২২ জুলাই ২০১৯

সমবায় অধিদফতরে পদোন্নতি নিয়ে নয়-ছয়

-

মেধা, যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতা প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে পদোন্নতির নিয়ামক হলেও সমবায় অধিদফতরের কর্মকর্তাদের তিনটি পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। যোগ্য ও সিনিয়রদের বিভাগীয় মামলার অজুহাতে পদোন্নতি বঞ্চিত করারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। জ্যেষ্ঠ ও যোগ্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার বিষয়টিও সাজানো-পরিকল্পিত বলে গুরুত্বর অভিযোগ এসেছে। অভিযুক্তদের মামলার বিষয়টিও অবগত করানো এবং তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনেরও সুযোগ দেয়া হয়নি বলে জানা গেছে। অধিদফতরের সিনিয়র কর্মকর্তাদের আপত্তি সত্ত্বেও পদোন্নতিপ্রত্যাশী জ্যেষ্ঠ, মেধাবী ও যোগ্যদের বিরুদ্ধে সাজানো অভিযোগে মামলা করা হয়। আরো গুরুতর যে অভিযোগ উঠেছে তা হচ্ছেÑ পদোন্নতির ফিট লিস্ট করতে যে কার্যপত্র প্রণয়ন করা হয়েছে, তাও ত্রুটিপূর্ণ ও সাজানো ছিল।
জানা গেছে, এ সব নয়-ছয়ের ও তুঘলকি কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে ছিলেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা। তারই নির্দেশে অধিদফতরের বর্তমান সিনিয়র কর্মকর্তারা এরূপ সাজানো কার্যপত্র তৈরি এবং গায়েবি মামলা দায়ের করতে বাধ্য হন। এরই ভিত্তিতে গত ৯ জুলাই তিন স্তরের পদোন্নতি দিয়ে মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এ নিয়ে সমবায় অধিদফতরের সিনিয়র কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বঞ্চিতদের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। গত দুই-তিন দিন অধিদতরের কর্মকর্তাদের মধ্যে বলাবলি করতে শোনা গেছে, এ অবস্থায় অধিদফতরের ‘চেইন অফ কমান্ড’ নষ্ট হবে এবং জুনিয়রদের স্যার সম্বোধন করতে বাধ্য হবেন সিনিয়ররা। এর ফলে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বিঘিœত হওয়ারও আঙ্ককা দেখা দিয়েছে।
গত মঙ্গলবারের পরিপত্র জারি এবং এ নিয়ে নানা অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব কামাল উদ্দীন তালুকদার বলেন, তিন স্তরের পদোন্নতির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি। প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা (ডিপি) রয়েছে তাদের পদোন্নতির জন্য বিবেচনায় আনা যায়নি। আকস্মিকভাবে কোনো ধরনের বিভাগীয় মামলা করা হয়নি। যা কিছু হয়েছে বিধি-বিধান অনুসরণ করা হয়েছে। নিয়ম ও বিধির বাইরে কিছু হয়নি।
মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৬ ডিসেম্বর বিসিএস (সমবায়) ক্যাডারের অতিরিক্ত নিবন্ধক/যুগ্ম-নিবন্ধক ও উপ-নিবন্ধক পদে পদোন্নতির জন্য বিভাগীয় পদোন্নতির বোর্ডের সভা ডাকা হয়। সভায় শূন্য পদের বিপরীতে যোগ্য কর্মকর্তাদের তালিকা উপস্থাপন করা হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, মেধাক্রম ও যোগ্য এবং জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতেই কর্মকর্তাদের বিবেচনা করা হবে। এরই ভিত্তিতে নিয়োগবিধি অনুসরণ করেই যোগ্যদের একটি তালিকা অধিদফতর থেকে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের অধীন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এ তালিকায় জ্যেষ্ঠতা অনুসরণ করে অতিরিক্ত নিবন্ধক পদে ছয়জন, যুগ্ম-নিবন্ধক পদে ২০ জন ও উপ-নিবন্ধক পদে ১২ জন কর্মকর্তার নাম প্রস্তাব করা হয়।
জানা গেছে, গত ২ জুলাই’১৯ পদোন্নতি বোর্ডের সভার আগে যোগ্য কর্মকর্তাদের নামে গায়েবি বিভাগীয় মামলা সাজানো হয়। এ সব সাজানো মামলার ব্যাপারে পদোন্নতি বোর্ডে জনপ্রশাসন এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা আপত্তি ও বিরোধিতা করেন। কিন্তু বোর্ডের সভাপতি এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব আপত্তি আমলে নেননি। তিনি তার পছন্দের কর্মকর্তাদের পদোন্নতির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেন। এ সব কর্মকর্তারা মেধা ও জ্যেষ্ঠতায় তালিকায় অনেক জুনিয়র।
জানা গেছে, এতদিন বিভাগীয় পদোন্নতি বোর্ডের (ডিপিসি) কার্যপত্রে মোট ১০টি কলাম ছিল। এবার ১৬টি কলাম দিয়ে জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে। আগে পাঁচ বছরের বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন (এসিআর) বিবেচনায় নেয়া হতো। এবার সারা জীবনের এসিআর দিয়ে পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং কথিত খারাপ দিকগুলো একে একে তুলে ধরা হয়েছে।
সমবায় সমিতি নিবন্ধন ও বিধিবদ্ধ রুটিন কাজের জন্য বেনামি অভিযোগ এনে গোপনে ভিত্তিহীন প্রতিবেদন তৈরি করে দুদকে প্রেরণ করা হয়। যা পরবর্তীতে ফেরত এনে সংসদের সংসদীয় কমিটির পত্রের অপব্যাখ্যা দিয়ে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ফাঁসানো হয়েছে। ৮টি ভুয়া সমবায় সমিতির নিবন্ধন সংক্রান্ত মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিপুলসংখ্যক অফিসারকে পদোন্নতিবঞ্চিত করা হয়েছে। অথচ যাদের পদোন্নতি দেয়া হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ৮টি ভুয়া সমবায় সমিতির নিবন্ধন করাসহ অন্যান্য অভিযোগ রয়েছে। উচ্চ আদালতে যে কর্মকর্তার দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলা চলমান রয়েছে, তাকেও পদোন্নতি দেয়া হয়। প্রণীত কার্যপত্রে এ সব তথ্য গোপন করা হয়েছে। এত কিছুর পরও সমবায় মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তার ইচ্ছায় জুনিয়ররা পদোন্নতি পেয়েছেন। 


আরো সংবাদ

gebze evden eve nakliyat instagram takipçi hilesi