ডনে চলে গেলেন। দেশে খুন-ধর্ষণের মহোৎসব চলছে, গণপিটুনিতে মানুষ হত্যা শুরু হয়েছে, কেউ দেখার নেই। যদি তা-ই হয় তবে সরকারেরই বা কী দরকার আছে? এই সরকার তো এমনিতেই অবৈধ, ভোটারবিহীন, দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার। এই সরকার বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে বিলুপ্ত করে, মাটি দিয়ে, কবরস্থ করেছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও বেগম খালেদা জিয়াকে যদি মুক্ত করতে হয় তবে আন্দোলন ও প্রতিবাদ ছাড়া দ্বিতীয় কোনো পথ নাই। বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি দেশে চলছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যে একচোখা নীতি, তাতে করে আইনি পথে বেগম জিয়া মুক্তি পাবেন সিনিয়র আইনজীবীরাও তা মনে করেন না। আন্দোলন ও প্রতিবাদ মানুষকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শেখায়। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অহঙ্কার। এই জাতি মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিল। সেই মুক্তিযুদ্ধকে আওয়ামী লীগ সরকার অপমানিত করেছে। আমরা মনে করি প্রতিবাদ ও আন্দোলন ছাড়া এই দেশে বেঁচে থাকা অসম্ভব। তাই আসুন সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন গড়ে তুলি। রাজপথে নামি। বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করি। গণতন্ত্রকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করি।


আরো সংবাদ




bedava internet