২১ জুলাই ২০১৯

সংবাদ সম্মেলনে গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বাজেটে কলরেট বৃদ্ধি

-

উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ১৩ জুন প্রস্তাবিত বাজেটে টেলিযোগাযোগ খাতে নতুন করে করারোপ করা হয়েছে। যা গ্রাহকদের মনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে বলে মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন মন্তব্য করেছে। তারা উদ্বেগের সাথে বলেন, সরকারের হাইকোর্টের রায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে নতুন করে করারোপ করা থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন ছিল। দুঃখের বিষয় বর্তমান সরকার প্রযুক্তির প্রসার করার কথা বললেও এ খাতে সম্পূরক শুল্ক বসিয়ে টেলিকম নীতিমালা ২০১৮ পরিপন্থী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সরকারের প্রতি জনগণের ওপর এই অন্যায় করের বোঝা প্রত্যাহারের আহ্বান জানাই।
রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে গতকাল বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে টেলিযোগাযোগ সেবায় ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ তোলা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ। উপস্থিত ছিলেনÑ পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খান, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, সিপিবির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স, মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু বক্কর সিদ্দিক, কার্যকরী সদস্য সাব্বির আহমেদ প্রমুখ।
মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ১৩ জুন প্রস্তাবিত বাজেটে টেলিযোগাযোগ খাতে নতুন করে করারোপ করা হয়েছে। যা গ্রাহকদের মনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। অর্থমন্ত্রী হয়তো বা অবগত নন যে, গত বছর বাজেটে কলরেট বৃদ্ধির পর পুনরায় নতুন করে ১৫ আগস্ট ২০১৮, ২৫ পয়সা সর্বনি¤œ কলরেটের স্থলে ৪৫ পয়সা সর্বনি¤œ কলরেট নির্ধারণ করলে আমরা এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করি। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনে ২০১৮ সালের ১৩ ডিসেম্বর কলরেট বৃদ্ধি না করতে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়। যা ৪ এপ্রিল পূর্ণাঙ্গ রায়ে হাইকোর্ট কলরেট বৃদ্ধির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। সরকারের উচিত ছিল হাইকোর্টের রায়ের প্রতি সম্মান দেখিয়ে নতুন করে করারোপ থেকে বিরত থাকা। আমরা হাইকোর্টের পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় থাকবো। যদি গ্রাহকদের কাছ থেকে কোনো প্রকার অর্থ আদায় করা হয় তার জন্য অপারেটর ও সরকার দায়ী থাকবে।
তারা বলেন, যে প্রকারে চক্রবৃদ্ধি হারে করারোপ করা হয় তাতে করে শতকরা প্রায় ৫৬ শতাংশ অর্থ সরকারি কোষাগারে গ্রাহককে দিতে হয়। প্রস্তাবিত বাজেটে মুঠোফোন সেবার ওপর সম্পূরক শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। এতে আদায় হবে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। নতুন সম্পূরক শুল্ক আসার কারণে এখন মোবাইল ফোনের ব্যবহারের ওপর মোট ট্যাক্স গিয়ে দাঁড়াচ্ছে ২৭ দশমিক ৭৭ শতাংশে। ফলে কেউ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কোনো একটি সেবা নিতে যদি ১০০ টাকা রিচার্জ করেন তাহলে তিনি ৭৮ দশমিক ২৭ টাকার সেবা ব্যবহার করতে পারবেন। আর বাকি ২২ দশমিক ৭২ টাকাই চলে যাবে সরকারের কোষাগারে। বাংলাদেশের মানুষ এখন একেকটি সংযোগে মাসে গড়ে ১৫০ টাকা খরচ করে। নতুন ট্যাক্সের কারণে তার খরচের হিসেবে আরো ১৫ থেকে ২০ টাকা যোগ হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়ে, বর্তমানে দেশের সব সেবা সংস্থাসমূহের চাইতে রাজস্ব আদায়ে টেলিযোগাযোগ খাত অগ্রগামী। জিডিপির প্রায় সাড়ে ৬ শতাংশ টেলিকম খাত থেকে আসে। বিটিআরসি শুধু রাজস্ব ভাগাভাগির মাধ্যমে ১০ হাজার কোটি টাকা আদায় করে থাকে। তা ছাড়া লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও তরঙ্গ বিক্রি বাবদ হাজার হাজার কোটি টাকা আদায় হয়। বর্তমানে এই খাতে গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ১৫ কোটি ৬৫ লাখ। এই খাত থেকে অদৃশ্য অর্থ আদায় করা যায় বলেই এ খাতে সবচেয়ে বেশি চাপ প্রয়োগ করে রাজস্ব আদায় করা হচ্ছে। ডিজিটাল মাধ্যমে অর্থ আদায় করার ফলে গ্রাহকেরা যেহেতু প্রত্যক্ষভাবে সমস্যায় পতিত হয় না, তাই এ খাত রাজস্ব আদায়ে উত্তম বলে সরকারের কাছে বিবেচিত। সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধি করা হয় কোনো পণ্য বা সেবাকে নিরুৎসাহিত করার জন্য। অথচ এই প্রযুক্তির মাধ্যমে কল্যাণে আজকে দেশে পাঠাও, উবারসহ ইন্টারনেট ব্যবসায় হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
তারা বলেন, আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরে টেলিকম ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন ও সুরক্ষায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগকে তিন হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। যা গত অর্থবছর থেকে ৬২১ কোটি টাকা বেশি। এত বরাদ্দের মধ্যে একমাত্র রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান টেলিটকের উন্নয়নে কোনো বরাদ্দ বাজেটে রাখা হয়নি।


আরো সংবাদ




gebze evden eve nakliyat instagram takipçi hilesi