২২ জুলাই ২০১৯

শিক্ষক লাঞ্ছনায় ইউএসটিসির ৪ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

-

ইউনিভার্সিটি অব সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, চট্টগ্রামের (ইউএসটিসি) ইংরেজি বিভাগের উপদেষ্টা অধ্যাপক মাসুদ মাহমুদকে কেরোসিন ঢেলে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চারজনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় তাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করেছে প্রতিষ্ঠানটির শৃঙ্খলা কমিটি। তবে লাঞ্ছনার শিকার অধ্যাপক মাসুদ মাহমুদ কর্তৃপক্ষের এ শাস্তিমৃলক ব্যবস্থা প্রত্যাখান করেছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ইউএসটিসির প্রক্টর কাজী নুর-ই-আলম সিদ্দিকী জানিয়েছেন, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গ্রেফতার হওয়া মাহমুদুল হাসানকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। মো: শেখ রাসেল শাহেন শাহ, মো: মইনুল আলম এবং মোহাম্মদ আলী হোসাইন নামে তিন ছাত্রকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য ১৫ জুলাই পর্যন্ত সময়ও দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এদের মধ্যে মাহমুদুল হাসান ইংরেজি বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণী, শেখ রাসেল একই বিভাগের সপ্তম সেমিস্টার এবং মইনুল ও আলী স্নাতকোত্তর শ্রেণীর দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্র।
এ দিকে অধ্যাপক মাসুদ মাহমুদ ইউএসটিসির অভ্যন্তরীণ তদন্ত ও চার ছাত্রের বিরুদ্ধে নেয়া ব্যবস্থা প্রত্যাখান করেছেন। তিনি বলেছেন, আমি সুনির্দিষ্টভাবে ২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলাম। মাত্র চারজন ছাড়া বাকিদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হলো না। এই তদন্ত অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের ‘খুশি করার’ তদন্ত। পুলিশের ভূমিকায়ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই শিক্ষক।
গত ২ জুলাই দুপুর ১২টার দিকে নগরীর খুলশীতে ইউএসটিসির ইংরেজি বিভাগের উপদেষ্টা অধ্যাপক মাসুদ মাহমুদকে অফিস থেকে টেনে বের করে রাস্তায় নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে লাঞ্ছিত করে একদল শিক্ষার্থী। এরপর ওই শিক্ষার্থীরাই আবার ইউএসটিসি ক্যাম্পাসের সামনে প্রায় একঘণ্টা ধরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে।
এই ঘটনার পর পুলিশ ক্যাম্পাস থেকে মাহমুদুল হাসানকে আটক করে। রাতে ইউএসটিসির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার দিলীপ কুমার বড়ুয়া বাদি হয়ে নগরীর খুলশী থানায় কেরোসিন ঢেলে শিক্ষককে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। এ ছাড়া ঘটনা তদন্তে ইউএসটিসি কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। কমিটি গত ৮ জুলাই ইউএসটিসির ভিসির কাছে ঘটনায় চারজন জড়িত মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করে। ওইদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির সভায় চার ছাত্রের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

 


আরো সংবাদ

gebze evden eve nakliyat instagram takipçi hilesi