২১ জুলাই ২০১৯

দেশে শিশুজন্মে অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার বেড়েছে

সেভ দ্য চিলড্রেনের তথ্য
-

শিশুজন্মে বাংলাদেশে ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার। সেভ দ্য চিলড্রেন প্রকাশিত নতুন পরিসংখ্যানে এ তথ্য দিয়ে বলা হয়েছে ’১৬ থেকে ২০১৮ সালে এই বৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৫১ শতাংশে। কেবল গত বছরই বাংলাদেশে ৮ লাখ ৬০ হাজার অপ্রয়োজনীয় প্রসবকালীন অস্ত্রোপচার হয়েছে এবং অন্য দিকে প্রায় ৩ লাখ নারী থেকে যাচ্ছেন যাদের অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হলেও ব্যয়বহনের সামর্থ্য নেই কিংবা কাক্সিক্ষত চিকিৎসা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারছেন না।
সেভ দ্য চিলড্রেনের রিপোর্টটি প্রসবকালীন অস্ত্রোপচারের ক্রমবর্ধমান বিস্তৃতির দিকে গুরুত্ব দিয়েছে যেখানে বলা হয়েছে মা ও শিশু দু’জনের ঝুঁকির কথা জেনেও দেশের ধনী শ্রেণীর মধ্যে রেকর্ডসংখ্যক মানুষ অস্ত্রোপচারের দিকে ঝুঁকছে।
বিশেষজ্ঞ বা রিপোর্টের মূল পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ২০১৮ সালে বাংলাদেশী বাবা-মায়েরা সিজারিয়ানের পেছনে খরচ করেছে ৪৮৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার যা চিকিৎসাগতভাবে অপ্রয়োজনীয় ছিল। এই খরচ প্রতি জনে গড়ে ৬১২ মার্কিন ডলার।
২০১৮তে হওয়া সব প্রসবকালীন অস্ত্রোপচারের মধ্যে ৭৭ শতাংশই অর্থাৎ ৮ লাখ ৬০ হাজার অস্ত্রোপচারই চিকিৎসাগতভাবে অপ্রয়োজনীয় ছিল যেখানে ২০১৬তে এই সংখ্যাটি ছিল ৫ লাখ ৭০ হাজার অর্থাৎ বৃদ্ধি ঘটেছে ৫১ শতাংশ।
একই সময়ে প্রায় ৩ লাখ নারী থেকে যাচ্ছেন যাদের অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হলেও ব্যয়বহনের সামর্থ্য না থাকায় কিংবা কাক্সিক্ষত চিকিৎসা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারছেন না।
২০০৪ সাল থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশে প্রসবকালীন অস্ত্রোপচার ৪ শতাংশ থেকে ৩১ শতাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সেভ দ্য চিলড্রেন এই বিষয়টিকে আরো গুরুত্বসহকারে দেখে ডাক্তারদের ওপর নজরদারি রেখে একটি সুষম ভারসাম্যে আসার জন্য কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং মাতৃস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আরো ফান্ডিং বাড়ানোর আশা রাখছে।
সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর এবং নবজাতক ও মাতৃস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. ইশতিয়াক মান্নান বলেন, ‘অস্ত্রোপচারের এই জনপ্রিয়তা এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করেছে যে দিনকে দিন মায়েরা আরো বেশি এই অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের দিকে ঝুঁকছেন। তারা বিশ্বাস করেন যে হয়তো এটি আরো বেশি আরামদায়ক হবে কিংবা তারা তাদের চিকিৎসকদের কথায়ও বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হলো, যে দরিদ্র মায়েদের সত্যিই সিজারিয়ান প্রয়োজন হয় তারা সেই পর্যন্ত পৌঁছাতেই পারেন না।’ তিনি আরো বলেন, ‘চিকিৎসক এবং চিকিৎসাসুবিধা মূলত প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে না গিয়ে অস্ত্রোপচার করতে অনুপ্রাণিত করে।’ বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হচ্ছে স্বীকৃত মিডওয়াইফের অভাব, যারা প্রাকৃতিক জন্মদানে সাহায্য করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টাই কেবল করে না, বরং ব্যস্ত চিকিৎসকদের বোঝাও অনেকাংশে কমায়।


আরো সংবাদ




gebze evden eve nakliyat instagram takipçi hilesi