১৪ অক্টোবর ২০১৯

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে শক্তিশালী করলেই স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কাক্সিক্ষত উন্নয়ন সম্ভব

আলোচনায় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা
-

সারা দেশে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হলে এবং জনগণের কাছে সহজে সেবা পৌঁছে দিতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে শক্তিশালী করতে হবে। এখানে ৩২ থেকে ৩৫ জন চিকিৎসকের পদ রয়েছে। এদের মধ্যে ছয় থেকে সাতজন নির্দিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ (কনসালট্যান্ট) চিকিৎসক। মোট রোগীর অর্ধেকেরও বেশি এখান থেকেই সুস্থ হয়ে যেতে পারে। তাহলে ঢাকাসহ দেশের টার্শিয়ারি হাসপাতালগুলোর চিকিৎসকরা গবেষণাসহ জটিল রোগের চিকিৎসায় মনোযোগ দিতে পারবেন। গ্রিন রোডের সেল নিবাস সম্মেলন কক্ষে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ আয়োজিত জাতীয় স্বাস্থ্য বাজেট ২০১৯-২০ উপলক্ষে আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এ ধরনের অভিমত প্রদান করেন।
এনডিএফের সেক্রেটারি জেনারেল বিশিষ্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা: এ কে এম ওয়ালীউল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনায় প্রধান বক্তা ছিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক আঞ্চলিক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা: মোজাহেরুল হক। আলোচনা বিষয়ের ওপর প্রস্তুতকৃত ড. শফিকুল ইসলামের প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইবনে সিনা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যাপক ডা: আবু খলদুল আল মাহমুদ। আলোচনা করেন বিশিষ্ট হেপাটোলস্টি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ডা: মো: শাহীনুল আলম, অধ্যাপক ডা: মোয়াজ্জেম হোসেন ও তুরস্কের আনাদুলু নিউজ এজেন্সির বাংলাদেশস্থ প্রতিনিধি মো: কামরুজ্জামান বাবলু। সঞ্চালনা করেন এনডিএফের সহকারী সেক্রেটারি ডা: সাজিদ আব্দুল খালেক ও ডা: শাহাদাত হোসেন।
অধ্যাপক মোজাহেরুল হক বলেন, বাংলাদেশের মানুষের দুঃখ হলো এ দেশে কখনো জনমুখী স্বাস্থ্য বাজেট হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে সারা বছরই স্বাস্থ্য বাজেট নিয়ে আলোচনা হয়। আইন প্রণেতারা জনগণের কাছে বাজেটের নানা দিক উপস্থাপন করেন এবং জনমত গড়ে তোলেন। উন্নত জাতি হওয়ার পূর্বশর্ত হচ্ছে স্বাস্থ্যবান জাতি হওয়া। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য শিক্ষায় ব্যয় বাড়াতে হবে। ব্যয় বাড়াতে হবে স্বাস্থ্য সেবায়ও যেন চিকিৎসা করতে দরিদ্র হয়ে না যায়। তিনি একটি গবেষণা উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশের কিছু আপনজনের জন্য চিকিৎসা করাতে কেউ গিয়ে দরিদ্র হয়ে যাচ্ছে এবং এ সংখ্যাটি বছরে ৫০ লাখের বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী চিকিৎসায় ব্যক্তির পকেট থেকে ৩২ শতাংশ টাকার বেশি যেন খরচ না হয়। অবশিষ্ট খরচ সরকার যোগান দেবে নানাভাবে। বর্তমানে জনগণের পকেট থেকে চিকিৎসা বাবদ ৬৭ শতাংশ টাকা ব্যয় করতে হয়।
অধ্যাপক মোজাহেরুল হক বলেন শুধু বাজেট বাড়ালেই মানুষ ভালো স্বাস্থ্য সুবিধা পেয়ে যাবে তা নয়। একটি দক্ষ স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। একই সাথে চিকিৎসকদের হতে হবে পেশাদার। রোগীর সাথে সু-আচরণ করতে হবে। রোগীর আস্থা বাড়ানোর জন্য চিকিৎসকদেরই ব্যবস্থা নিতে হবে।
ডা: এ কে এম ওয়ালী উল্লাহ বলেন, রোগীর প্রতি চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে রোগীরা আস্থাহীনতায় পাশের দেশগুলোতে চলে যাচ্ছে। আমাদের এখানেও ভালো চিকিৎসক আছেন। চিকিৎসকদের উচিত রোগীর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা। তিনি বাজেট সম্পর্কে বলেন, আমরা চাই স্বাস্থ্য বাজেট হবে জনকল্যাণমুখী। এটা চিকিৎসকমুখী হোক এটাও আমরা চাই। তিনি বলেন, আমাদের জিডিপি অনুযায়ী স্বাস্থ্যে বরাদ্দ কম। আমরা সরকারের কাছে আহŸান জানাচ্ছি জিডিপির ১০ শতাংশ যেন স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ব্যয় করা হয়।
ডা: শাহীনুল আলম বলেন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা জনমুখী করার অন্যতম অন্তরায় অব্যবস্থাপনা। প্রস্তাবিত বাজেটে যে ২৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে তা যথেষ্ট নয়। আইসিডিডিআরবির একটি গবেষণা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা দেখিয়েছেন চিকিৎসা করতে আসা বাংলাদেশের ২ শতাংশ মানুষ ভিক্ষা করে টাকা নিয়ে আসে। এটা খুবই লজ্জা ও কষ্টের। দরিদ্রদের আরো বাজেট বরাদ্দ দেয়া হলে এসব বন্ধ হবে।


আরো সংবাদ




astropay bozdurmak istiyorum