২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯
সাত মাস আগেই শেষ নির্মাণকাজ

দ্বিতীয় মেঘনা ও মেঘনা-গোমতি সেতুর উদ্বোধন ২৫ মে

-

ঢাকা-চট্টগাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের মেঘনা দ্বিতীয় সেতু ও কুমিল্লার দাউদকান্দির দ্বিতীয় মেঘনা-গোমতি সেতু নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের প্রায় সাত মাস আগেই এ সেতু দুটির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ২৫ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেতু দুটি উদ্বোধন করবেন বলে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রালয়ের জ্যেষ্ঠ গণসংযোগ কর্মকর্তা মো: আবু নাছের জানিয়েছেন।
তিনি জানান, এই প্রকল্পের আওতায় নির্মিত দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত মার্চ মাসে উদ্বোধন করেছেন। বাকি দুটি সেতু মেঘনা ও মেঘনা-গোমতি সেতু আগামী ২৫ মে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের জন্য সময় দিয়েছেন।
সেতু দুটি খুলে দেয়া হলে আসন্ন ঈদুল ফিতরে কোনো প্রকার ভোগান্তি ছাড়াই যানবাহন চলাচল করতে পারবে বলে জানান এ রুটে চলাচলকারী যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা।
সেতু বিভাগ সূত্র জানায়, চারলেন বিশিষ্ট ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে যানবাহন এসে আগে পুরনো মেঘনা-গোমতী সেতুতে উঠতো একলেনে। পুরনো সেতুটি বেশি ঢাল এবং যানবাহনের ধীরগতির কারণে প্রতিটি উৎসব পাবন ও সরকারি ছুটির দিনে যানজটে আটকা পড়ে নিত্য ভোগান্তি পোহাতে হতো যাত্রী ও চালকদের। কিন্তু এবার ঈদের আগে প্রস্তুতকৃত দ্বিতীয় মেঘনা-গোমতি সেতু খুলে দেয়া হলে মানুষের ভোগান্তি কমবে। দ্বিতীয় গোমতি সেতু নির্মাণ করায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন যাত্রীরা।
মেঘনা সেতুর প্রকল্প ব্যবস্থাপক শওকত আহমেদ মজুমদার জানান, চারলেন বিশিষ্ট দ্বিতীয় মেঘনা সেতুর দৈর্ঘ্য ৯৩০ মিটার। ১১টি পিয়ার ও দুটি এপাটমেন্টে জয়েন্টের ওপর নির্মিত দ্বিতীয় মেঘনা সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৮০০ কোটি টাকা। পুরনো মেঘনা সেতু পপূর্ণাসনের জন্য ব্যয় হবে আরো ৪০০ কোটি টাকা। মোট ব্যয় হবে ২২০০ কোটি টাকা। সেতুর ঢাকা প্রান্তে প্রায় এক কিলোমিটার এবং চট্টগ্রাম প্রান্তে এক কিলোমিটার অ্যাপ্রোজ সড়ক এবং পশ্চিম পাশে সেতুর নিচ দিয়ে ৫০৭ মিটার দৈর্ঘ্য সার্ভিস রোড নির্মাণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় কাঁচপুর, দ্বিতীয় মেঘনা এবং দ্বিতীয় মেঘনা-গোমতী সেতু নির্মাণ এবং পুরনো তিনটি সেতুর পুনর্বাসনসহ প্রকল্প বাস্তবায়নে চুক্তি হয়েছে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা। প্রায় সাত মাস আগে নতুন তিনটি সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা সাশ্রয় বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এই প্রথম কোনো বড় প্রকল্প নির্দিষ্ট সময়ের আগে সম্পন্ন হয়েছে এবং ব্যয় সাশ্রয় হয়েছে। এটি বাংলাদেশের জন্য ও বর্তমান সরকারের জন্য একটি মাইফলক ও উৎকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, এটি সম্ভব হয়েছে দুটি কারণেÑ সড়ক ও পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মনিটরিং এবং জাপানের আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও তাদের কর্মদক্ষতা।
মেঘনা সেতুর আবাসিক প্রকৌশলী শেখ জহির উদ্দিন জানান, জাপানের সবচেয়ে আধুনিক প্রযুক্তি এসপি এসপি ফাউন্ডেশন ও স্টিল কনক্রিট কম্পোজিটের ওপর এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি মেশিনারিজ ব্যবহারের কারণে নির্ধারিত সময়ে প্রায় চার-পাঁচ মাস আগে নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। বাংলাদেশে এই প্রথম এই প্রযুক্তি ব্যবহার হয়েছে। এতে করে একদিকে যেমন সরকারের টাকা সাশ্রয় হয়েছে অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রী ও চালকদের যানজটের ভোগান্তি লাঘব হবে এই সেতুটি যানচলাচলের জন্য খুলে দেয়া হলে।
মেঘনা সেতুর প্রকৌশলী আমিনুল করিম জানান, পুরনো মেঘনা সেতুতে প্রায় ১০ থেকে ১২টি এক্সপানসন জয়েন্ট রয়েছে। কিন্তু ৯৩০ মিটার দৈর্ঘ্যরে দ্বিতীয় মেঘনা সেতুতে মাত্র একটি জয়েন্ট এক্সপানসন। যে কারণে এই সেতুতে যানবাহন চলাচলে কোনো বিঘœ সৃষ্টি বা শব্দ বা ধাক্কা ক্ষেতে হবে না। বিমানবন্দরের রানওয়ের মতো খুব দ্রুত গতিতে সেতুতে যানবাহন চরাচল করবে। এ ছাড়া দ্বিতীয় মেঘনা সেতু চারলেন এবং পুরনো সেতু দুইলেন। বর্তমানে মোট সেতু ছয় লেনের। চারলেনের সড়ক দিয়ে যানবাহন এসে ছয়লেনে সেতুতে চলাচল করতে পারবে। যার কারণে সেতুতে যানজট হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই।
মেঘনা-গোমতি সেতুর আবাসিক প্রকৌশলী কবির আহমেদ জানান, ২০১৬ সালে জানুয়ারি মাসে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। ২০২০ সালে কাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু তার বেশ কয়েকমাস আগেই নতুন সেতু নির্মাণ ও পুরনো বিদ্যমান সেতুর পুনর্বাসন কাজ শেষ হবে। জাপানের আধুনিক প্রযুক্তি ও স্টিল ন্যারো বক্সগার্ডারের ওপর এই সেতু নির্মিত হয়েছে। এটি বাংলাদেশ প্রথম সেতু। এর আগে ভিয়েতনাম ও জাপানে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
মেঘনা-গোমতি সেতুর মেট্রিয়াল অ্যান্ড কোয়ালিটি ইঞ্জিনিয়ার মো: শাহ আলম জানান, এসপি এসপি শিপ পাইল ফাউন্ডেশন এসিসিটি ডেক্সস্লাব কম্পোজিট স্ট্রাকচারে কোয়ালিটি কন্ট্রোলের মাধ্যমে এই সেতু নির্মাণ করা হয়। যে কারণে নতুন এবং পুরনো দুটি সেতুই ১০০ বছরের বেশি আয়ুকাল হবে।


আরো সংবাদ