০৭ ডিসেম্বর ২০১৯

ঝুঁকিপূর্ণ দাহ্য পদার্থের সংরক্ষণাগার টঙ্গীতে নির্মাণব্যয় ধরা হয়েছে ৯১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা; স্থায়ী রাসায়নিক শিল্পনগরী হবে সিরাজদিখানে

-

জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে পুরান ঢাকার ঝুঁকিপূর্ণভাবে সংরক্ষিত রাসায়নিক পদার্থগুলো নিরাপদ স্থানান্তর ও আপৎকালীন সময়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিভিন্ন দাহ্য এবং উদ্বায়ী পদার্থের নিরাপদ সংরক্ষণ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যেহেতু সিরাজদিখানে এই খাতের পল্লী হতে সময় লাগবে তাই গাজীপুরে এই গুদাম করা হচ্ছে। এটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। গাজীপুরে বাংলাদেশ ইস্পাত প্রকৌশল করপোরেশনের নিজস্ব জমিতে এটি স্থাপন করা হবে। আজ মঙ্গলবার প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় পেশ করা হচ্ছে বলে একনেক সূত্রে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, সম্প্রতিসহ কয়েক দফায় পুরান ঢাকার চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর সিরাজদিখানে এই পল্লী স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। কিন্তু সেটি সম্পন্ন হতে সময় লাগবে বিধায় গাজীপুরে অস্থায়ী ভিত্তিতে রাসায়নিক পদার্থের গুদাম নির্মাণ করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এর আগে কেরানীগঞ্জে ৫০ একর জমিতে এটি গড়ে তোলার কথা থাকলেও এখন জমির পরিমাণ বাড়িয়ে ৩১০ একর করা হয়েছে। এ জন্য এক হাজার ৬১৬ কোটি টাকা খরচে সংশোধন প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে ‘বিসিক কেমিক্যাল পল্লী’ প্রকল্পটি। চলতি অর্থবছর থেকে আগামী ২০২২ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)।
প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, পুরান ঢাকা একটি ঐতিহ্যবাহী ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। এই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় রাসায়নিক পদার্থ মজুদের জন্য গুদাম থাকা অত্যন্ত বিপজ্জনক। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় রাসায়নিক পদার্থ মজুদের জন্য গুদাম যে কতটা বিপজ্জনক তার ভয়াবহতা পুরান ঢাকার নিমতলীর মানুষ ২০১০ সালে প্রথম প্রত্যক্ষ করেছিল। পরে পুরান ঢাকার চকবাজারস্থ চুড়িহাট্টায় গত ২০ ফেব্রুয়ারি একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। পুরান ঢাকায় রাসায়নিক গুদামজনিত দুর্ঘটনা ভবিষ্যতে যেন আর না ঘটে সে লক্ষ্যে সরকার বিসিকের মাধ্যমে বৈধ কেমিক্যাল ব্যবসায়ীদের জন্য স্থায়ীভাবে কেমিক্যাল কারখানা ও গুদাম নির্মাণের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সময়সাপেক্ষ। তাই অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে শুধু বৈধ লাইন্সেধারী ব্যবসায়ীদের আমদানিকৃত কেমিক্যাল পদার্থ সংরক্ষণের জন্য টঙ্গীর কাঁঠালদিয়াতে অস্থায়ী গুদাম নির্মাণ করার উদ্যোগ ও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বিস্ফোরক অধিদফতর, ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সম্মিলিত মতামতের পরিপ্রেক্ষিতে গুদামের প্রাথমিক ডিজাইন করা হয়। গত ১০ মার্চ শিল্প মন্ত্রণালয়ের যাচাই কমিটির সভায় ডিজাইনটি চূড়ান্ত করা হয়। এতে ৬২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয়ে গুদাম নির্মাণ করা হবে। নলকূপ স্থাপন, ওভারহ্যাড এবং আন্ডারগ্রাউন্ড পানির ট্যাংক নির্মাণ, বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার স্থাপন, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি, সিসিক্যামেরা ও মনিটরিং সিস্টেম স্থাপন করতে ব্যয় হবে ১৮ লাখ টাকা।
পরিকল্পনা কমিশনের শিল্পশক্তি বিভাগের সদস্য শামীমা নার্গিস বলেছেন, এই প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাসায়নিক কারখানা ও গুদামগুলো একটি নিরাপদ জায়গায় কম সময়ের মধ্যে স্থানান্তর করা সম্ভব হবে। এতে করে রাসায়নিক কারণে সৃষ্ট সব দুর্যোগ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে। ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার মানুষের জানমালের সুরক্ষা হবে। পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন ঘটবে।


আরো সংবাদ

৩ দিন অনশনের পর স্বামীর বাড়িতে স্থান পেলেন ১ম স্ত্রী সপ্তম স্বর্ণ পদক এনে দিলেন ফাতেমা নয়া দিগন্তের চুয়াডঙ্গা জেলার সাবেক সংবাদদাতার মায়ের ইন্তেকাল হরিণছানার গুঁতোয় কাবু চিতা! শেষ হাসি কার? (ভিডিও) মেয়েরা ডাক্তার হবে, তাই ১২ কিমি দূরের স্কুলে রোজ নিয়ে যান বাবা মাবিয়ার পর ভারোত্তোলনে স্বর্ণ জিতলেন জিয়ারুল শিবগঞ্জে ৩‘শ বেকার মহিলাকে সেলাই প্রশিক্ষণ অটো ভাড়া দিতে টাকা নয় পেঁয়াজ! দেখে নিন ভাইরাল ভিডিও মৃত্যুর আগেই বীরঙ্গনার স্বীকৃতি চান নুরজাহান বেগম মুক্তিযোদ্ধাদের নির্ভুল তালিকা চায় আ’লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপ-কমিটি শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা জাতিসঙ্ঘপ্রধানের

সকল




Paykwik Paykasa
Paykwik