২৩ জুলাই ২০১৯

রাজীবের পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ

-

রাজধানীতে দুই বাসের রেষারেষিতে হাত হারানোর পর নিহত তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজীব হাসানের মৃত্যুর ঘটনায় ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। দুই মাসের মধ্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) ও স্বজন পরিবহনকে এ ক্ষতিপূরণ আদায় করতে বলা হয়েছে। গতকাল বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো: খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ ক্ষতিপূরণ প্রশ্নে এর আগে জারি করা রুলের নিষ্পত্তি করে এ রায় দেন।
রায়ে আদালত রাজীবের নিহতের জন্য বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহনকে দায়ী করেছেন। আদালত ক্ষতিপূরণের আদেশ দেয়ার পাশাপাশি সড়কে যাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু নির্দেশনাও দিয়েছেন। আদালত বলেছেন, গত বছর জাতীয় সংসদে পাস হওয়া বহুল আলোচিত ‘সড়ক পরিবহন আইন’ ছয় মাসের মধ্যে কার্যকর করতে হবে। লাইসেন্স দেয়ার সময় চালকদের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা ও ডোপ টেস্ট করাতে হবে। এ ছাড়া বাসে যত্রতত্র যাত্রী না তোলা, চলন্ত অবস্থায় বাসের দরজা বন্ধ রাখা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল বা সংরক্ষিত এলাকার সামনে অ্যাম্বুলেন্স বা ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ছাড়া অন্য কোনো যানবাহনের হর্ন না বাজানোর কথাও রয়েছে নির্দেশনায়।
রায় ঘোষণার সময় রাজীবের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। বিআরটিসির পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মনিরুজ্জামান।
আদেশের পর রিটের আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, রায়ে আদালত বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহনকে সমানভাবে দায়ী করেছেন। আদালত বলেছেন, চালকদের দায়িত্ব অবহেলার কারণে উভয় পরিবহন কর্তৃপক্ষ দায় এড়াতে পারে না। এরপর আদালত রাজীবের দুই ভাইয়ের লেখাপড়া এবং ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দেন। এর মধ্যে ২৫ লাখ টাকা বিআরটিসি ও ২৫ লাখ টাকা স্বজন পরিবহনকে দিতে হবে। বিআরটিসি আইনজীবী মনিরুজ্জামান বলেন, আমরা ন্যায়বিচার পাইনি। আমরা আপিলে যাবো।
গত ৮ মে রুলের শুনানি শেষে ২৩ মে রায়ের দিন ধার্য করেছিলেন হাইকোর্ট। ওই দিন রায় ঘোষণা করে কোনো ব্যক্তি দুর্ঘটনায় আহত বা নিহত হলে সংশ্লিষ্ট গাড়ির ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরণ দিতে পারে কি না এ বিষয়ে শুনানি হয়। এরপর ওই দিন রায় ঘোষণার জন্য ২০ জুন দিন ধার্য করা হয়।
২০১৮ সালের ৩ এপ্রিল রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারার কাছে বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহনের দুই বাসের রেষারেষিতে ডান হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় রাজীবের। পরে তাকে পান্থপথের শমরিতা হাসপাতালে নেয়া হয়। এ ঘটনায় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে পরদিন রাজীবের চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিটটি দায়ের করেন আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ এপ্রিল রাজীবের মৃত্যু হয়।


আরো সংবাদ

সকল




gebze evden eve nakliyat instagram takipçi hilesi